Connect with us

গান-বাজনা

কোভিড-এ আক্রান্ত প্রখ্যাত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

ঋদি হোক

প্রাণের গানের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা কোভিড ১৯-এ (Covid 19) আক্রান্ত।

রবীন্দ্রসংগীত (Rabindrasangeet) শিল্পী হিসাবে দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিষ্যদের মধ্যে তাঁকেই সব চেয়ে জনপ্রিয় গণ্য করা হয়। তিনি তাঁর গুণানুরাগীদের কাছে শুধুই ‘বন্যা’ নামে পরিচিত। সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। বঙ্গভূষণ পদকেও ভূষিত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (Rezwana Choudhury Bannya)। তা ছাড়াও আরও কত পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে।

তাঁর করোনাভাইরাসে (coronavirus) আক্রান্ত হওয়ার খবর শিল্পী নিজেই রবিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ১২ দিন আগে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন শিল্পী। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের বাসাতেই আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো জানিয়ে সকলের কাছে তাঁর জন্য প্রার্থনা কামনা করেছেন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা। এ বারের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসবে বলে আশা করছেন শিল্পী।

আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত মাশরাফি মোর্তাজা

উল্লেখ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন ৬৩ বছর বয়সি সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বঙ্গভূষণ, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক-সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কিংবদন্তিতুল্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

‘বন্যা’ বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে আবির্ভূত এক জন প্রথিতযশা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তিনি তাঁর ঘরানার সংগীতের একজন বহুমুখী প্রতিভা হিসাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ভাবে সমাদৃত।

গান-বাজনা

বাংলা লোকসংগীতের বিশ্বায়নের সূচনা, রিলিজ হল ‘ফোক কানেক্ট’

শম্ভু সেন:

বিশ্বব্যাপী এই বিধ্বংসী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় সারা পৃথিবীর প্রায় সব শিল্পীই নিজেদের বাড়িতে বসে ভার্চুয়াল ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে কিছু না কিছু কাজ করছেন, তা তিনি গায়ক, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, বাচিকশিল্পী, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা বা অন্য যে কোনো শিল্প মাধ্যমের সঙ্গেই যুক্ত থাকুন না কেন মূলত তিনটি কারণ তাদের এই কাজে প্রণোদিত করেছে। প্রথমত, লকডাউন চলাকালীন ঘর-গেরস্থালির নানা রকম দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও অনেকটা উদ্বৃত্ত সময় থাকছে; দ্বিতীয়ত, এত দিন বাড়ির মধ্যে কোয়ারান্টাইন থেকে একঘেয়ে জীবনে কিছু বৈচিত্র্য আনা এবং তৃতীয়ত, ক্রিয়েটিভ এক্সারসাইজ। সারা বিশ্বেই এই সময় বেশ কিছু ভালো মানের কোয়ারান্টাইন প্রজেক্ট হয়েছে। বাংলাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই, কলকাতার চার জন ভিন্ন ধারার মিউজিশিয়ানও একটি দারুণ কোয়ারান্টাইন মিউজিক প্রজেক্ট করে ফেলেছে, নাম ‘ফোক কানেক্ট’। 

এর সূত্রপাত এই বছরই জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের উপল সেনগুপ্তের বিখ্যাত ‘রুফ কনসার্ট ২০২০’-এর জন্য কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় সহজিয়ার মূল গায়ক দেব চৌধুরী ও মিউজিক ডিজাইনার-প্রোডিউসার রুদ্রনীল চৌধুরীর। তাঁরা পরস্পরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনলেও এর আগে এক সঙ্গে কোনো কাজ করেননি। এর ঠিক পর পরই চুঁচুড়ায় আরেকটি রুফ কনসার্ট ‘চিলেকোঠা’র জন্য এক সঙ্গে পারফর্ম করা যায় কি না, এ রকম চিন্তা-ভাবনা থেকেই ‘ফোক কানেক্ট’-এর ভাবনা শুরু হয়।

দেব বলেন, “আমি রুদ্রনীলকে ওর কাজের মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই চিনতাম, আমি ওর কাজ অত্যন্ত পছন্দ করি, আর রুদ্রনীল শুধুই নানা রকম ইনস্ট্রুমেন্ট বাজায় না, ও যে মিউজিকটা প্রোডিউস করে তার অন্তর্নিহিত অর্থ ও দর্শন বোঝে।” রুদ্রনীল যোগ করেন, “আমি সব সময় লোকসংগীত নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি, তবে সব সময়েই এমন একজন মানুষকে খুঁজেছি যে শুধু লোকসংগীত গায়ক-বাদক না, বিষয়টি গভীর ভাবে জানে ও যাপন করে।”

রুদ্রনীল চৌধুরী মিউজিক প্রোডিউসার হিসাবে সংগীতের নানা রকম ধারা – ব্লুজ, জ্যাজ, রক ইত্যাদি নিয়ে কাজ করলেও লোকসংগীতের প্রতি তাঁর একটা বিশেষ ঝোঁক বরাবর ছিল। রুদ্রনীলের বাবা ভালো খোল বাজান, সঙ্গে আরও নানা রকম তালবাদ্য। চন্দননগরের পৈতৃক বাড়িতে সুরের আবহেই তাঁর বেড়ে ওঠা। অন্য দিকে দেবের সাংগীতিক পথ চলা শুরু হয় মহীনের ঘোড়াগুলির গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কান্ট্রি, ব্লুজ, রক এবং সিনেমার মিউজিক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার পর গত পনেরো বছর ধরে তিনি বাংলার লোকসংগীত নিয়ে নিবিষ্ট এবং বিস্তৃত কাজ করছেন।

মূলত দেব ও রুদ্রনীল এই দু’জনের সাংগীতিক ভাবনার মেলবন্ধনের নামই ‘ফোক কানেক্ট’। এই জার্নির মধ্যে দিয়ে তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ধারার ফোক মিউজিশিয়ানদের কানেক্ট করতে চান। চুঁচুড়ায় সেই রুফ কনসার্ট ‘চিলেকোঠা’র সময়েই এই প্রজেক্টে তাঁদের সঙ্গে মিলিত হন আরও দু’জন দারুণ মিউজিশিয়ান। গায়ক-গিটারিস্ট-প্রোগ্রামার-প্রোডিউসার ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রুদ্র সরকার এবং ‘পরশপাথর’-এর সেই বিখ্যাত পারকাশনিস্ট পিকলু তথা কিংশুক চক্রবর্তী।

পুরো প্রজেক্টটি কনসিভ করে সিনে লাইভ মিডিয়া এন্টারটেনমেন্ট। কিন্তু এই কাজটি বাস্তবায়িত হওয়ার মুখেই লকডাউন শুরু হল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবাই নিজেদের বাড়ির সেটআপে অডিও রেকর্ডিং এবং স্মার্টফোনে বা ডিজিটাল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং করেন। তাঁদের সহায়তা করেন তনুশ্রী, মেঘা, প্রিয়তা আর কৃষ্ণেন্দু। পরে সামগ্রিক সাউণ্ড মিক্সিং-মাস্টারিং, ভিডিও এডিটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশন করেছেন রুদ্র সরকার।

এই ‘ফোক কানেক্ট’-এর প্রথম নিবেদন লালন সাঁইজির সেই বিখ্যাত গান ‘প্রেম রসিকা হব কেমনে’। এই গানটিকেই প্রথম গান বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে দেব বলেন, “গানটি খুবই রিদমিক, গ্রুভি এবং এর মিউজিক ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমেরিকার লোকসংগীতের একটি জনপ্রিয় ধারা ব্লু-গ্রাস স্টাইল ব্যবহার করার ফলে গানটির মিউজিকাল অ্যাপ্রোচ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো ভাষার মানুষকে কানেক্ট করবে।” রুদ্রনীল বলেন, “আমাদের এই প্রথম ট্র্যাকটির মধ্যে আমরা কোনো সিন্থেটিক সাউন্ড ব্যবহার করিনি, প্রায় সবটাই অ্যাকুয়াস্টিক এবং অথেনটিক।”

সাউন্ড-স্টুডিও-লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন-কাট-এর প্রচলিত ধারার বাইরে এসে এখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী একেবারে অন্য রকম ভাবে পরিণতি পেল এই কোয়ারান্টাইন প্রজেক্ট, যা উপল সেনগুপ্তের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘Gaan Taan’ থেকে সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে। আমরা খবর অনলাইনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি – বাংলা লোকসংগীতের বিশ্বায়ন হোক।

Continue Reading

গান-বাজনা

অভিনেতাই যেখানে বাদক, পশ্চিমী গানে তবলার প্রয়োগ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে চলেছেন সৌম্যরূপ সাহা

soumyp

স্মিতা দাস

তবলা বাদ্যযন্ত্রটি কি শুধুমাত্রই ক্লাসিক্যাল অর্থাৎ শাস্ত্রীয়সংগীতের সঙ্গে শাস্ত্রীয় বাজনা হিসাবেই সীমাবদ্ধ? নাকি তা পশ্চিমী বাজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমী গানেও সমান প্রযোজ্য? এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর বহু দিন ধরে খুঁজেছিলেন তবলা শিল্পী সৌম্যরূপ সাহা। তার জন্য প্রচুর সাধনা আর পরীক্ষানিরীক্ষাও করেছেন বহু দিন। তার পরই মিলেছে তাঁর প্রশ্নের উত্তর। সেই উত্তরই তুলে ধরেছেন শিল্পী তাঁর একটি ভিডিও-র মাধ্যমে। আগামী ২২ এপ্রিল ওয়ার্ল্ড আর্থ ডে-তে সেই ভিডিও মুক্তি পেতে চলেছে ইউটিউব চ্যানেল ‘সৌম্যরূপস ইউটিউবে’।

এই ভিডিও-র মূল বিষয় হল পশ্চিমী গায়িকা ক্রিস্টিনা পেরির গাওয়া থাউসেন্ড ইয়ার্স গানটির সঙ্গে তবলার সংগত। এটি একটি লাভ স্টোরি। এই গানটিকে চিত্রায়ণ করা হয়েছে বাংলার দুই অভিনেতার সাহায্যে। গল্পের বিষয়টিতে দেখানো হয়েছে একটি মেয়ে একজন ভবঘুরে তবলিয়াকে ভালোবেসেছে। এই মেয়েটির চরিত্রে অভিনয় করেছে সীমন্তিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও তবলিয়া আর কেউ নন সৌম্যরূপ নিজে।

প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ বলেন, এই গানটির চিত্রায়ণে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতিকে। পৃথিবীর এখন কঠিন লড়াইয়ের সময়, তাকে সুস্থ হয়ে উঠতেই হবে। তাই আশার বাণী তুলে ধরতে এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছেন সৌম্যরূপ। বলে রাখা ভালো, সৌম্যরূপ হলেন একাধরে তবলাবাদক, গায়ক, অভিনেতা। ছোটো পর্দার লৌকিক না অলৌকিক ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে সৌম্যরূপকে। বলে রাখা ভালো সৌম্যরূপ অভিনয় শিখেছেন অভিনেতা স্বাগতা মুখোপাধ্যায় ও ঋষি মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

পরিচিত ধারাবাহিকে সৌম্যরূপ।

সৌম্যরূপ প্রয়াত পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষের কাছে তবলাশিক্ষা নিয়েছেন। শিখেছেন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের কাছেও। ছোটো থেকেই তবলাতে নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি, একাধিক প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তা ছাড়াও গানের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর হৃদয়ের যোগ।

সৌম্যরূপ বলেন, ছোটো থেকে আরও একটি বিষয়ে তাঁকে খুবই আকর্ষণ করেছে। তা হল আধ্যাত্মবাদ। তিনি শ্রীভগবানজির কাছে বেদান্তের পাঠ নিয়েছেন, বর্তমানে তিনি নিজেও বেদান্তের ক্লাস নেন।

শ্রীভগবানজির সঙ্গে সৌম্যরূপ।

যাই হোক, মিউজিক ভিডিওটি নির্দেশনায় সুচিত্রা শ্রীবাস্তব, সম্পাদনায় প্রিয়াঙ্কা মহাপাত্র। ভিডিওগ্রাফিতে পায়েল সাহা।

করোনা সংক্রমণের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সৌম্যরূপ তাঁর দর্শকদের বার্তা দিয়েছেন, ঘরে বসে নিজেকে সময় দিতে হবে। নিজের ভেতরের অচেনা অজানা ক্ষমতাগুলিকে আবিষ্কার করার কথা বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন – মোহিনী-মায়ায় ঋদ্ধ দুই সন্ধ্যা

Continue Reading

গান-বাজনা

প্রাণবন্ত সংগীত-সন্ধ্যা উপহার দিলেন অলক রায়চৌধুরী

পাপিয়া মিত্র

সম্প্রতি রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহ এমন বাংলা গানে পূর্ণ থাকবে ভাবা যায়নি। সত্তরোত্তীর্ণ শ্রোতার পাশাপাশি যুবক-যুবতীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সে দিন যিনি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তিনি যে সকলের প্রিয় ও অত্যন্ত কাছের মানুষ, তা প্রমাণ করল রবীন্দ্র সদনের মতো এক প্রেক্ষাগৃহ। তিনি সকলের প্রিয় অলক রায়চৌধুরী।

জীবনের ৬০ বছর ও সংগীতজীবনের চার দশক পার হওয়া হাসিমুখের বিশিষ্ট শিল্পীর অনুষ্ঠান থাকলে বহু মানুষ আজও বাংলা গান শোনার জন্য ভিড় জমান। কেমন অনুভূতি ছিল একক সংগীত পরিবেশন করে? তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি – এটা তাঁর প্রথম একক অনুষ্ঠান নয়। তবে ভালো লেগেছে এই ভেবে যে তাঁর ছাত্র সুমন পান্থীর উদ্যোগে অনন্য মিউজিক এই দায়িত্ব নেওয়ায়। আর বেশির ভাগ মানুষ যেখানে বাংলা গান শোনে না, সেখানে উপস্থিতির হার দেখে তিনি অভিভূত।

সম্মাননার প্রত্যুত্তরে অলক। পাশে ইন্দ্রাণী সেন।

অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল, ‘জীবনের ৬০, গানের ৪৪-এ অলক’। অনুষ্ঠান শুরু হয় শিল্পী সম্পর্কে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইন্দ্রাণী সেনের প্রাককথন দিয়ে। শিল্পী ইন্দ্রাণী সেনকে স্মারক দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় অনন্য মিউজিকের পক্ষ থেকে।

কথায়, গানে শুরু হয় শিল্পীর পরিবেশন। গানের প্রেক্ষাপট বলে শুরু করেন রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে – ‘সেই তো আমি চাই’। শেষ হয় ৭০-৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’য়। মাঝে কী হল? ১৬টি গান শুনিয়েছেন শিল্পী। কথা দিয়ে গান। ছিল অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রগীতি, ভজন, নিধুবাবুর গান, জগন্ময় মিত্রের ‘চিঠি’, হেমন্তর ‘নীল আকাশের নীচে পৃথিবী’, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘খোলা জানালার ধারে’, পিন্টু ভট্টাচার্য-সহ বাংলা আধুনিক গানের মালা। ছাত্রদের সঙ্গে গাইলেন মাইকেলের লেখা ‘বিদ্যাসাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে’, সুরারোপ করেছেন শিল্পী নিজেই। শিল্পীর নিজের দল ‘রবিছন্দম’, ‘রম্যবীণা’, ‘সুরসপ্তক’, ‘মল্লার’ ও ‘রবিস্পন্দন’। ‘রবিস্পন্দন’ অনুষ্ঠানের সূচনা করে। আর ছিল বিশিষ্ট শিল্পী নমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুক্তধারা শিল্পী গোষ্ঠী’। প্রতি দল দু’টি করে সংগীত পরিবেশন করে। ‘বাসন্তী  হে ভূবনমোহিনী’ সংগীত পরিবেশন করে শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান সুমন পান্থী। গীতবিতান  প্রাক্তনীও দু’টি  গান পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে সম্মেলক সংগীত।

এ হেন শিল্পীর জীবনে সংগীত কী ভাবে এল, সেটা জানার আগ্রহ ছিল বিপুল। বয়স তখন চার কি পাঁচ। বাড়িতে মায়ের একটা হারমোনিয়াম ছিল। মায়ের কাছে সেই হারমোনিয়ামেই হাতেখড়ি। পরে প্রথাগত ভাবে বাড়িতে শিখিয়েছেন হরিপদ সাহা। তা প্রায় গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত। পরে ‘দক্ষিণী’তে। ইতিমধ্যে বয়স যখন ২৫-এর ঘরে, পার্টটাইম লেকচারারশিপ জুটে যায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তা চলে ২০০০ পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৫ বছর চাকরির সঙ্গে সংগীতচর্চা, মন ঠিক সায় দিচ্ছিল না। সব ছেড়ে একেবারে ডুব সুরসাগরে।

আরও পড়ুন: ‘সংযোগ’-এর বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠান এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যা উপহার দিল

তাই হয়তো সব ধরনের গানে শিল্পী এতটাই সাবলীল। শিল্পীর আরও এক পরিচিতি পুরাতনী গানে এবং প্যারোডিতে। আর একটি বিশেষত্ব। যখন যে শিল্পীরই গান শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে, মনে হয় যেন হেমন্ত, মান্না, শ্যামল বা মৃণাল গাইছেন। এ-ও তো এক অসাধারণ স্বকীয়তা।

যন্ত্রে শিল্পীকে সহযোগিতা করেন দেবাশিস সাহা, স্বপন অধিকারী, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, শম্ভু দাস ও তপন চাকী। মঞ্চ ও ধ্বনির দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে সুধীররঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও হাসি পাঞ্চাল। শ্রীপর্ণা আঢ্যর দক্ষ সংযোজনায় এ দিনের অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গসুন্দর হয়ে ওঠে।

ছবি: সংগৃহীত

Continue Reading
Advertisement
রাজ্য41 mins ago

এ বার মাস্ক না পরলে শাস্তি‍! নতুন নির্দেশিকা রাজ্য়ের

ক্রিকেট47 mins ago

২০১১ বিশ্বকাপ কাণ্ড: ম্যাচ গড়াপেটার তদন্ত বন্ধ করল শ্রীলঙ্কা

দেশ1 hour ago

নাগাল্যান্ডে নিষিদ্ধ হল কুকুরের মাংস

দেশ1 hour ago

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, রেল বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে ট্রেড ইউনিয়নগুলি

দেশ3 hours ago

‘বিস্তারবাদ’ অতীত, বিশ্বে এখন ‘বিকাশবাদ’ প্রাসঙ্গিক, লাদাখে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

gst
শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

জিএসটি-তে বড়োসড়ো স্বস্তি, কমল জরিমানা

দেশ4 hours ago

এক মাসে ভারত-বাংলাদেশ পণ্যবাহী শতাধিক ট্রেন চলেছে

thunderstorm
রাজ্য4 hours ago

কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

নজরে