mothers language day dhirendranath dutta

ওয়েবডেস্ক: ২১ মার্চ ১৯৪৮, ঢাকার রেস কোর্স ময়দানে মহম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা করলেন ইংরেজি ছাড়া পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা হবে উর্দু। জিন্নাহ ঘোষণা করেন, “সবাই শুনে নিন, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা শুধুমাত্র উর্দু হবে আর অন্য কিছু নয়। যারা উর্দুর বিরোধিতা করবে, তারা পাকিস্তানের শত্রু।”

জিন্নার এই ঘোষণা ঘৃতাহুতি দিল। শুরু হল মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে এক আন্দোলন, কালক্রমে যা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে নিয়ে গেল।

জিন্নার ঘোষণার পরে বাংলাদেশের আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো ধীরেন্দ্রনাথ দত্তও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ১৮৮৬ সালে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন ধীরেন্দ্রনাথ। পড়ুয়া থাকাকালীনই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করেন তিনি। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে গান্ধিবাদী হয়ে ওঠেন এবং তৈরি করেন নিজের সংগঠন ‘মুক্তি সংঘ।’

dhirendranath-dutta taking oath
শপথ নিচ্ছেন ধীরেন্দ্রনাথ। ছবি সৌজন্যে : বিডিনিউজ২৪ ডটকম

১৯৪৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’-এ নির্বাচিত হন তিনি। কাউন্সিলের সদস্য থাকাকালীনই ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ‘কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’-এর কাছে আবেদন রেখে ধীরেন্দ্রনাথ দাবি করেন বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যদিও তাঁর সেই আবেদনে কোনো কানই দেয়নি পাকিস্তান সেটা জিন্নার ঘোষণা থেকে স্পষ্ট।

dhirendranath-dutta-stamp

এর পরেই আসে সেই অভিশপ্ত দিন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, যেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনরত আবুল বরকত, রফিকুদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বর, শফিউর রহমন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের যা প্রাথমিক বীজ হিসেবে চিহ্নিত।

ক্ষোভে ফেটে পড়েন ধীরেন্দ্রনাথ। শুরু হয় স্বাধীনতার দাবিতে তাঁর আরও এক লড়াই। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের শাসনের অবলুপ্তি চেয়ে ১৯৫৪ সালে সাংসদে মুলতুবি প্রস্তাব আনেন তিনি। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত আতাউর রহমন খানের ক্যাবিনেটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৬৫-তে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ে ধীরেন্দ্রনাথকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তবে স্বাধীনতার দাবিতে তাঁর আন্দোলন কখনোই থামেনি। এর পরেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ধীরেন্দ্রনাথ মুক্তিযুদ্ধের সূচনা দেখলেও তার শেষটা দেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর। দেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কিছু দিন আগেই ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে তাঁকে এবং তাঁর ছেলে দিলীপকুমার দত্তকে পিটিয়ে মারে পাকিস্তানি সেনা।

সৌজন্য: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন