kiss
ছবি সৌজন্য: এনডিটিভি

ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক অতীতে হিংসা এবং অসহিষ্ণুতা ছাড়া আর কিছু দেখেনি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পরিস্থিতি এমন জায়গাতেই গিয়েছিল যে তিন গোঁড়া শিক্ষার্থীকে বিতাড়িত করতেও বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয়। কেন না, কিছু ছাত্রছাত্রী হাত ধরে হাঁটছিলেন বলে এই তিন জন তার তীব্র প্রতিবাদ করেন, তাঁদের হেনস্থা করেন যার পরিণামে প্রতিবাদী আন্দোলনে উত্তাল হয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই যখন সোমবার বৃষ্টির মধ্যে জুটির সোহাগের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে চিত্র-সাংবাদিক জীবন আহমেদের, তিনি ছবিটা না তুলে থাকতে পারেননি। “ওরা সব কিছু ভুলে বৃষ্টির মধ্যে চুমু খাচ্ছিলেন। ঘটনাটা আমায় এমনই প্রভাবিত করে যে আমি সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা তুলতে বাধ্য হই। এর মধ্যে অশালীনতার নামগন্ধও ছিল না, ছিল কেবল বিশুদ্ধ ভালোবাসা। তা ছাড়া, আমি ছবিটা তোলার পরে আমি ঘটনাটা জানিয়ে ওই জুটির কাছে তা ব্যবহারের অনুমতিও চেয়ে নিই। পাঠিয়ে দিই আমার অফিসে। কিন্তু সম্পাদক জানালেন- এই ছবি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে, তাই তা ছাপা যাবে না”, জানাচ্ছেন আহমেদ।

আরও পড়ুন: ভারতীয়দের জন্য ভিসার নিয়ম শিথিল করার পথে বাংলাদেশ

সম্পাদক ছাপতে নারাজ হওয়ায় ছবিটা নিজের ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশ করেন তিনি। এর পরে ঘটনা এগোতে থাকে দ্রুত। “মঙ্গলবার আমি প্রচুর ফোন পাই। কেউ প্রশংসা করেছেন, কেউ বা তীব্র নিন্দা। যদিও কোনো সহকর্মীই বিরোধিতা করেননি। অথচ বুধবার কিছু না জানিয়ে, কোনো কারণ না দর্শিয়েই আমার আইডি কার্ড এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করল অফিস, আমাকেও বরখাস্ত করা হল চাকরি থেকে”, দাবি চিত্র-সাংবাদিকের।

ঘটনাকে ঢাকার সাংবাদিক মহলের অনেক উপরতলার ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রমণ বলেই মনে করছেন। পূর্বপশ্চিমবিডি নামের সংবাদ পোর্টালের সম্পাদক খুজিস্তা-নূর-এ-নাহারিন অন্তত তেমন দাবিই তুলেছেন। “এত ভালো এক ছবির জন্য সম্পাদক মহলের যে কেউ আহমেদের পিঠ চাপড়াবেন! তাই মনে হয় যা হয়েছে, সেটা ব্যক্তিগত আক্রোশের জায়গা থেকে”, বলছেন তিনি। পাশাপাশি আহমেদ জানাচ্ছেন, সহকর্মীরাও রয়েছেন তাঁর পাশে, সবাই তাঁকে আইনি পথে এর মিটমাটের সুপরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু লোকচরিত্র বলছে অন্য কথাই! বাংলাদেশের নিউজ ১৮ পোর্টালের পরিবেশিত খবর বলছে, আহমেদের ছবি দেখে এক ব্লগার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এ বার না পথে প্রকাশ্য মৈথুন চোখে পড়ে! খবর বলছে, লোকবিক্ষোভের মুখে ছবিটাও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে দিতে বাধ্য হয়েছেন আহমেদ। দেখা যাক, চাকরিটা এ বার তিনি কবে পান- সে পুরনো অফিসেই হোক বা নতুন কোথাও!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here