টিকা সংগ্রহ ও উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

0

ঋদি হক: ঢাকা

করোনার টিকা সংগ্রহের পাশাপাশি উৎপাদনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার করোনা অতিমারি থেকে মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Loading videos...

দেশব্যাপী ও অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করা-সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান-সহ জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সক্ষমতা প্রমাণ বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, যথাসময়ে টেস্টিং কিট আমদানি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপন-সহ করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে দক্ষিণ এশিয়া-সহ অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্বের যে সব দেশ টিকাদান কার্যক্রম প্রথম দিকে শুরু করতে সক্ষম হয়, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। যথাসময়ে করোনার টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট (Serum Institute) থেকে সংগৃহীত এবং ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত মোট ১ কোটি ২ লাখ ডোজ নিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ১৮ মে পর্যন্ত দেশের চল্লিশোর্ধ্ব ও সম্মুখ সারির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে মোট ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৩১২ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে।

চিন ও রাশিয়া থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত হতে টিকা সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় এপ্রিলে ভারত সরকার টিকা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে চিন ও রাশিয়া থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।

ইতিমধ্যে চিনের সিনোফার্ম (Sinopharm) থেকে টিকা ক্রয়ের বিষয়টি মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন করা হয়েছে। জুন, জুলাই ও আগস্ট, এই তিন মাস ধরে প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে টিকা চিন থেকে পাওয়া যাবে। চিন সরকারের কাছ থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পাঁচ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে। এ সব ভ্যাকসিন প্রদানের কাজ ২৫ মে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু, WHO) কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি হতে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিকে পত্র পাঠিয়েছে। ফাইজারের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ পৌঁছেছে। সরকার রাশিয়া হতে টিকা আমদানির জন্যেও ইতিমধ্যে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মহামারি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযাগ চলছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু সংকটে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন শেখ হাসিনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.