ঋদি হক: ঢাকা

সনাতন ধর্মমতে এ বারে মা আসছেন দোলায় চড়ে। এতে দুর্যোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফিরবেন হাতিতে। তাতে সুখশান্তি ফিরবে। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার।

Loading videos...

করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করে দুর্গোৎসবের আয়োজনটা ফিকে হয়ে গিয়েছে। করোনার  ছোবলে রাত ৯টার পরিবর্তে সন্ধ্যারতির পরই বন্ধ হয়ে যাবে মন্দিরের দরজা। আর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রবেশে এ বারেই বাঁশ দিয়ে ৬টি লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বারে ৫০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। বুধবার মন্দির চত্বরে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটিই জানালেন মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাবেক সচিব শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির চত্বরে সাংবাদিক বৈঠক।

শৈলেন্দ্রবাবু জানালেন, অঞ্জলির অনুষ্ঠান একাধিক টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। বাড়িতে বসে অঞ্জলি দিতেই সবাইকে উৎসাহিত করছে পূজা কমিটি। দিন কয়েক আগেও রাত ৯টা পর্যন্ত মন্দির খোলা রাখার কথা বলা হয়েছিল, এ কথা জানিয়ে শৈলেন্দ্রবাবু বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

কিন্তু পঞ্চমীতে ঘট বসার দিনেই লোকে লোকারণ্য ঢাকার বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির। সবার মুখে মাস্ক। দীর্ঘ লাইন। মূল মণ্ডপের সামনে বেশ কিছু সারিতে দুস্থ মানুষের দীর্ঘ লাইন। এখানে কোনো ধর্মের বিচার করা হয় না। মানবধর্মকে সামনে রেখেই দুস্থদের বস্ত্র বিতরণ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস।

দুপুরে মন্দিরের সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই থমকে যেতে হল। এত মানুষ! মন্দিরের মঞ্চের সামনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অভিনেত্রী শাহনূর। তিনি পশ্চিমবাংলার বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর হাত থেকে বস্ত্র নিচ্ছে শ’ শ’ মানুষ। পাশে চিত্তরঞ্জনবাবু।

বিশিষ্ট অভিনেত্রী শাহনূর বস্ত্র বিতরণ করলেন বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে।

শাহনূর বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশের মানুষ এই মন্ত্রেই দীক্ষিত। আমরা এতে বিশ্বাস করি। তাই বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয় সর্বজনীন উৎসব হিসেবে। এই উৎসবে মুসলিম ধর্মের মানুষরাই বেশি যোগদান করে থাকেন। আমরা প্রতি বছর পুজোয় সম্মিলিত ভাবে যোগ দিই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যথেষ্ট উদার। তিনি সব সময় বলে থাকেন, ধর্মের সঙ্গে উৎসবের কোনো মিল নেই। ধর্ম যার যার, উৎসবটা সবার। এ বারের পূজায়ও অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মাস্ক বিতরণ করতে এসে বিশিষ্ট সমাজসেবী রাহা কাজী বলেন, “হিন্দু-মুসলিমের মিলন মেলা হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। কিন্তু এ বারে তাদের কষ্ট, করোনায় উৎসবটা বাদ দিতে হয়েছে।” তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে পুজোয় যোগ দিতে অনুরোধ জানান। তিনি এ-ও জানালেন, করোনা সত্ত্বেও অনেক ভক্ত মন্দিরে আসবেন। তাঁরা যাতে মাস্ক পরে মাকে দর্শন করতে পারেন, তার জন্য তাঁরা মাস্ক বিতরণ করছেন।

বিশিষ্ট সমাজসেবী রাহা কাজী মাস্ক বিতরণ করলেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে।

করোনার কারণে সাত্ত্বিক পূজার মধ্যেই দুর্গাপূজা সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পুজা উদযাপন কমিটি। সন্ধ্যারতির পর মন্দির বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে সারা দেশে। সবটাই করা হচ্ছে করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য।

সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, জাতীয় মন্দির থেকে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পুজার দিন বেলা পৌনে ১১টায় মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে একাধিক টেলিভিশন। সরাসরি মন্দিরে না এসে বাড়ি বসেই যাতে করে অঞ্জলি দেওয়া সম্ভব হয়, সে জন্য ফেসবুক লাইভের ব্যবস্থা থাকবে।

সনাতন বিশ্বাসে কৈলাসশিখর ছেড়ে পিতৃগৃহে আসা মা দুর্গার অকালবোধন। ভোরের শিউলি ছড়াচ্ছে মোহনীয় গন্ধ। এমন শারদীয় আবহেই শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বারে বাংলাদেশে ৩০ হাজার ২১৩টি পূজা উদযাপন হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরীতে হচ্ছে ২৫৪টি। গত বছরের চেয়ে ৩টি কমেছে। আর সারা দেশে কমেছে প্রায় এক হাজারের মতো। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুজা উদযাপন হচ্ছে চট্টগ্রাম ডিভিশনে ৪ হাজার ১৪২টি।

পঞ্চমী তিথিতে শারদীয় বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী ঢাকা। উৎসবের সঙ্গে বৃষ্টিযোগ নতুন নয়। তীব্র গরমে হাপিত্যেশ করা নগরবাসীর জন্য বিকেলের মুষলধারায় এক পশলা বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ। 

সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ  মেঘের আড়ালে মুখ লুকোয় সূর্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বৃষ্টি। হঠাৎ মেঘ কালো করে আসা এ বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও স্বস্তি ফিরেছে রাজধানী জুড়ে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

দুর্গোৎসব বাংলাদেশে: করোনা কেড়ে নিয়েছে বরদেশ্বরী কালীমন্দিরের দুর্গাপুজোর উৎসব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.