ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের বন্ধন, বললেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী

0
মহিবুল হাসান চৌধুরী।
আইটেক দিবস ২০২১ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

ঋদি হক: ঢাকা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের বন্ধন। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় দু’ দেশের যোদ্ধারা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। দুটি দেশ থেকেই সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। আমরা তাদের মতো অন্যদের শাসন করিনি বরং শাসিত হয়েছি। কোনো দেশে হামলা চালিয়ে তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেনি বরং উপমহাদেশ নিজের সম্পদ কাজে লাগিয়েই আজকের অবস্থানে এসেছে।”

৫৭তম ভারতীয় কারিগরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা (আইটেক) দিবস (ITEC Day 2021) উদযাপন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার কাকরাইলে ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-এ (আইডিইবি, IDEB) ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এমন আবেগঘন মন্তব্য করেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী (Deputy Minister of Education) মহিবুল হাসান চৌধুরী (Mahibul Hasan Chowdhury) ।

আইটেক কর্মসূচি

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কৌশল কাঠামোর আওতায় ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইটেক কর্মসূচি প্রচলিত হয়। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও উপযুক্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হিসাব, নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন, সংসদীয় বিষয়াবলির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য ১৬১টি সহযোগী দেশে ১০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণপর্বের আয়োজন করা হয়।

আইটেক সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রধানতম এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত বছর কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ই-আইটেকের অধীনে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল কোর্সের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সবের মধ্যে ছিল প্রথম সারির বিভিন্ন ভারতীয় ইন্সটিটিউটে নারীকেন্দ্রিক প্রোগ্রাম, কোভিড ব্যবস্থাপনা, সুশাসন অনুশীলন, ডেটা অ্যানালিটিক্স, দূর অনুধাবন, অ্যাডাল্ট হেপাটোলজি ইত্যাদি বিষয়ক কোর্স।

শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্য     

আইটেক কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আইটেক একটি দারুণ কর্মসূচি। দু’ দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক মেলবন্ধন রয়েছে, তা প্রতি মুহূর্তেই পরিলক্ষিত হয় এই কর্মসূচিতে। দু’ দেশের মধ্যেকার সহজাত ভ্রাতৃত্ববোধ উদযাপন করার দারুণ মাধ্যম আইটেক।

শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয়ে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন গ্রামীণ উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলো কী ভাবে সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করছে, সেই অভিজ্ঞতা তারা আমাদের থেকে নিতে পারে। দু’ দেশের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক-সহ বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে। দু’ দেশ এ সব বিষয়ে একযোগে কাজ করতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি কাজের সেই সুযোগই বৃদ্ধি করে। যে দক্ষতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়, সেটা ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ শিখতে পারে।


বক্তৃতা করছেন ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্য   

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার (Indian High Commissioner) বিক্রম দোরাইস্বামী (Vikram Doraiswami) বলেন, আইটেক ভারতের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম। ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এ প্রকল্পের শরিক, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মতো দেশগুলো।

দেশগুলোর মধ্যে আবেগের পাশাপশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে আইটেক-এর। প্রায় দুই লাখের বেশি পেশাজীবীর দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রয়েছে এই কর্মসূচির। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পেশাজীবীদের এক জায়গায় একত্রিত করা যায়, যার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা আরও দক্ষ হতে পারেন।

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য ভারতের সেরা সব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষে বিশেষায়িত কিছু কর্মসূচিও রয়েছে ভারতের। এখানকার সাংবাদিকদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে আইটেক কর্মসূচির অধীনে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি তরুণ পেশাজীবী ভারতে এ ধরনের বিশেষায়িত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

আগামী পাঁচ বছরে সিভিল সার্ভিসের প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রায় এক হাজার ৫০০ জন ছাড়াও পুলিশ সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। “এর মাধ্যমে যে শুধু তারাই শিখছেন সেটি নয়, বরং আমরাও শিখছি। আইটেক উভয় দেশের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ে একটি  সেতুর মতো কাজ করছে”, মন্তব্য করেন হাই কমিশনার।

বিশিষ্ট অতিথিবর্গ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে প্রায় ১০০ জন প্রাক্তন আইটেক শিক্ষার্থী আইটেক দিবসের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চলতি অতিমারিতে নানা বিধিনিষেধের কথা বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ছাড়াও আইটেক কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ পাওয়া বিভিন্ন অ্যালুমনি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়তে পারেন

টিকার আওতায় আসছে ১২ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরাও, জানিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা

বিএনপির উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, দেশে গণ্ডগোল পাকিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কিছু করা: ড. হাছান মাহমুদ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন