Connect with us

দুর্গা পার্বণ

দুর্গোৎসব বাংলাদেশে: ৩ দিনের ছুটি দাবি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের আশা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেবেন।

Published

on

idol making in Ramna Kalimandir
রমনা কালীমন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেশের মুখে।

ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশে সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই উদযাপিত হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”। দুর্গোৎসবকে ঘিরে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে এক ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি মণ্ডপ বিকাল থেকে মুসলমান ধর্মাবলম্বী নানা বয়সি মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ যেন সম্প্রতির সেতুবন্ধন। কোথায় মিলবে এই ভ্রাতৃত্ব?

এই শারদীয় উৎসব যেন আবেগে মাখামাখি। কত রকমের খাবার, তার হিসেব নেই। বাংলার মানুষের দিলখোলা আয়োজন। অল্পতে প্রাণ ভরে না। উৎসবে ব্যয়ের কথা মাথায় রাখেন না। এই সর্বজনীন উৎসব পালনে তিন দিনের ছুটি দাবি করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

তিন দিনের ছুটি দাবি

শনিবার অপরাহ্নে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বসে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দফতর-সম্পাদক বিপ্লব দে ‘খবর অলনাইন’কে বলেন, “অষ্টমীতে উপোস করতে হয়। নবমীতে মায়ের বিদায়ের আয়োজনে ব্যস্ততায় কাটে। বিজয় দশমীতে বিদায়ের শোক। সব মিলিয়ে তিন দিনের ছুটির দাবি করে আসছি আমরা।” তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেবেন।

বিপ্লব দে।

অপর দিকে তিন ছুটি না হলেও অন্তত নবমীতে এক দিনের ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুললেন রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের সভাপতি উৎপল সাহা। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসব ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়। আমরা অবশ্যই আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এই প্রাণের দাবিটি মেনে নেবেন।”

উৎপলবাবু জানালেন, বাংলাদেশে এ বারে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন হওয়ার আশা করছেন তাঁরা। প্রতিটি পুজোয় অনুদান দিয়ে থাকে হাসিনা সরকার।

উৎপল সাহা।

তিন দিন ছুটির দাবিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মানববন্ধন করেছে। অপর দিকে আগ্রামী শুক্রবার একই দাবিতে সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন অপর একটি সংগঠন।

রমনা কালীমন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ 

রমনা কালীমন্দিরের প্রতিমা গড়ার কাজ ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়ে এসেছে। এখন শুধু রঙতুলির কাজ বাকি। প্রতিমা শিল্পী রতন পাল জানালেন, তাঁর খুব কাজের চাপ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিমা গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সহযোগীদের নিয়ে। 

তিন স্তরের নিরাপত্তা

রমনা কালীমন্দিরে শিল্পী রতন পাল।

বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম-সহ বড়ো মন্ডপে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন তথা র‌্যাব ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়।

গোয়েন্দা নজরদারি থাকে সাদা পোশাকে। লাগানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। থাকে মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরোনোর আলাদা পথ। সন্ধ্যায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। থাকে জেনারেটরও। নারী দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচলে থাকে আলাদা ব্যবস্থা। মূল গেটে নারী-পুরুষ নিরাপত্তাকর্মীরা সকলকে ভালো ভাবে তল্লাশি করে তার পর মণ্ডপে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

রসনাপ্রিয় বাঙালির জন্য সুখবর, বাংলাদেশ থেকে আসছে প্রায় দেড় হাজার টন ইলিশ!

দুর্গা পার্বণ

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Published

on

বকশিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজোয় নানা রীতি, নানা আচার পালন করা হয় বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। কোথাও দেবীর ভোগে অন্ন থাকে, আবার কোথাও দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। মৃন্ময়ী মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন, কোথাও তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী আবার কোথাও তিনি সিংহবাহিনী।

বঙ্গের পুজোয় কুলাচারের নিয়ম প্রতিটি বাড়িতেই বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এবং এটাই বঙ্গের সংস্কৃতি যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত। তেমনই পশ্চিম বর্ধমানের বকশিবাড়িতে দেবীর পদতলে বিরাজ করেন সিংহের পরিবর্তে বাঘরাজ। এই বাড়ির পুজো প্রায় ২৬২ বছরের পুরোনো।

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশি বংশের আদিপুরুষ কিশোরীমোহন দাস ছিলেন বৈষ্ণবভক্ত। বর্ধমানের মহারাজাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিশোরীবাবু। তাঁর সেই ক্ষমতা দেখে তাঁর সাধ্যমতো উপকার করার প্রতিশ্রুতিও দেন বর্ধমানের মহারাজা। এর পর কিশোরীমোহন দাস সস্ত্রীক বৃন্দাবনে যান এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুত্রের নাম রাখা হয় গোবর্ধন। এই গোবর্ধন দাস ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। বর্ধমানের মহারাজা তাঁর অসীম ক্ষমতা দেখে তাঁকে প্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে বকশি উপাধি প্রদান করেন। গোবর্ধন দাসের সূত্রেই সূচনা হল বকশি বংশের।

১৭৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে দেশীর রাজাদের সঙ্গে ইংরেজদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় গোবর্ধন বকশি ছিলেন বর্ধমান মহারাজার প্রধান সেনাপতি। যুদ্ধ চলাকালীন গোবর্ধনবাবু একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। মা তাঁর মূর্তিপূজা শুরু করতে বলেন। মা বলেন, তাঁর মূর্তিপূজা করলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর বংশকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। মা স্বপ্নাদেশেই জানিয়ে দেন, তাঁর যে মৃন্ময়ীরূপের পুজো হবে, সেই রূপ তিনি দাঁইহাটের এক শিল্পীকে স্বপ্নাদেশে বর্ণনা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজয়নগরের গাছতলায় তাঁর যে শিলামূর্তি রয়েছে, তা এনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করারও আদেশ দেন মা।   

মায়ের মুখ।

এর পর দেবীর আদেশানুসারে গোবর্ধন বকশি শিলামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাঁইহাটের শিল্পীর সাহায্যে মূর্তি তৈরি করে শুরু করেন বংশের দুর্গাপুজো, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথের দিন মায়ের কাঠামোয় মাটি দিয়ে। এই বাড়ির মূর্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান পাশে থাকেন শ্রীলক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী ও গণেশ। দেবীর দুর্গার আটটি হাত ছোটো, কাঁধে বসানো এবং বাকি দুটি হাত স্বাভাবিক। ছোটো আটটি হাতের অস্ত্র মাটির এবং ত্রিশূলটি রুপোর তৈরি। এই বকশিবাড়িতে মায়ের বাহন হলেন বাঘ।

বকশি পরিবার বৈষ্ণব হলেও দেবীর আদেশে বলিদান প্রথা পালন করা হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য শুভদীপ বকশি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী ও মহাষ্টমীতে একটি করে ছাগ এবং মহানবমীতে তিনটি ছাগ, একটি মহিষ, চালকুমড়ো এবং আখ বলিদান হয়। এই বাড়ির দেবীকে কোনো শাড়ি পরানো হয় না। পুরো সাজটাই হয় রাজস্থানী ঘাঘরা দিয়ে। মায়ের মন্দিরের ভেতরে কোনো বেদি নেই। দেবীর আদেশে মন্দিরের ভেতরের মেঝেটি পুরোটাই মাটির।

বকশিবাড়ির পুজোয় ১২০ জনেরও বেশি ঢাকি আসেন। ঢাকের লড়াই চলে গ্রামের সরকারবাড়ির সঙ্গে বকশিবাড়ির। এ এক চিরন্তন প্রথা। বকশিবাড়িতে পুজোর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় – নাচ, নাটক, গান ইত্যাদি। বকশিবাড়ির খ্যাপা মাকে দর্শন করতে মানুষ ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে, জড়ো হন এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। পুজোর চার দিন ঠাকুরদালানে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

বকশিবাড়ির কুলদেবতা হলেন গোপাল। পুজোর সময় মায়ের সামনে গোপালকে রেখে তাঁর পুজো করা হয়। এই ভাবে পুজোর নানা প্রথা আঁকড়ে রেখে এবং সাবেক ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয় বকশিবাড়ির খ্যাপা মায়ের।

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

করোনা আবহে কী ভাবে দুর্গাপুজো? উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মণ্ডপ, অঞ্জলি থেকে সিঁদুর খেলা- মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ পরামর্শ।

Published

on

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

কলকাতা: করোনা আতঙ্ক এড়িয়ে কী ভাবে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা যাবে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই জানিয়ে দিলেন করোনা আবহে কী ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে দুর্গাপুজো করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ক্লাব ও পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুরক্ষাবিধি মেনে কী ভাবে দুর্গাপুজোর ব্যবস্থা করা যাবে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশদ আলোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুজো হবেই। সমস্ত নিয়ম মেনেই হবে। শুধু করোনার জন্যে কিছু নিয়মকানুন আমাদের মেনে চলতে হবে। খোলামেলা মণ্ডপ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে আমাদের গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটি”।

মুখ্যমন্ত্রী যা বললেন

চারপাশটা খোলা রেখে মণ্ডপ তৈরি করতে হবে।

যারা চারপাশ খোলা রাখতে পারবে না, তারা মাথার উপরের দিকটা খোলা রাখবে।

মণ্ডপে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

সে ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিতে হবে।

মণ্ডপের এক অথবা আধ কিমির মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীর মুখে মাস্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদেরও মাস্ক রাখতে হবে।

মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের সচেতন করতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘোষণা করতে হবে।

২ অক্টোবর থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন জানাতে হবে।

সকলে এক সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া এবং সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারবেন না। একটা দলের হয়ে গেলে আর একটা দল আসবে।

দর্শনার্থী পারলে নিজেরাই অঞ্জলির জন্য ফুল-বেলপাতা নিয়ে যাবেন।

এ বারে পারলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে, ইত্যাদি।

কত পুজো হচ্ছে রাজ্যে?

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, রাজ্য পুলিশের আওতায় ৩৪ হাজার ৮৩৭টি পুজো রয়েছে। অন্য দিকে কলকাতা পুলিশের অধীনে রয়েছে ২ হাজার ৫০৯টি দুর্গাপুজো। ১ হাজার ৭০৬টি পুজো হচ্ছে মহিলাদের উদ্যোগে।

বিশেষ ছাড়!

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতিটি পুজো কমিটি ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে। সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা- উভয়ই এই ছাড় দেবে। পাশাপাশি দমকম এবং পুরসভাগুলি পুজো কমিটিগুলির থেকে কোনো ফি নেবে না।

অন্য দিকে রাজ্য সরকারের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: ‘দুর্গাপুজোর আনন্দ কোনো ভাবেই মাটি হবে না’, আশ্বস্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো।

Published

on

বড়ো গোস্বামী বাড়ির দুর্গাপূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শান্তিপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম এই অঞ্চলের দুর্গাপুজো, যা বহু বছর ধরে হয়ে আসছে বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। বৈষ্ণব এবং শৈব ধারার পাশাপাশি এখানে শাক্তমতের আড়ম্বরও লক্ষ করা যায়, ধুমধাম করে পালিত হয় দুর্গাপুজো, কালীপুজো।

এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরিবারে রাস উৎসবের পাশাপাশি সাড়ম্বর পালিত হয় দুর্গাপুজো। শান্তিপুরনাথ অদ্বৈতাচার্যের পুত্র বলরাম মিশ্রের পুত্র মথুরেশ গোস্বামীর প্রথম পুত্র রাঘবেন্দ্র গোস্বামী থেকেই বড়ো গোস্বামী বাড়ির সৃষ্টি। এই বাড়িতে আজও নিত্য পূজিত হন অদ্বৈতাচার্যের সেবিত শালগ্রামশিলা এবং আরও অনেক দেবদেবী।

বড়ো গোস্বামী বাড়ির পূর্বপুরুষ মথুরেশ গোস্বামী তাঁর পিতার কাছ থেকে শ্রীশ্রীরাধামদনমোহন, প্রভু সীতানাথ, সীতামাতা ও অচ্যুতানন্দের সেবাভার পেয়েছিলেন। মথুরেশ গোস্বামী বাংলাদেশের যশোহর থেকে এনেছিলেন শ্রীরাধারমণকে  এবং সেই বিগ্রহ সেবা পান শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে।

এই রাধারমণ একবার বাড়ির মন্দির থেকে রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যান। সেই বিগ্রহ ফিরে পেতেই বাড়ির মহিলারা ব্রত রাখলেন দেবী কাত্যায়নীর। কারণ বৃন্দাবনে গোপীরা যেমন কাত্যায়নীব্রত করে লীলাপুরুষোত্তমকে পেয়েছিলেন ঠিক তাঁদেরও তেমন বিশ্বাস ছিল যে তাঁরাও তাঁদের রাধারমণকে ফিরে পাবেন দেবীর ব্রতপূজা করলে। এবং পুজোর সময় স্বপ্নাদেশে জানতে পারা গেল, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছেন রাধারমণ। তখন বড়ো গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা তাঁকে নিয়ে আসেন। এ ভাবেই প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নী তথা মা দুর্গার আরাধনা, যা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

বড়ো গোস্বামী বাড়িতে মা দুর্গার আরাধনা।

প্রত্যেক বনেদিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমায় যেমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, বড়ো গোস্বামী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বাড়িতে দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী থাকে বিপরীত দিকে। দেবীর ডান দিকে থাকে কার্তিক ও লক্ষ্মী এবং বাঁ দিকে গণেশ ও সরস্বতী। এই পরিবারের পুজো হয় পূর্বপুরুষদের তৈরি করা বিশেষ পুথি দেখে এবং মহানবমীতে হয় বিশেষ প্রার্থনা।

এই বাড়িতে ভোগরান্না করেন বাড়ির দীক্ষিত মহিলারা। ভোগরান্নায় অন্য কারও অধিকার নেই। এই বাড়ির পুজোয় ৩৬ রকমের পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। ভোগে থাকে সাদা ভাত, খিচুড়ি, নানা রকমের ভাজা, শুক্তানি, তরকারি, পোলাও, ধোঁকার তরকারি, ছানার ডালনা ইত্যাদি।

দশমীর দিন শান্তির জল দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন এলাকার মানুষেরাও। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এখানে মায়ের সকালবেলায় বিসর্জন হয়ে যায়। কারণ মা যতক্ষণ না বিসর্জিত হন ততক্ষণ বড়ো গোস্বামী বাড়ির ইষ্টদেবতা শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউয়ের ভোগ রান্নার কাজ শুরু হয় না। মা চলে যাওয়ার পরেই তা শুরু হয়।

দশমীর দিন মায়ের বিসর্জনের আগেই রাসের খুঁটি পুঁতে রাস উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এ ছাড়াও শ্রীশ্রীআগমেশ্বরী মায়ের পাটপুজো দেখে তার পর মা বিসর্জনে যান। বিসর্জনের পরে ঘাটে উপস্থিত প্রায় ৩০০-৪০০ জনকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

বড়িশার আটচালায় কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করলেন লক্ষ্মীকান্ত

Continue Reading
Advertisement
আইপিএল7 hours ago

আইপিএল-এর ইতিহাসে রান তাড়া করার রেকর্ড, পাঞ্জাবকে হারিয়ে জিতল রাজস্থান রয়্যালস

Balasaheb Thorat
দেশ10 hours ago

রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেও নয়া তিন কৃষি আইন কার্যকর করবে না মহারাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

রাজ্য11 hours ago

রাজ্যে দৈনিক আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি, ঊর্ধ্বমুখী সুস্থতা

farm bills protest
দেশ11 hours ago

নাটকীয় ভাবে সংসদে পাশ হওয়া কৃষি বিলে স্বাক্ষর রাষ্ট্রপতির

দেশ12 hours ago

সেরো সার্ভের রিপোর্ট তুলে ধরে কোভিড নিয়ে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশ12 hours ago

জল্পনার অবসান! নীতীশ কুমারের দলে যোগ দিলেন বিহারের প্রাক্তন ডিজি

রাজ্য14 hours ago

২ নভেম্বর থেকে কলেজের ক্লাস অনলাইনে, সাফ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

রাজ্য15 hours ago

সিঙ্গুর প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি-সঙ্গ ত্যাগকারী অকালি দলকে সমর্থন তৃণমূলের

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা3 days ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা6 days ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 week ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা3 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা1 month ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

নজরে