জাল করোনা-শংসাপত্র চক্রের অন্যতম পাণ্ডা ধৃত ও চাকরি থেকে বরখাস্ত

0

ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশে করোনার জাল সার্টিফিকেট চক্রের অন্যতম পাণ্ডা ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পরই তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২৩ জুন সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরী-সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্বামীকে গ্রেফতারের পরই গা ঢাকা দেন সাবরিনা। ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালে কর্মরত থেকেও জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (জেকেজি হেলথকেয়ার) চেয়ারম্যান ছিলেন সাবরিনা, যার সিইও ছিলেন স্বামী আরিফ চৌধুরী। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে বিনামূল্যে করোনা-নমুনা সংগ্রহ সংক্রান্ত চুক্তির পর প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বিদেশি নাগরিকের বেলায় ১০০ ডলার নিচ্ছিল জেকেজি হেলথকেয়ার। 

পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার করোনা-নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইইডিসিআরের (ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ; IEDCR) মাধ্যমে আসা ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনা-নমুনার সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০টি নমুনা নিজেরাই তৈরি করে জেকেজি। একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জেকেজি হেলথকেয়ারের সিইও আরিফ চৌধুরী-সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ-সহ অন্যান্য নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। ল্যাপটপে ১৫ হাজার ৪৬০টি নমুনার জাল সার্টিফিকেট তৈরির প্রমাণ পায় পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ চৌধুরী নিজেই স্বীকার করেছেন, জেকেজির ৭-৮ জন কর্মী জাল সার্টিফিকেট তৈরি করতেন।

জানা গেছে, হাজারো চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি ডা. সাবরিনার। অবশেষে রবিবার  তাঁকে আটকের পর পুলিশের দীর্ঘ জেরায় করোনার জাল শংসাপত্র তৈরির কথা স্বীকার করেন তিনি। তেজগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রী দু’ জনে মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া শংসাপত্র বিক্রির কারবারটি বেশ জাঁকিয়ে ফেঁদেছিলেন।

আরও পড়ুন: করোনার জাল সার্টিফিকেট নিয়ে ইতালিতে ফিরে বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

এর আগে গ্রেফতার হওয়া ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া জাল শংসাপত্র নিয়ে ইতালি গিয়ে হাজারো বাংলাদেশি নাগরিক আজ চরম বিপাকে পড়েছেন।

করোনা পরীক্ষার জাল শংসাপত্র তৈরির আরেক পালের গোদা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে শিগগিরই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, “সাহেদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। শিগগির তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।”

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা ও চামড়া পাচার রোধকরণ এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ-সহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন