দুর্গোৎসব বাংলাদেশে: এ বার ‘উৎসব’ নয়, শুধুই ‘পুজো’

0

ঋদি হক: ঢাকা

১৭ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ায় হল পিতৃপক্ষের সমাপ্তি। পরের দিন দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এ বার আশ্বিন ‘মল মাস’ হওয়ায় দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয়নি। সেই দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে শনিবার। মহালয়ার ১ মাস ৫ দিন পর হেমন্তের কার্তিকে ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপুজার আয়োজন।

Loading videos...

করোনা মহামারির কারণে বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শারদীয় দুর্গোৎসবের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এ বার পরিহার করা হয়েছে। এ বারের পুজায় ‘উৎসব’ শব্দটি বাদ দিয়ে কেবল ‘পুজা’য় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সবটাই করা হয়েছে মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই।

করোনা মহামারির কারণে অষ্টমীর স্নান বন্ধ। অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সীমিত আকারে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ধারণা করা হয়েছিল দুর্গোৎসব আসার আগেই হয়তো পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু তা না হয়ে বরং দ্বিতীয় দফায় থাবা বসিয়েছে করোনা। ফলে এ বারে আর ‘দুর্গোৎসব’ নয়, আক্ষরিক অর্থেই ‘দুর্গাপুজো’।

সন্ধ্যার মধ্যেই আরতি সম্পন্ন করে দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। মন্দিরে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে। শারীরিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক ব্যবহার করে ভক্তরা অঞ্জলি দিতে পারবেন। বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা হবে না। মন্দিরগুলো তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সারবে।

এ বার সারা দেশে মোট ৩০ হাজার ২৩১টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯১টি। এ বার ১ হাজার ১৮৫টি পূজা কম হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে পূজার সংখ্যা কমেছে বলে উদ্যোক্তারা মনে করেন।

কোভিড নিয়ে সচেতনতা প্রচার ঢাকার রাস্তায়।

ভক্তদের মন্দিরে যাতায়াতের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে অঞ্জলির কাজটি সম্পন্ন করার কথা বলা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে যাতে অঞ্জলি দেওয়া যায় তার ব্যবস্থাও থাকছে। এর ফলে ঘরে বসেই অঞ্জলি দেওয়া দেয়া সম্ভব হবে।

সপ্তমী তিথিতে কোভিড-পরিস্থিতি থেকে মানবজাতির পরিত্রাণলাভে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। ঐতিহ্যবাহী কুমারীপূজাও এ বারে হচ্ছে না। জনসমাগম পরিহার করতে প্রসাদ বা খিচুড়ি বিতরণ থেকেও বিরত ত্যহাকা হবে।

শনিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেত্রীবৃন্দ এ সব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি।

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নির্মলবাবু বলেন, “এ বারে শারদীয় দুর্গোৎসব থেকে ‘উৎসব’টি বাদ দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে সর্বজনীনতা। কারণ, দুর্গোৎসব বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য ও মিলনমেলায় পরিণত হয়। কিন্তু করোনা এ বার সেই সুযোগ কেড়ে নিয়েছে।”

জাতীয় পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলনকান্তি দত্ত, দফতর সম্পাদক বিপ্লব দে, ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোররঞ্জন মণ্ডল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, জে এল ভৌমিক, পূরবী মজুমদার, সুভাষ বিশ্বাস প্রমুখ ‘মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

করোনার কারণে এ বার পূজায় উৎসবের আয়োজন থাকবে না। মন্দিরে আলোকসজ্জা, বিশেষ সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ভক্তিমূলক গান ছাড়া অন্য কোনো রকম গান বাজানো যাবে না। কোনো আতসবাজি বা পটকার ব্যবহারও থাকছে না।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

রামগড়ে চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু, উন্মুক্ত হবে অর্থনীতির দক্ষিণ দুয়ার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.