বাংলাদেশ সোমালিয়া-ইথিওপিয়া নয় যে ভোটে রাষ্ট্রপুঞ্জের সহায়তা লাগবে: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

0
তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।

ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী। বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কারও সহযোগিতা দরকার আছে নেই। সরকার চাইলে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রপুঞ্জ সহায়তা দিতে প্রস্তুত, রাষ্ট্রপুঞ্জের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোর এমন বক্তব্যের জবাবে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী (Bangladesh I&B minister) ড. হাছান মাহমুদ (Dr. Hasan Mahmud) বলেছেন।   

তিনি বলেন,  নির্বাচনের অনেক সময় বাকি। বাংলাদেশ সোমালিয়া কিংবা ইথিওপিয়া নয় যে, এখানে নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের সহায়তা লাগবে।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) ‘বিএসআরএফ বার্তা’-র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক-সহ ফোরামের অন্যান্য নেতা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু নির্বাচনে কেউ যদি পর্যবেক্ষণে আসেন বা পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তা লাগবে, বিষয়টি অবশ্যই তা নয়।

আইপি টিভি প্রসঙ্গ  

বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিকম্যুনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন, BTRC) আইপি টিভি (ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিভিশন, iptv) বন্ধ করছে। কিন্তু ইউটিউবভিত্তিক নিউজ চ্যানেলের বিষয়ে সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের। কিন্তু তারা ডোমেইন বরাদ্দ পায় বিটিআরসির কাছ থেকে। ডোমেইন বরাদ্দ তারা কী ভাবে পেল, সেটি হচ্ছে প্রশ্ন।

“আমি মনে করি কাউকে ডোমেইন বরাদ্দ করার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে”, বলেন ড. মাহমুদ। তিনি বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা তদন্ত করছি, এ বিষয়ে আদালতেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং এ সবের আলোকে আমরা অনলাইন ও আইপিটিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে।”

সাংবাদিক-নেতাদের ব্যাংক-হিসাব প্রসঙ্গ

সাংবাদিক-নেতাদের ব্যাংক-হিসাব তলব করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দেখুন সরকার যে কারও ব্যাংক-হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক-হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংক-হিসাব তলব হয়, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদেরও ব্যাংক-হিসাব ইতিপূর্বে তলব হয়েছে। ব্যাংক-হিসাব চাওয়াটা দোষের নয়।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিক-নেতাদের ব্যাংক-হিসাব চাওয়ার খবর কেন পত্রিকায় এল? এ তো পত্রিকায় আসার কথা ছিল না। এটি কেন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হল -এটিই হচ্ছে প্রশ্ন। আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, যেটি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তোলা হচ্ছে, সংগঠনের নাম দিয়ে কেন ব্যাংক-হিসাব চাওয়া হল। আমি মনে করি, কেউ স্বচ্ছ থাকলে কারও উদ্বিগ্ন হাওয়ার কোনো কারণ নেই।”

ড. মাহমুদ আরও বলেন, ব্যাংক-হিসাব চাওয়ার পর এটি যখন প্রকাশিত হবে, তখন এর স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে। তখন তো তারা যে অত্যন্ত স্বচ্ছ সেটি মানুষের সামনে আসবে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। তবে এটি কেন সংগঠনের নাম দিয়ে চাওয়া হল এবং কেন এটি কাগজে এল সেই প্রশ্ন অনেকেই রেখেছে।”

আরও পড়তে পারেন

৬ মাসে তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশি পেয়েছেন ভারতের মেডিক্যাল ভিসা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের বন্ধন, বললেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী

টিকার আওতায় আসছে ১২ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরাও, জানিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা

বিএনপির উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, দেশে গণ্ডগোল পাকিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কিছু করা: ড. হাছান মাহমুদ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন