priyanka chopra

ওয়েবডেস্ক: গ্ল্যামারের অধ্যায়টিতে আপাতত খানিক অবসর। কেন না, মেগান মার্কলে আর প্রিন্স হ্যারির রাজকীয় বিয়ে থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সরাসরি উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশে। ইউনিসেফ-এর শুভেচ্ছাদূত হিসাবে তাঁর কর্তব্য পালন করতে, বাড়িয়ে দিতে সাহায্যের হাত।

জানা গিয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনখালী ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন নায়িকা। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে শিশুরা রয়েছে, তা মোটেই স্বস্তি দেয়নি নায়িকাকে। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বেশ স্পষ্ট ভাবেই লিখেছেন তিনি এই উদ্বাসনের ইতিবৃত্ত। জানিয়েছেন, মায়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। এবং তাদের ভবিষ্যৎ মোটেও নিরাপদ নয়।

কেন নয়, সে কথায় আসতে গিয়ে সবার প্রথমে আবহাওয়াকেই দায়ী রেছেন নায়িকা। লিখেছেন, সামনেই বর্ষা আসছে। যা এই শিশুদের সমস্যায় ফেলবে। কেন না, তারা যে উদ্বাস্তু শিবিরের অস্থায়ী ছাউনিতে থাকে।

পাশাপাশি, মানসিক ভাবেও তারা যে ভালো নেই, সে কথাও জানাতে ভোলেননি প্রিয়াঙ্কা। লিখেছেন, তিনি এই উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা শিশুদের মুখে হাসি দেখতে পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তাদের চোখে দেখতে পেয়েছেন অপরিসীম শূন্যতা। ফলে তাদের নিয়ে তিনি রীতিমতো উদ্বিগ্ন। বিশ্বকে অনুরোধও করছেন- এই শিশুদের জন্য কিছু করতে। তিনি স্পষ্ট বলছেন, সবাই মিলে এই শিশুদের যত্ন নেওয়া উচিত!

priyanka chopra

যদিও তাদের অবস্থা যে আগের চেয়ে খুব সামান্য হলেও ভালো, সেটাও জানাতে ভোলেননি নায়িকা। তা বলে এই শিশুরা যে খুব আশ্বস্ত হয়ে রয়েছে, তেমন দাবিও করেননি। লিখেছেন, পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসার পরেও এই রোহিঙ্গা শিশুরা রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যেই। প্রথমে তারা জানত না পরের দিন আর খাবার পাবে কি না! এখন খুব সামান্য হলেও নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়েছে। কিন্তু এই ভাবে, ক্যাম্পে কত দিন কাটাতে হবে তাদের, তা তারা এখনও জানে না!

priyanka chopra

উল্লেখ না করলেই নয়, খুব সাদামাটা পোশাকে রোহিঙ্গা শিবিরে উপস্থিত হওয়ার পর শিশুদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেছেন নায়িকা। প্রথমে তিনি রিফাত হোসেন নামের একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করেন, সে তাকে জায়গাটা ঘুরিয়ে দেখাবে কি না! শিশুটি রাজি হলে তার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করেন নায়িকা।

priyanka chopra

এর পর আরেকটি শিশুর সঙ্গেও বাংলায় কথা বলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাকে তিনি নাম জিজ্ঞাসা করায় সে উত্তর দিয়েছে। এর পর প্রিয়াঙ্কা জানতে চেয়েছেন, সে স্কুলে যায় কি না! শিশুটি হ্যাঁ বলেছে ঠিকই, কিন্তু নায়িকাকে উদ্বেগমুক্ত মনে হয়নি।

ফলে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য ছিল হাসপাতাল। ইউনিসেফ পরিচালিত হাসপাতালে গিয়ে সেখানকার রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলেন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়েও কথা বলেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। জানতে চান, শিবিরগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে কি না!

Across the river is Myanmar(Burma.) It’s empty now, but a few months ago this area, known as “Sabrang,” was filled with hundreds of thousands of Rohingya refugees fleeing Myanmar. Their trip here was filled with many hardships and tremendous danger. Many of them made their journey on foot, walking for days through the hills, then floating across the Naf River or the Bay of Bengal on make shift boats…many of them injured, pregnant, elderly, etc. Their ordeal didn’t end here…after entering Bangladesh, they would often have to wait for days, sleeping in the open fields with no food or water, for aid workers to reach them. For a lot of the Rohingya children, this ordeal will leave them scarred, physically and emotionally, for the rest of their lives. With your help, maybe these children can have a chance at a future…because right now, their future is bleak. The world needs to care. We need to care. Please lend your support at www.supportunicef.org #ChildrenUprooted @unicef @unicefbangladesh

A post shared by Priyanka Chopra (@priyankachopra) on

খবর বলছে, আপাতত প্রিয়াঙ্কা বাংলাদেশেই থাকবেন। বৃহস্পতিবার তিনি রওনা দেবেন বাংলাদেশ ছেড়ে। তবে তার আগে তিনি যাবেন টেকনাফের হাড়িয়াখালিতে। ঘুরে দেখবেন সেখানকার রোহিঙ্গা শিবির। এ ছাড়া উখিয়ার কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথাও রয়েছে নায়িকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here