এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ভারত ও বাংলাদেশের

0

ঋদি হক: ঢাকা

ঢাকা-দিল্লি (Dhaka-Delhi) সম্পর্ক জোরদার করতে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করা হল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শানিত করার জন্য একই ছাতার নীচে দাঁড়িয়ে কাজ করবে ঢাকা-দিল্লি। দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদেশসচিব পর্যায়ের (Foreign Secretary level) বৈঠকে এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আগামী মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের আগে দু’ দেশের স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য এবং জলসম্পদ সচিবদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিন, বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, জলবণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়।

শুক্রবার বাংলাদেশের বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতের বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন।  

বাংলাদেশের বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেন চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছোন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর চূড়ান্ত করার বিষয়টি এ বারের দিল্লি বৈঠকে প্রাধান্য পাচ্ছে। ভারতের বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এসেছিলেন। সে সময় বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। গত ডিসেম্বরে বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেন দিল্লি সফরে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি  করোনা-আক্রান্ত হওয়ায় সফর বাতিল হয়। 

নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশ বৈদেশিক অফিস পরামর্শ (foreign office consultation, এফওসি, FOC) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা (Harsh Vardhan Shringla) এবং বাংলাদেশের বিদেশসচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন (Masub Bin Momen)। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদেশ সচিবের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার এইচ. ই. মোহাম্মদ ইমরান, সচিব (পূর্ব) মাশফি শামস এবং বাংলাদেশের বিদেশ, বাণিজ্য ও জলসম্পদ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিদেশ, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য ও শিল্প, জল শক্তি এবং অর্থ মন্ত্রকের প্রতিনিধিবৃন্দ।  উভয় পক্ষই কোভিড-১৯ সহযোগিতা, বাণিজ্য, সংযোগ, উন্নয়নে অংশীদারি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও জলসম্পদ, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিচালনা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অগ্রগতির ব্যাপক পর্যালোচনা করেছেন। 

প্রসঙ্গকর্মে, উভয় পক্ষ ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ ত্রি-পরিষেবা মার্চিং কন্টিনজেন্ট যোগ দেওয়ায় তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। উভয় পক্ষই ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনী এবং জনগণের ত্যাগের বিষয়ে উভয় দেশের বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য উল্লেখ করেছে।

উভয় পক্ষই মার্চ ২০২১-এর শীর্ষ সম্মেলনের আগে পরবর্তী স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা, বাণিজ্যসচিব স্তরের আলোচনা এবং যৌথ নদী কমিশনের সচিব স্তরের বৈঠক করার বিষয়ে একমত হয়।

বাংলাদেশের বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেন নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে বর্তমানে বিজ্ঞান ভবনে প্রদর্শিত বাঘু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সুষমা স্বরাজ স্বরাষ্ট্র ইনস্টিটিউটে বিদেশি সেবা প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

আরও পড়ুন: নাব্যতাসংকটে ভারত-বাংলাদেশ জলপথ, বন্ধের মুখে নৌবাণিজ্য

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন