কলকাতা: বাৎসরিক ভাষা দিবস উদ্‌যাপনের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি। বাংলা ভাষা নিয়ে আরও কিছু কথা আলোচনা করলে দোষের কিছু নয়। 

নিজের ভাষার স্বীকৃতির জন্য চার যুবক প্রাণ দিয়েছিলেন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ ছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। পরবর্তী কালে সেই ভাষার জন্য লড়েই আলাদা রাষ্ট্র অর্জন করেন সেই ভূখণ্ডের মানুষ। পূর্ব পাকিস্তান হল বাংলাদেশ। সেটা ১৯৭১ সাল। তার ২৮ বছর পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে স্মরণে রেখে সেটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয় রাষ্ট্রপুঞ্জ। 

কিন্তু বাংলা ভাষার স্বীকৃতির সেখানেই শেষ নয়। পশ্চিম আফ্রিকার একটি ছোট্টো দেশ সিয়েরা লিয়নেরও অন্যতম সরকারি ভাষা বাংলা। কী ভাবে সম্ভব হল এমন আশ্চর্য ঘটনা?

তার জন্য পিছিয়ে যেতে হবে হবে ১৯৯১ সালে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে দীর্ণ ছিল সিয়েরা লিয়ন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে দেশে শান্তি রক্ষা বাহিনী পাঠিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেই বাহিনীর একটা বড়ো অংশ ছিল বাংলাদেশি সেনা। বিদ্রোহী বাহিনীকে দমন করতে এবং বিদ্রোহীদের হাতে থাকা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বাংলাদেশি সেনা বাহিনী।  

২০০২ সালে সিয়েরা লিয়নে শান্তি ফেরে। সেই শান্তি অর্জনে বাংলাদেশের অবদানকে মনে রেখে সে দেশের প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজা কাব্বাহ বাংলা ভাষাকে সিয়েরা লিয়নের অন্যতম সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেন। লক্ষ লক্ষ মাইল দূরের দুই দেশ, বাংলাদেশ ও সিয়েরা লিয়ন মিলে যায় ভাষার সূত্রে। মিলে যায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্য একটি দেশের একটি অঙ্গরাজ্যও। পশ্চিমবঙ্গ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here