ঢাকায় নামছে মেট্রোরেল, টেস্টট্র্যাকে ট্রায়াল রান হল

0
ঢাকায় মেট্রোরেল

ঋদি হক: ঢাকা

ঢাকায় হয়ে গেল মেট্রোরেলের ট্রায়াল রান। স্বপ্ন নয়, বাস্তবতার শক্ত ভিতের ওপর মজবুত অবস্থানে বাংলাদেশ। রফতানি বাণিজ্যের পাশাপাশি কানেক্টিভিটিতে বহু গুণ এগিয়ে বাংলাদেশ। যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ।

Loading videos...

বিশ্বে অন্যতম ব্যয়বহুল সড়কপথও তৈরি হচ্ছে এই বাংলায়। পদ্মার দক্ষিণ তীর থেকে যশোর, খুলনা, মোংলা বন্দরের পথে যেন মহাসড়কের রাজকীয় উপাখ্যান।

সময়ের পিঠ বেয়ে নিত্যনতুন বিষয়গুলো এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথ – সর্বত্রই আধুনিকতার স্পর্শ।

এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন মেট্রোরেল। জাপানের উন্নয়নমুখী কারিগরিতে ঢাকার রাজপথে যুক্ত হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল। এরই মধ্যে ট্রায়াল রান সম্পন্ন হল। বাকি রইল যাত্রী পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা।

দেড় কিলোমিটার টেস্টট্র্যাকে

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভায়াডাক্ট বা উড়ালপথে চলার আগে টেস্ট ট্র্যাক স্পর্শ করল বাংলাদেশের প্রথম মেট্রো ট্রেনসেট। ডিপোর অভ্যন্তরে দেড় কিলোমিটার টেস্টট্র্যাকে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হল। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল, Dhaka Mass Transport Company Limited, DMTCL) বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমটিসিএল সূত্রের খবর, ডিপোর মধ্যে টেস্ট ট্র্যাক ও ভায়াডাক্টের উপরে রেলপথ একই। মূল রুটে চলার আগে এটা অন্যতম পরীক্ষা। এই ট্র্যাকে সফল ভাবে চলার পর বিভিন্ন সিগন্যালে চলবে ৭ দিন। এর পরেই সব ধাপ পেরিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে মেট্রোরেল। 

প্রজেক্ট ম্যানেজার-সিপি-৮ এবিএম আরিফুর রহমান বলেন, এটি খুবই খুশির বার্তা যে, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রো ট্রেনসেট টেস্টট্র্যাক স্পর্শ করল। ১.৫ কিলোমিটার টেস্টট্র্যাকে চলাচল করল। 

১৯ ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা

মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়াশিং-সহ প্রতিটি কোচের ১৯ ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে। এর পরেই কোচগুলো তোলা হবে লাইনে। এ কাজে এক থেকে দুই মাস সময়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এ জন্য ইতালি থেকে এক ধরনের যন্ত্র আনার কথা জানায় ডিএমটিসিএল।

এ বার এক সঙ্গে দুই সেট অর্থাৎ ১২টি কোচ জাপান থেকে দেশে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ১১ থেকে ১৪ জুন জাপান থেকে দেশের পথে রওনা দেবে কোচগুলো। ডিএমটিসিএল আশা করছে ১৩-১৪ আগস্ট নাগাদ ১২টি কোচ এক সঙ্গে দেশে এসে পৌঁছোবে।

২৪ সেট ট্রেন

সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দু’টি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুই পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। 

জাপানি মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। থাকবে স্মার্টকার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা। মেট্রোরেলে ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম। কারণ অধিকাংশ মানুষ বসার চেয়ে দাঁড়িয়ে ভ্রমণে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এমন মত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.