International Day of UN peacekeepers 2021: বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত বাংলাদেশ, বললেন শেখ হাসিনা

0

ঋদি হক: ঢাকা

রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত। এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। শনিবার গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে ‘আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রপুঞ্জ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১’ (International Day of UN peacekeepers) উদযাপন অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেন তিনি।

Loading videos...

রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে এবং এ নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর তরুণ সদস্যরা ২১ শতকের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।”

শেখ হাসিনা জানান, এই মুহূর্তে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ১২২টি দেশের ৮০ হাজার ১৮৪ জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে বাংলাদেশের রয়েছেন ৬ হাজার ৭৪২ জন। এই সংখ্যা বিশ্বে নিয়োজিত মোট শান্তিরক্ষীর ৮.৪০ শতাংশ, যা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এ ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের ২৮৪ জন নারী শান্তিরক্ষী বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষীরা ৪০টি দেশে ৫৫টি ইউএন মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ৮টি মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত রয়েছেন। দক্ষিণ সুদানে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল মর্যাদার কর্মকর্তা এবং কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও দক্ষিণ সুদানে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মর্যাদার কর্মকর্তা নিযুক্ত রয়েছেন। দক্ষতার কারণে তাঁরা এই সব উচ্চ পদ পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের চাহিদা সব চেয়ে বেশি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে অবদান রেখে চলেছে। সংঘাতপ্রবণ দেশসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিরক্ষীরা যে মিশনেই গিয়েছেন, সেখানে রাষ্ট্রসংঘের পতাকাকে সমুন্নত ও উড্ডীন রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছেন। এ কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশবাহিনীর সব শান্তিরক্ষীকে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাঁদের বর্তমান পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম-সহ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, সে জন্য আমাদের সরকারের সব ধরনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, “বিশ্ববাসীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই ভূমিকা চিরকাল স্মরণ রাখবে। আপনারা বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা।”

কোভিড-১৯ অতিমারির মধ্যে বিভিন্ন দেশে এখন অসহিষ্ণুতা এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। এ কথা উল্লেখ করে এ সময়ে অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহিদ হওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেনাকুঞ্জ প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন শহিদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও বাংলাদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো।

আরও পড়ুন:Covid Vaccination In Bangladesh: ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় চিনা নাগরিকরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.