খবর অনলাইন ডেস্ক:সাইকেলে ট্রান্স হিমালয় অভিযান শেষে মাস দুয়েক হল ঘরে ফিরেছেন চন্দন। হৃদয়পুরের চন্দন বিশ্বাস। এখন দু’চাকায় জড়িয়ে যাওয়া যত গল্পের জট ছাড়ানোর পালা। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযানের শুরুটা হয়েছিল ওপার বাংলা থেকে। ঢাকায় থাকাকালীন হঠাৎই নড়েচড়ে বসা অ্যাডভেঞ্চার পাগল এই ছেলের। সে দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের হাল হকিকত একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। অমনি শুরু হল যোগাযোগের পালা। হল বেশ কিছু সাক্ষাৎকারও। সে এক অভিজ্ঞতা বটে! ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে আসার মতো ঘটনাও হয়েছে। সাইকেলকে সফরসঙ্গী করে চার-চার খানা দেশ দাপিয়ে বেড়াতে চায় যে ছেলে, তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে চাওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। যাই হোক, চন্দনের নেওয়া সাক্ষাৎকার শেষমেশ এসে পৌঁছল খবর অনলাইনের কাছে। দুই বাংলার অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পাঠকের জন্য রাখা থাকল সেই সাক্ষাৎকার।
পরিচিতি পর্ব: এক বাক্যে এসব মানুষের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা ধৃষ্টতারই নামান্তর। তবু এপার বাংলার পাঠকদের সুবিধার্থে দু-একটি কথার উল্লেখ রইল প্রত্যেকের নামের পাশে।
মুসা ইব্রাহিম: বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী যিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রেখেছেন। পৃথিবীর সাত মহাদেশের সাত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছোঁয়ার লক্ষ্যে চালাচ্ছেন তাঁর অভিযান। বাংলাদেশের এভারেস্ট অ্যাকাডেমি-র প্রতিষ্ঠাতা।
এম এ মুহিত: বাংলাদেশের প্রথম নাগরিক যিনি এভারেস্ট চুড়ো ছুঁয়েছেন দু’বার। বিএমটিসি (বেঙ্গল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব)-এর সভাপতি।
সিফত ফাহমিদা ইতি: বাংলাদেশের এক প্রতিভাবান সাইক্লিস্ট, ম্যারাথনার এবং পর্বতারোহী। যুক্ত আছেন এভারেস্ট অ্যাকাডেমির সঙ্গে।
সাদিয়া চৌধুরী: পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জানা অজানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানটাও পর্বতারোহণের মতোই তাঁর নেশা। বর্তমানে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার সংগঠন টিম এক্সট্রিম-এর সাধারণ সচিব।

মুসা ইব্রাহিম

প্রশ্ন: অ্যাডভেঞ্চার দুনিয়ায় আসাটা কীভাবে?
মুসা ইব্রাহিম: শুরুটা হয়েছিল ২০০০ সালে। তখন জানতাম আমাদের দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্‌রাডং। ওটা দিয়েই শুরু করি। সত্যি কথা বলতে কি, পর্বতারোহণ বলতে যা বোঝায়, বাংলাদেশের পাহাড়ে উঠতে তার প্রয়োজন হয়নি। হাঁটতে হাঁটতেই পৌঁছে গিয়েছিলাম পাহাড় চুড়োয়। এরপর দেশের বাইরে প্রথম নেপাল যাই অ্যাডভেঞ্চারের নেশায়। ২০০২ সালে অন্নপূর্ণায় গিয়ে একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত হই, ভয়ও লাগে। ফিশ টেইল দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ২০০৪ সালে এইচএমআই তে মাউন্টেনিয়ারিং-এর বেসিক কোর্স করতে দার্জিলিং যাই। তখন থেকেই দেশের মানুষ জানতে চাইতেন, এভারেস্ট কবে যাচ্ছি? একটা বেসিক কোর্স করে তো পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুড়া ছোঁয়ার সাহস দেখানো যায় না, তাই সে প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে ছিল না। এরপর একই বছর সুযোগ আসে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানের। পরের বছর হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকেই প্রশিক্ষণের পরবর্তী ধাপ – অ্যাডভান্স কোর্স।

মুহিত: প্রথমেই বলি আমি নিজে একজন বার্ড ওয়াচার। সমতলে এমন অনেক পাখি দেখাই যায় না, যেগুলো পাহাড়ে দেখা যায়। পাখি দেখার জন্যই আমার প্রথম পাহাড়ে ওঠা। সেখান থেকেই উচ্চতার প্রতি একটা আকর্ষণ জন্মায়। আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরার সীমান্ত অঞ্চলে যে তিন-সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতার পাহাড়গুলো আছে, শুরুটা সেগুলো দিয়েই করি। আমাদের দেশের পাহাড়ে উঠতে উঠতেই মাথায় আসে, তাহলে এবার বিশ্বের অন্য উঁচু পর্বতগুলোর কথা ভাবতেই পারি। ২০০৩ সালটা ছিল প্রথম সফল এভারেস্ট জয়ের ৫০ বছর পূর্তি, সারা পৃথিবী জুড়ে হুলুস্থূল কাণ্ড। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মনেও উঠে আসে এভারেস্টের নাম। পরের বছরই সেই লক্ষ্যে দল গঠন করে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প যাওয়া হল। ১৮০০০ ফুটে উঠে কালাপাথরের মাইনাস টেম্পারেচারে যেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কম, সেরকম একটা পরিবেশেও সুস্থ আছি দেখে মনের জোর বাড়ল। তার সঙ্গে স্বপ্ন দেখার সাহসটাও। ২০০৪-২০০৫ এ পরপর বেসিক আর অ্যাডভান্স কোর্স করি এইচএমআই থেকে।

সিফত ফাহমিদা ইতি: পর্বতারোহণে আসাটা আমার একেবারেই হঠাৎ করে। সাইক্লিংটা বরং অনেক আগে শুরু করেছিলাম। আর একটা মজার ব্যাপার আছে। আগে ধারণা ছিল একটা সাইকেল থাকলেই বেরিয়ে পড়া যায়। এখন যদিও সেরকমটা মনে হয় না। তবে পর্বতারোহণের কথা ভাবলেই খরচের কথা মনে আসতেই পিছিয়ে যেতাম। ভাবনাটা এগোতই না। সুযোগ এসে পড়ে একেবারে হঠাৎই। মুসা ইব্রাহিম একটা ইভেন্টের আয়োজন করেছিলেন- ট্রায়াথন, যেটায় আমি ভালো পারফর্ম করি, তারপর উনি নিজেই আমাকে ডেকে নেন। প্রথমবার অভিযানে যাওয়া কোনও রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প গিয়ে প্রথম শিখলাম বরফের ওপর কি ভাবে চলতে হয়, তারপর দার্জিলিং-এ গিয়ে ট্রেনিং নেওয়া, পরবর্তী কালে সেই ট্রেনিং খুব কাজে লেগেছে।
সাদিয়া চৌধুরী: আমার গ্রামের বাড়ি চিটাগাঙে, বুঝতেই পারছেন পাহাড়ি অঞ্চলের মেয়ে। তাই পাহাড়ে চড়ব বলে আলাদা করে কাউকে উৎসাহ দিতে হয়নি। বাড়িতে খেলাধুলোর পরিবেশ ছিলই। নিয়মিত স্কাউটিং করতাম। তাছাড়া বাবা সরকারি চাকুরে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই নানা জায়গায় ঘুরতে হত। বাবা আমাকে নিয়ে যেতেন সে সব জায়গায়। সেখান থেকেই পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোর নেশাটা তৈরি হয়েছিল। তারপর কাজের সুত্রে ঢাকায় আসা। আমি দীর্ঘদিন একাই ঘুরে বেড়িয়েছি, পাহাড়ে চড়েছি। বাবা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না গাইড করার মতো। ১৯৯৯ সালে কেওক্‌রাডং ক্লাইম্ব করি। তারপর ২০১১ সালে নিশাত মজুমদার, তাঁর ক্লাবে আমায় নিয়ে যান। ওনার উদ্যোগেই দার্জিলিং থেকে ট্রেনিং এ যাই। সে বছর মোহিতও গিয়েছিলেন এইচএমআই।

