করোনা-বন্দি ঢাকার ঐতিহাসিক রথযাত্রা হল না, ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

0
ঢাকার ইসকন মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।

ঋদি হক: ঢাকা

করোনার অতিমারিতে পর পর দু’ বছর বন্ধ থাকল ঐতিহাসিক রথযাত্রা। ঢাকার ইসকন মন্দিরের রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে থাকত সাজো সাজো রব। দূরদূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত এসে হাজির হতেন পুরানো ঢাকার স্বামীবাগে।

Loading videos...

মন্দিরপ্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত ব্রহ্মচারীরা। সদর দরজা থেকে ব্যারিকেড দিয়ে পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রার্থনার বিশাল জায়গায় চারি দিকে রশি টেনে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী। দৈহিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রভুর প্রার্থনায় ভক্তরা যাতে যোগ দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এ বার দুনিয়াজোড়া অতিমারি করোনার কারণে মন্দির চত্বরেই সীমাবদ্ধ রইল রথযাত্রা।

রথযাত্রার তৃতীয়ার তিথি আরম্ভ হয়েছে সোমবার সকাল ৮টা ২১ মিনিটে। শেষ হবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে এমনই তথ্য দেওয়া রয়েছে।

অন্য পঞ্জিকা অনুযায়ী সোমবার সকাল ৭টা ২০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয়ার তিথি। শেষ হবে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে। উল্টোরথ রয়েছে ১৯ জুলাই অর্থাৎ ২রা শ্রাবণ।

স্বামীবাগের ইসকনের রথযাত্রা

স্বামীবাগের রথযাত্রায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ। শুধু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষই নন, নানা জাতি-ধর্মের মানুষ ছুটে আসেন এই প্রার্থনালয়ে। কোনো গোষ্ঠীর নয়, মানুষের জন্য দেবালয়ের দরজা সকাল-সন্ধ্যা খোলা। এটি ঢাকার ঐতিহাসিক স্বামীবাগ ইসকন মন্দির নামেই খ্যাত। শত বছরের পুরোনো। বিশাল এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। এখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ (১৮৯৬-১৯৭৭) সংক্ষেপে শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তি রয়েছে।

স্বামীবাগ ইসকন মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের হয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ প্রদক্ষিণ করে পৌঁছোত জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে। রথযাত্রার দীর্ঘ পথে থাকত কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।   

ফিরতি রথযাত্রার আয়োজনটাও থাকত ব্যাপক। কিন্তু দু’ বছর করোনার অতিমারির কারণে রথযাত্রা বন্ধ। হাজারো ভক্ত প্রভুর মন্দিরের বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলে চলে যান।

গত বারের মতো এ বারেও নিয়ম মানার রথযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে মন্দিরের ভেতরেই, যদিও বর্ণাঢ্য রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথদেবের রথ সাজানো হয়েছে সুচারু ভাবে। 

ইসকনের তত্ত্বাবধানে এখানকার কালীমন্দির, শিবমন্দির-সহ বেশ কয়েকটি মন্দির পরিচালিত হয়ে আসছে। দুস্থদের সেবায় ইসকনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মসভা ও প্রচারের কাজে ৯টি নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। মানবকল্যাণে ইসকনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: ‘লোকারণ্য’ বা ‘মহাধুমধাম’ নেই এ বারও, ভক্তসমাগম ছাড়াই রথযাত্রায় মেতেছে পুরী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন