ভয়াবহ বন্যার কবলে বাংলাদেশ, এখনই রেহাই পাওয়ার কোনো আশা নেই

0

ওয়েবডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের একটা বড়ো অংশ। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যাকবলিত বলে জানা গিয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের উত্তরাংশ। তবে প্রশাসনের আশঙ্কা এই বন্যা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কারণ আগামী দিনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা অঞ্চলে।

উত্তরের পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বন্যার জল এসে গিয়েছে। চিন এবং ভারতের অরুণাচল ও অসমে প্রবল বৃষ্টির ফলে ফুলেফেঁপে ওঠা ব্রহ্মপুত্রের জল এখন যমুনা হয়ে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত চলে এসেছে। রবিবার থেকে পদ্মা-তীরবর্তী জেলা শরিয়তপুর, মাদারিপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়িতে বন্যা পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। জল বাড়তে থাকলে শীঘ্রই ময়মনসিংহ জেলা বন্যার কবলে পড়তে পারে। তবে এরই মধ্যে স্বস্তির খবর এই যে চট্টগ্রাম এবং সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই এবং আগস্টে সাধারণত দু’তিন বার বন্যার কবলে পড়ে বাংলাদেশ। এর বেশিটাই হয় ব্রহ্মপুত্রের জল বেড়ে যাওয়ায়। প্রতি বারই বড়োজোর দিন দশেক বন্যার জল থাকে, তার পর নেমে যায়। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। দু’সপ্তাহ হল বন্যার কবলে পড়েছে বাংলাদেশ, অথচ জল নামার কোনো নামগন্ধ নেই, উলটে বেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

আরও পড়ুন আস্থা ভোটের নাটকের মধ্যে নতুন চমক দিলেন কর্নাটকের স্পিকার

বন্যায় এখনও পর্যন্ত ছ’ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে, বন্যায় আক্রান্ত সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর-সহ কয়েকটি জেলায় খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রকোপ বাড়ছে জলবাহিত রোগেরও। সংস্থাটির হিসাবে, এ পর্যন্ত ২১ জেলার ৪০ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে বন্যায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ১ লাখ ৯ হাজার হেক্টর ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বন্যদুর্গত মানুষদের জন্য উপযুক্ত ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে।

এ দিকে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এ বিষয়ে নদী বিশেষজ্ঞ তথা অধ্যাপক আইনুন নিশাত। বাংলাদেশের বহুলপ্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা ও যমুনার জল একটু দেরিতে নামবে বলে মনে হচ্ছে। এই বন্যার জল নামতে আগস্টের পুরো সময় লেগে যেতে পারে।” বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভেঙে তথাকথিত সুরক্ষিত জায়গাতেও বন্যার জল ঢুকে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এটা কেন হচ্ছে, তা দেখার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেন নিশাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here