এম এ মুহিত

প্রশ্ন: এখনো পর্যন্ত কোন অভিযানের অংশ ছিলেন? পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
মুসা: এভারেস্ট(২০১০) এর আগেও বেশ কিছু অভিযান করেছি। ২০০৫ সালে মীরা পর্বত অভিজানে। এইচএমআই-এর পক্ষ থেকে ১৫জন মিলে ফ্রে পর্বত ক্লাইম্ব করে রেকর্ড করি আমরা। ২০০৭-এ চুলু ওয়েস্ট অভিযান সফল হয়নি। তারপরের বছর লাক্সিসারির টুইন পিকে ছোট শৃঙ্গটি ছুঁলেও বড় শৃঙ্গ আরোহণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ফিরে আসি। তারপর ২০০৯ এ অন্নপূর্ণা ৪ অভিযান করি। ২০১০ থেকে সেভেন সামিটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ পর্বতারোহী যেটা করে থাকেন, বাকি শৃঙ্গ ছুঁয়ে আসার পর এভারেস্ট অভিযানে যান। কিন্তু আমার দেশবাসীকে পর্বতারোহণের গুরুত্ব বোঝাতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে আমাকে। এবং তাই শুরুটাই করতে হয়েছে এভারেস্ট দিয়ে। তারপর কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা), এলব্রুস (ইউরোপ), দেনালি (উঃ আমেরিকা), কোজিয়াস্কো (অস্ট্রেলিয়া) ক্লাইম্ব করেছি। সম্প্রতি জুনে কারস্টেনসৎজ পিরামিড অভিযান করি। দেনালি আর কারস্টেনসৎজ অভিযানে আমার সঙ্গে ছিলেন আরেক বাঙালি পর্বতারোহীও, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। এখন সামনে লক্ষ্য দুটো- মাউন্ট অ্যাকাঙ্কাগুয়া (দঃ আমেরিকা) আর ভিনসন ম্যাসিফ (অ্যান্টার্কটিকা)।
মুহিত: ৮০০০ মিটারের যে ১৪টি শৃঙ্গ আছে তার মধ্যে ৩টে আমি ৪ বার আরোহণ করেছি। এভারেস্ট দু’বার, চো ইউ আর মানাসলু ক্লাইম্ব করেছি। আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান সফল হয়নি। নেপালের বেশ কিছু ৬০০০ মিটারের ওপরের পর্বত সফল ভাবে অভিযান সম্পূর্ণ করেছি। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পিক (৬২৫৭মি)। এটা একটা ভার্জিন পিক ছিল। আগে ১৩ বার অভিযান হলেও আমরাই প্রথম সফল হই। আমার অ্যাডভেঞ্চার জীবনের সবচেয়ে টেকনিক্যালি ডিফিকাল্ট ক্লাইম্ব ছিল। আর আমাদের সফল অভিযানকে মাথায় রেখে নেপাল সরকার ওই শৃঙ্গের নাম দেয় নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পিক। হিমালয়ের একটা শৃঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জুড়ে থাকল, এটা কিন্তু আমার কাছে দু’বার এভারেস্ট আরোহণের চেয়েও বেশি সম্মানের। আগামী দিনে কলকাতার পর্বতারোহীদের সঙ্গে গঙ্গোত্রী-১ অভিযানের ইচ্ছে রয়েছে।
সিফত ফাহমিদা ইতি: এখনো পর্যন্ত নেপালের চুলু ইস্ট, আর রাশিয়ার এলব্রুস অভিযান করেছি। আগামী দিনে অনেক শৃঙ্গ ছোঁয়ার ইচ্ছে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে একটাই শৃঙ্গ দেখা যায়- কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছোটবেলায় পাহাড় বলতে ওটাই বুঝতাম। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা আমার স্বপ্নের চূড়া।
সাদিয়া: নানা সমস্যার জন্য বিশেষ করে স্পনসরশিপের অভাবে খুব বেশি শৃঙ্গ আরোহণ করা হয়নি এখনও। ২০১২ সালে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ করার পর নেপালের একটি শৃঙ্গ আরোহণ করি। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা সার্কিট সম্পূর্ণ করি।

সিফত ফাহমিদা ইতি

প্রশ্ন: পর্বতারোহণের জন্য কোন পদ্ধতি বেশি পছন্দের, টেকনিক্যাল পিক না কি বেশি উচ্চতার? অ্যালপাইন ফ্রি স্টাইলে আরোহণের অভিজ্ঞতা কিংবা ইচ্ছে রয়েছে?
মুহিত: আমার নিজের ব্যক্তিগত ভাবে বেশি পছন্দ বেশি উচ্চতার শৃঙ্গ আরোহণ করা। রেইনল্ড মেসনার বলেছিলেন পর্বতারোহণের সাফল্যের মাপকাঠি উচ্চতা। আমি ৮০০০ মিটারের ওপরে পাঁচটা আলাদা আলাদা পর্বতে আটবার অ্যাটেম্পট নিয়েছি, সফল হয়েছি ৪ বার। আমার মনে হয় উচ্চতা বেশি হলে সেই শৃঙ্গ আরোহণ করা এমনিতেই টেকনিক্যালি কঠিন হয়ে পড়ে। আর ইউরোপীয়দের মতো অ্যালপাইন স্টাইলে ফ্রি ক্লাইম্বিং করার মতো দক্ষতা এখনো আমাদের আসেনি। আগামী দিনে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চই সেই দক্ষতা অর্জন করবে আশা করছি।
মুসা: অ্যালপাইন স্টাইলে প্রথম মাউন্ট দেনালি (উঃ আমেরিকা) ক্লাইম্ব করি। ওই একবারই ফ্রি ক্লাইম্ব করেছিলাম। বাকিগুলোতে আমাদের সঙ্গে গাইড বা শেরপা ছিলেন। দেনালি আরোহণের সময় যথেষ্ট প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েছিলাম। কিন্তু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, গাইড করার মতো কেউ না থাকলে সব পরিস্থিতিতে নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সব আয়োজন করতে হয়। আর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনও শেরপা ছাড়া নিজে সব কিছু সামলে যদি অভিযান সফল হয়, তার আনন্দটাই আলাদা। তখন নিজের প্রতি শ্রদ্ধাটাও বেড়ে যায়। আমার মনে হয়, এখন তরুণ প্রজন্ম যারা পর্বতারোহণের দিকে আসছে, এভারেস্ট বা অন্য বড়ো চুড়ো আরোহণের আগে তাদের উচিত অ্যালপাইন স্টাইলে কোনও একটা শৃঙ্গ আরোহণ করা, ছোট কোনও শৃঙ্গ হলেও। আমার অ্যাকাডেমির ছেলে মেয়েদের ক্ষেত্রেও আমি সেটাই চাই। এতে নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়ে। আর টেকনিক্যাল ক্লাইম্বকে আমি সবসময় হাইটের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। টেকনিক্যাল ক্লাইম্বের ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা আর ভেতরের জেদটাকে চেনা যায়, যেটা আমাকে চুড়ার কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।
ফাহমিদা ইতি: টেকনিক্যাল পিকে আমার একটু শারীরিক সমস্যা আছে, তাই বেশি উচ্চতার পর্বত আরোহণ করাই প্রেফার করি। ফ্রি ক্লাইম্ব কোনোদিন করিনি, কিন্তু সেই ইচ্ছেটা আছে ভীষণ ভাবেই।

সাদিয়া চৌধুরী

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস-এর সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আপনাদের কি ভাবনা?
মুহিত: অ্যাডভেঞ্চার তো একটা নেশা, আর যেকোনো নেশার দিকেই ঝোঁকার প্রবণতা তরুণ প্রজন্মেরই বেশি। সে মাদক সেবনের নেশাও হতে পারে, আবার পর্বতারোহণের নেশাও হতে পারে। আমরা চাই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম খারাপ নেশার দিকে না ঝুঁকে ইতিবাচক কিছুকে বেছে নিক, যা অপরাধমনস্কতাকে দূরে রাখে। আমাদের তো ঘরের কাছেই হিমালয়। কিন্তু আমরা আগে পর্বতারোহণের কথা ভেবেই দেখিনি। সবাইকে যে পর্বতারোহী যে হতেই হবে, তাও না, তরুণ প্রজন্ম একটু প্রকৃতির কাছাকাছি থাক। জীবনের সুন্দর দিকগুলোকে বেছে নিক।
সাদিয়া: পর্বতারোহণ কিন্তু বাংলাদেশে একদম নতুন একটা স্পোর্টস। একবছর আগে সরকার একে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার মনে হয় পর্বতারোহীদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার জায়গাটা বাড়াতে হবে, বোঝাপড়ার বাড়াতে হবে। ক্লাবগুলোর মধ্যে রেষারেষি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে যেহেতু বড় কোনও পাহাড় নেই, টিলা আছে, তাই বাইরের পাহাড়গুলো আরোহণ করতে সরকারি-বেসরকারি দু’ধরণের পৃষ্ঠপোষকতারই প্রয়োজন রয়েছে। নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যতের পর্বতারোহী তৈরি করার স্বপ্ন দেখি আমি। সেই লক্ষ্যে নিজের একটা দলও করেছি- টিম এক্সট্রিম।
মুসা: বাংলাদেশের মানুষ হয়তো এখনও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সাথে ততটা পরিচিত হননি। পর্বতারোহণ মানেই যে এভারেস্ট ছোঁয়া নয়, সেটা এখনও আমরা বুঝতে পারিনি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছি, তাই এখনকার তরুণ প্রজন্মকে কিছু সুযোগ করে দিতে চাই, যেগুলো নিজে পাইনি। উৎসাহী ছেলে মেয়েদের জন্য আমার অ্যাকাডেমিতে ১০-১৫ দিনের প্রি বেসিক ট্রেনিং দেওয়া হয়। কেউ যদি কোনও এক্সপেডিশনে যেতে চায়, তাকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের সামর্থের মধ্যে থাকলে স্পনসর করার চেষ্টাও করি। কারণ, দিনের শেষে স্পনসরশিপের সমস্যার জন্য বহু প্রতিভাবান ছেলে মেয়ের স্বপ্ন সত্যি হয় না, স্বপ্নই থেকে যায়। ব্যক্তিগত স্তরের ঊর্ধ্বে উঠে এখন আমরা চেষ্টা করছি পর্বতারোহণকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে জনপ্রিয় করে তোলার।

প্রচ্ছদ ছবি সৌজন্য: চন্দন বিশ্বাস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here