নিম্নচাপে পরিণত হল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং, বাংলাদেশে ৯ জনের মৃত্যু

0

ঢাকা: উপকূলে বৃষ্টি ঝরিয়ে শক্তি হারিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ সোমবার সন্ধ্যায় ভোলার কাছে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে। মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করে। জানা গিয়েছে, পাঁচ মহিলা এবং দুই শিশু-সহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ‌ঘূর্ণিঝড়ের দরুন। সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের তরফে দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের একটি মনিটরিং সেল তৈরি করা হয়েছে।

কতটা ছিল ঝড়ের গতিবেগ

বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বাতাসের গতিবেগ ছিল সবচেয়ে বেশি, ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দমকা বাতাসে সোমবার কুমিল্লায় তিনজন, ভোলায় দু’জন, সিরাজগঞ্জে দু’জন, নড়াইল ও বরগুনায় একজন করে মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে প্রবল ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের এবং নৌকাডুবি হয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বরিশাল ও চট্টগ্রাম এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে সিত্রাং অতিক্রম করে। ব্যাপক প্রভাব পড়ে উপকূলের এলাকাগুলিতে। প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়েছে একাধিক গাছ। বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে একাধিক গ্রামে। একইসঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দরুন বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও যশোহর বিমানবন্দরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতরের পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সিত্রাং বাংলাদেশ পেরিয়ে গতিপথ বদল করবে।

প্রভাব কমছে ঘূর্ণিঝড়ের

এ দিন সকাল থেকেই প্রভাব কমছে এই ঘূর্ণিঝড়ের। এতে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে বিপৎসংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল ছেড়ে এলেও এখনো উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই পরিস্থিতিতে মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কত হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের তরফে দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের একটি মনিটরিং সেল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে মেরামতির কাজ। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে গাছ এবং গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামতে কাজ চলছে। এতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। ঘূর্ণিঝড়ের গতি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে রাস্তা–ঘাট এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। ফলে মেরামতের কাজে সময় লাগছে।

দুর্যোগ কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গেও বড়োসড়ো বদল আবহাওয়ায়। মঙ্গলবার থেকেই হাওয়া বদলের ইঙ্গিত। সকাল থেকেই রোদ ঝলমলে আকাশ। বেলা গড়ানোর সঙ্গেই বাড়ছে সূর্যের আলোর ঝাঁজ। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বুধবারও আকাশ থাকবে মেঘমুক্ত। অর্থাৎ, দুর্যোগ কেটেছে দক্ষিণবঙ্গে। আজ থেকে ফের শুষ্ক আবহাওয়া। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন