দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

0

ঋদি হক: ঢাকা

আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাড়িঘরে সকল বয়সি শিক্ষার্থীরা অলস সময় কাটিয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গী হয়ে ওঠে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন তথা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস। স্থুলতা ভর করে দেহে। নগর-মহানগরে বসবাসকারী পড়ুয়াদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়তে চায় না অভিভাবকদের।  অবশেষে সকল দুশ্চিন্তা কাটিয়ে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এতে স্বস্তি ফিরেছে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে।

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাশ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খোলার বিষয়ে চলতি সপ্তাহে উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের এখনই স্কুলে যেতে হচ্ছে না।  

রবিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছিল, বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলেও প্রথমেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা হবে না।

১৯ দফা গাইডলাইন

এ দিকে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি নিতে ১৯ দফা গাইডলাইন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রক প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিতে আগেই গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।

এ দিন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে যোগ দেবে। অন্যান্য ক্লাস সপ্তাহে এক দিন চলবে। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাস হবে। তবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতি দিনই বিদ্যালয়ে যাবে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন বিদ্যালয়ে যাবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুরুর দিন থেকে চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্লাস হবে। পর্যায়ক্রমে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে। স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধ ভাবে প্রবেশ করাতে হবে। ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চলবে, তবে স্কুলে আপাতত কোনো অ্যাসেম্বলি হবে না। মাস্ক ছাড়া কেউ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সকলকে মাস্ক পরতে হবে। একেবারে কমবয়সি যারা, তাদের কোনো সংকট হচ্ছে কিনা, সেটা শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে।

১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দফায় দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে কথা হওয়ার পর ঠিক হয়, সকল শিক্ষার্থীর অন্তত এক ডোজ টিকা হওয়ার পরে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খোলার সময় মধ্য অক্টোবর ধার্য করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিদ্ধান্ত তাদের সিন্ডিকেট এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল নিয়ে থাকে, তাই এই সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। কিন্তু আমরা তাঁদের সঙ্গে আবার একটি বৈঠক করব।”

আরও পড়তে পারেন

অ্যাম্বুলেন্সের পর ভারতের উপহার, অক্সিজেন প্লান্ট পেল বাংলাদেশ

ফুঁসছে উত্তরের নদ-নদী, বাংলাদেশের ১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ম্যাগসেসে পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের কলেরা-টাইফয়েড টিকা গবেষক বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন