“বিজেপির সাইকেলযাত্রা, মমতা বাজাবেন ‘মৃত্যুঘণ্টা”, বাংলাদেশের মিডিয়ায় এ কেমন শিরোনাম!

বাংলাদেশর সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাঁটাতারের এ পারে চাপা উত্তেজনা খুব একটা কম ছিল না। একই ভাবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ নিয়েও ও পারে আগ্রহ থাকবে না, তা কি হয়।

0
BJP TMC

ওয়েবডেস্ক: “বিজেপির সাইকেলযাত্রা, মমতা বাজাবেন ‘মৃত্যুঘণ্টা”-গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বঙ্গ-বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল এবং আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে প্রকাশিত খবরের শিরোনামে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট।

কারও কারও মতে, এতটা উন্মুক্ত-রাজনৈতিক শব্দচয়নে মনে হতেই পারে, এটা নিশ্চয় শাসক দলের মুখপত্রের সংবাদ শিরোনাম। কিন্তু আদতে তা নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির বাংলা সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো‘য় প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম।

ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী দুই দেশের সাংস্কৃতিক বা অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক অথবা আদানপ্রদান নতুন কোনো বিষয় নয়। সেই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে দুই দেশই সর্বদা তৎপর। একই ভাবে রাজনৈতিক মতের বিনিময়ও হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের প্রায়শই এক মঞ্চে দেখতে অভ্যস্ত নাগরিকেরা। সম্প্রতি বাংলাদেশর সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাঁটাতারের এ পারে চাপা উত্তেজনা খুব একটা কম ছিল না। একই ভাবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ নিয়েও ও পারে আগ্রহ থাকবে না, তা কী হয়। ওই প্রতিবেদনে সেই আগ্রহের নির্দিষ্ট একটা মেরু-প্রতিফলনই ফুটে উঠেছে বলে ঠাওর হতে পারে পাঠকের।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা

গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে যায় বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন। সেই প্রসঙ্গেই প্রতিবেদনটির প্রথমাংশ। যেখানে রথযাত্রা কর্মসূচি বাতিল হওয়ার পর বিজেপি নেতৃত্ব সাইকেলযাত্রা করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠাস বুনোটের ওই প্রতিবেদনে যথার্থ ভাবেই উঠে এসেছে, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বঙ্গ-বিজেপির তিন দিনের কর্মসূচির বিবরণ। তারই সঙ্গে সাইকেলযাত্রা অন্য মাত্রা যোগ করেছে সংবাদের ওই অংশটিতে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিকেই বর্ণনা করা হয়েছে সুচারু ভাবে। বিশদে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে-

সুপ্রিম কোর্টের রথ-রায়, ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে

বিজেপির ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজাবেন মমতা উপ-শিরোনামে প্রতিবেদনের দ্বিতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে, শাসক দলের ব্রিগেড কর্মসূচির অন্তর্নিহিত উদ্দেশের সমূহ বিববরণ। তুলে ধরা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিতে আসা দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বের একটি সম্ভাব্য তালিকাও। বিশদে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে-

মোদী-বিরোধী ব্রিগেড: কোন কোন তারকা উড়ে আসছেন গড়ের মাঠে

ওই প্রতিবেদন লিখেছে, তৃণমূল বলেছে, এই সমাবেশ থেকে ডাক দেওয়া হবে মোদী সরকারকে হটানোর। সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে বিজেপির প্রতীকী ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজাবেন। পাশাপাশি সেই প্রতীকী মৃত্যুঘণ্টা আওয়াজ শুনতে আসা জেলার নেতা–কর্মীদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কলকাতায় কোথায় কোথায় ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, সে সবও বাদ পড়েনি প্রতিবেদন থেকে। বলা হয়েছে, তৃণমূলের আশা ওই দিন ৩০-৩৫ লক্ষ মানুষ যোগ দেবেন। এ দিকে তৃণমূলের দাবি, তাদের এই ব্রিগেড সমাবেশ নতুন ইতিহাস রচনা করবে। বিশদে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে-

অতীতের ৪টি ঐতিহাসিক ব্রিগেড সমাবেশ

সব মিলিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহাওয়া নিরীক্ষণে বেশ ‘লাইভ’ হয়ে উঠেছে ওই প্রতিবেদন। যা কি না সে দেশের জনমনের একটা অংশের রাজনৈতিক প্রতিফলন হিসাবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here