ঋদি হক: ঢাকা

এ বার নিয়ে টানা চার বার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে (UN General Assembly) রোহিঙ্গাদের (Rohingya) বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাব গৃহীত হল। রাষ্ট্রপুঞ্জে বাংলাদেশের (Bangladesh) স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে বিপুল ভোটে চতুর্থ বারের মতো প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

Loading videos...

মায়ানমারের (Myanmar) রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার বিষয়ক প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপুঞ্জ ধারাবাহিক ভাবে সমর্থন করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (Permanent Representative) রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা (Rabab Fatima)।

রাবাব ফাতিমা।

ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ ভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। আর এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান ১০৪টি দেশ। প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তৃতা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে জার্মানির স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ওআইসি’র পক্ষে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি। মায়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন-সহ নানা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন। রাষ্ট্রপুঞ্জে গৃহীত প্রস্তাবটি বাংলাদেশের প্রতি বিপুল সংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও অকুণ্ঠ সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের সাময়িক আদেশ, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের তদন্ত শুরুর বিষয় এবং রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘুদের মায়ানমারের জাতীয় নির্বাচন-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অব্যাহত ভাবে বঞ্চিত করার মতো নতুন বিষয়গুলো উঠে এল এ বারের প্রস্তাবে।

চতুর্থ বারের এই প্রস্তাবটিতে মায়ানমারকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান-সহ সমস্যাটির মূল কারণ খুঁজে বের করা, প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও আশ্রয়দানের ক্ষেত্রে যে অনুকরণীয় মানবিক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে প্রস্তাবে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বড়ো আশ্রয়শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রচেষ্টার স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে গৃহীত বিভিন্ন মানবিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অব্যাহত ভাবে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে, যা নিহিত রয়েছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানকে প্রস্তাবটি জোরদার করবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণকাণ্ডে আসামির যাবজ্জীবন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.