ওয়েবডেস্ক: ঢাকার বনানী এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ সরকারি ভাবে জানিয়ে দিল মৃতের সংখ্যা ২৫ এবং আহত ৭৩।

গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মুশতাক হোসেন সাংবাদিকদের জানান এখনও পর্যন্ত ২৪জনের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বহুতলটিতে আর কেউ আটকা পড়ে নেই।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারের আট ও ন’তলায় আগুন লাগে বৃহস্পতিবার। ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া সেই আগুনে আটকে পড়েন বহু মানুষ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি।

জানা গিয়েছে, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট নাগাদ আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট। তার পরেও ক্রমশ বেড়েই চলে এফআর টাওয়ারের আগুন। অক্লান্ত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এর পরই জানা যায়, ভয়াবহ ওই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট।

বাহিনীর ইউনিটগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ হাত লাগায়। আগুনে নেভাতে নৌবাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টার কাজে হাত লাগায়।একই সঙ্গে বহুতলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের কাজ শুরু করে বাহিনীর ইউনিটগুলি।

এর পরই খবর পাওয়া যায়, অগ্নিগ্রস্থ বহুতলের পাশের একটি বহুতলেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভবন থেকে আগুন পাশের আহমেদ টাওয়ারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগুন লাগর পর চার জন আট এবং ন’তলা থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তাঁরা হয়তো বাঁচবেন না । তাঁদের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে এই মুহূর্তে কাছে গিয়ে দেখা যাচ্ছে না তাঁরা বেঁচে আছেন কি না।

উল্লেখ্য, গার্মেন্টের বায়িং হাউজ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস, বিক্রয় কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ও একটি কনভেনশন সেন্টার রয়েছে বনানীর এফআর টাওয়ারে। ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলিতে  কত মানুষ কর্মরত ছিলেন, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা সংগ্রহ করতে পারেনি প্রশাসন। ওই বহুতলের তৃতীয় তলে রয়েছে শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের একটি শাখা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here