করোনার জাল সার্টিফিকেট নিয়ে ইতালিতে ফিরে বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

0

ঋদি হক: ঢাকা

ইতালিতে (Italy) প্রায় দু’ লক্ষাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন। গত মার্চে করোনাভাইরাসের (coronavirus) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে সাত হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। জুনের মাঝামাঝি সময় ইতালিতে ফিরতে শুরু করেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ উড়ানে এক হাজারেরও বেশি প্রবাসী এরই মধ্যে ইতালিতে ফিরেছেন।

ইতিমধ্যে ২৬ জুন ও ৬ জুলাইয়ের দু’টি উড়ানে ইতালিতে ফেরত যাওয়া ২৯ বাংলাদেশির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ কিছু বাংলাদেশির কাছ থেকে করোনাভাইরাসের ভুয়ো সার্টিফিকেট আটক করে। এ কারণে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আর কোনো বাংলাদেশিকে ঢুকতে দেবে না ইতালি। বাংলাদেশের রিজেন্ট হাসপাতাল-সহ কয়েকটি হাসপাতাল থেকে করোনা নেগেটিভের ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে ইতালি যাওয়া প্রবাসীদের দিন কাটছে দুশ্চিন্তায়। ইতালি থেকে সর্বশেষ ফেরত পাঠানো ১৬৫ জন বাংলাদেশিও রিজেন্ট হাসপাতাল থেকেই করোনা টেস্ট করিয়েছিলেন। শুক্রবার এঁরা ঢাকায় এলে এঁদের মধ্যে ১৪৭ জনকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।     

জানা গেছে, রিজেন্টের ভুয়ো টেস্টের কারণে ইতালিতে কমপক্ষে ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির ফের করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। এতে করে তাঁদের অর্থ ও কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত টেস্ট রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে করোনা টেস্টের সার্টিফিকেট নিয়ে ইতালি ফেরেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি সপ্তাহে আরও ৮০০ বাংলাদেশির ইতালি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ইতালি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। করোনা সার্টিফিকেটের কারণে ইতালিতে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদ করিম।

ইতালি প্রবাসী কামরুল সারোয়ার বলেন, প্রথম ধাপে ইতালি থেকে যাঁরা বাংলাদেশে যান, সরকারের তরফে তাঁদের করোনা পরীক্ষা এবং কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করা হলে বিপদে পড়তে হত না। রিজেন্ট হাসপাতাল-সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সাড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ভুয়ো করোনা সার্টিফিকেট বিক্রি হচ্ছে।

এখন বাংলাদেশিদের এড়িয়ে চলছেন ইতালীয়রা। ইতালিতে ফিরে যাওয়া এক করোনা-আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশি এক রেস্তোরাঁয় কাজ করায় রেস্তোরাঁ-মালিকের দু’টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে সেখানকার প্রশাসন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে প্রশাসনের লোকজন। ইতিমধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের যে উড়ান রোমে গিয়েছিল, সেটাকে ইতালির স্বাস্থ্যকর্তারা করোনা-বোমা আখ্যা দিয়ে ১৬৫ জনকে বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়ে দেন।

ইতালিতে ফিরে যাওয়া করোনা রোগীদের অধিকাংশের ভুয়া সার্টিফিকেট ছিল রিজেন্টের দেওয়া। সে দেশ থেকে এ খবর দেয় সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। এর পরই র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) রিজেন্ট হাসপাতালে (Regent Hospital) অভিযান চালায়। তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর হাসপাতালটির উত্তরা প্রধান কার্যালয়-সহ একাধিক শাখা সিল করে দেয় প্রশাসন।

করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ নানা প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করে র‍্যাব। এঁদের মধ্যে সাহেদ করিম পলাতক। সাত জনকে গ্রেফতার করে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) আদালতে তোলা হলে সিএমএম তাঁদের পাঁচ দিনের হাজতবাস মঞ্জুর করেন। সাহেদ করিমের অন্যতম সহযোগী তারিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে শুক্রবার আদালতে তোলা হলে তাঁকেও পাঁচ দিনের হাজতবাস দেওয়া হয়।     

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সাহেদের শাস্তি হবেই। তিনি যে অপরাধ করেছেন তার শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। তিনি যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন তাঁকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ইতিমধ্যে সাহেদের প্রতিষ্ঠানটির সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হাসপাতাল চেয়ারম্যান মো. সাহেদ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন