ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশের পরিবেশই শুধু নয়, এখানের মাটির গন্ধের সঙ্গেও তিনি সুপরিচিত। এক-দু’ মাস বা বছর নয়। টানা ১০টি বছর কাটিয়েছেন বাংলাদেশে (Bangladesh)। বছর সাতেক লেখাপড়া করেছেন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। আর তিন বছর মেডিক্যাল সায়েন্সের উচ্চতর শিক্ষার জন্য পড়াশোনা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সব মিলিয়ে যুগ ছুঁই-ছুঁই সময়। তিনি ডা. লোটে শেরিং (Dr. Lotay Tshering)। তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী (Bhutanese PM)। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর তাঁরই দেশ ভুটানই (Bhutan) প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল।

তার পর অনেক ইতিহাস। দিনে দিনে কেটে গেছে ৫০টা বছর। করোনা-দুনিয়াতেও থেমে থাকল না সেই স্বীকৃতির দিনের স্মরণ। রবিবার গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ার প্রবেশ-চত্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Bangladesh PM Sheikh Hasina) এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল।

১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান। ঐতিহাসিক দিনটি সামনে রেখে রবিবার ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশের আনুষ্ঠানিক চুক্তিও সম্পাদন করা হয়। চুক্তি সম্পাদনের ভার্চুয়াল বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটান থেকে ডা. লোটে শেরিং যুক্ত হন।

ভুটান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর এবং দু’ দেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে দু’ দেশের ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ডা. লোটে শেরিং বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় আমার মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে।” বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি।”

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারি থেকে চমৎকার ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে ডা. শেরিং বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে (শেখ হাসিনা) চিরকাল স্মরণ করবে। আপনি, আপনার পরিবার এবং আরও অনেকে দেশের জন্য যে অবদান ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার কথা আমরা সবাই জানি।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে লোটে শেরিং আরও বলেন, “আমার প্রতি আপনার মাতৃস্নেহ ও আমাদের দু’ দেশের সম্পর্কের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” বাংলাদেশ-ভুটান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

পিটিএ-তে স্বাক্ষর করেন দু’ দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। আর ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা পাবে। পরবর্তী কালে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পণ্যসংখ্যা বাড়ানো হবে।

ভার্চুয়াল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, ভুটানের বিদেশমন্ত্রী ড. টান্ডি দর্জি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান,  এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম-সহ দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ, বললেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন