ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভরতি ব্যক্তি এখন আগের চেয়ে ভালো

    আরও পড়ুন

    ঋদি হক: ঢাকা

    করোনাকালে নানা ধরনের আশঙ্কা পিছু ছাড়ছে না সাধারণ মানুষকে। কখনও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আবার কখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস! আতংক যে পায়ে পায়ে। ভারতে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus) আক্রান্ত হয়ে কিছু লোকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান সময়ে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একটা মহাআতংক।

    Loading videos...

    এরই মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একের পর জেলাকে লকডাউনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই ঢাকায় মাথাচাড়া দিল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। 

    - Advertisement -

    সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (Dhaka Medical College Hospital) ভর্তি ৪৫ বছর বয়সি একজনের ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে ভর্তি হন তিনি। হাসপাতালের মেডিসিন ও সংক্রামক রোগবিষয়ক প্রধান ফরহাদ উদ্দিন হাসান চৌধুরী সোমবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

    তিনি বলেন, খুলনার এই ব্যক্তি মাসখানেক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেরে ওঠার পরে মাথাব্যথা, ডান চোখে সমস্যা, সাইনোসাইটিস এবং মুখের এক পাশে ফুলে যাওয়া এবং নাক দিয়ে ঠিকমতো বাতাস নিতে কষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলো নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। তাঁর উপসর্গ দেখে চিকিৎসকেরা ফাঙ্গাল ইনফেকশন সন্দেহ করেন।

    বোর্ড গঠন

    ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও নাক-কান গলা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে ফাঙ্গাস অপসারণ করা হয়। এর পর নমুনার হিস্ট্রোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি ও কালচার পরীক্ষা করে তিনটাতেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    চিকিৎসকরা বলেন, সন্দেহ যে হেতু বেশি ছিল, তাই রিপোর্ট আসার আগেই রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। তাকে চার থেকে ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হবে। উনি যে অবস্থায় এসেছিলেন, তার চেয়ে এখন ভালো আছেন।

    স্টেরয়েডের ব্যবহার দায়ী

    জানা গেছে, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে গত মাসে নতুন করে আলোচনায় আসে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। করোনা থেকে সুস্থ হতে শুরু করেছেন অথবা সুস্থ হয়ে গেছেন এমন রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, অর্থাৎ কালো ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দেয়। মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis) নামক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চোখ হারিয়েছেন অনেক রোগী।

    ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্যাপক ভাবে এ রোগ সংক্রমণের জন্য করোনার চিকিৎসায় বেশি মাত্রায় স্টেরয়েডের ব্যবহারকে দায়ী করছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যাঁদের স্টেরয়েড দেওয়া হয়, তাঁদের মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া আগে থেকে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও করোনায় দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও দুর্বল হওয়ায় এই ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

    আরও পড়ুন: পরীমণি-কাণ্ডে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির উদ্দিন-সহ ধৃত ৫, ঢাকা বোটক্লাব থেকে বহিষ্কার

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর