ঋদি হক: ঢাকা 

ভারত (India) ও বাংলাদেশ (Bangladesh) এক অপরের প্রতিযোগী নয়। বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই অগ্রসরমান হতে চায়। এ ক্ষেত্রে ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি, উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারের উদ্দেশ্যে স্থলবন্দর-কেন্দ্রিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে এক সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।

Loading videos...

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী (Bangladesh Industry Minister) নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের (Nurul Majid Mahmud Humayun) সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার (Indian High Commissioner) বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী (Vikram Doraiswami)। তাঁদের মধ্যে আলোচনায় পণ্যের মান সংক্রান্ত সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও উঠে আসে। বৈঠকে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, বন্ধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের যাত্রায় অংশীদার হওয়ার জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় ভারত।

দোরাইস্বামী বলেন, ভারত মনে করে অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্স (এপিআই) শিল্প ক্ষেত্রে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দারুণ কাজে আসতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বন্ধু রাষ্ট্রের এই সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কাছে তার শিল্পায়নের চলমান ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে উল্লিখিত ক্ষেত্রের উন্নয়নে ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক শক্তি’ হিসেবে কাজ করতে চায়। তাতে উভয় দেশই অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।

বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানান ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। শিল্প মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ-সহ ওই মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিক এবং ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠককালে ভারতীয় হাই কমিশনার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী ভারত। হাই কমিশনার বলেন, বিদেশি পণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিছু অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরির মানসনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই সনদ সাপেক্ষে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য এবং খাদ্য নয় এমন পণ্যের রফতানির দ্বার সহজেই উন্মুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্ট মান-প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ শক্তিশালী করারও পরামর্শ দিয়েছেন হাই কমিশনার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষায় মোবাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরি সেবা চালু করতে ভারতের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুন ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটা রক্তের সম্পর্কের মতো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণের বিশাল ত্যাগ ও সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। পারস্পরিক উন্নয়ন-যাত্রায় দু’ দেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এক সঙ্গে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য পরিধি বাড়াতে আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। বাণিজ্যের পরিধি বাড়লে রফতানি সম্পর্কিত বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সহজেই সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পক্ষেত্রগুলোর বিকাশে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনারের আগ্রহকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে তিনি উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কথাবার্তা ও মতবিনিময়ের পরামর্শ দেন।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঢাকা থেকে কলকাতা, চেন্নাই পথে সাত মাস পর চালু হল উড়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.