নয়াদিল্লি: এখনই যদি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুঁজে না বের করা হয় তা হলে ভারতের উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এ রকম ভাবেই ভারতকে সতর্ক করলেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সঈদ মুয়াজ্জেম আলি।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন আলি। বাংলাদেশ যে ভারতের কাছে এই সমস্যার ব্যাপারে অনেক কিছু প্রত্যাশাও করে সে কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতের উচিত মায়ানমার সরকারকে চাপ দেওয়া যাতে রোহিঙ্গাদের নিজের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্ধ করা যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মায়ানমার যাতে গ্রহণ করে সে ব্যাপারেও মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথা বলেন তিনি।

গত দু’দশকে প্রায় চার লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। গত পনেরো দিনে সেই সংখ্যাটা দিগুণ হয়ে গিয়েছে বলে জানান আলি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মহলের কোনো কথা না-শোনা মায়ানমার একমাত্র ভারতের কথাই শুনতে পারে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশে ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত
বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশসচিব আলি বলেন, “আমি আমাদের গোটা অঞ্চলের ব্যাপারে চিন্তিত। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। উত্তরপূর্ব ভারতের নিরাপত্তাও কিন্তু বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি হাত মিলিয়েছে কি না, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর দিতে চাননি আলি। তবে তিনি বলেন, উপমহাদেশকে অস্থির করে তোলা বিভিন্ন সংগঠনগুলি রোহিঙ্গাদের কাজে লাগাতে পারে।

গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপরে হামলা চালায় রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠন। সেই কথা প্রসঙ্গে আলি বলেন, সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে সে জন্য মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ। ২৫ আগস্টের হামলার ব্যাপারে মায়ানমারকে ভারত এবং বাংলাদেশ আগে থেকেই সতর্ক করেছিল বলে জানান আলি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে আলি বলেন, “ভারত, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার বিমস্টেকের সদস্য। ভারতের সঙ্গে মায়ানমারের সম্পর্কও ভালো। তাই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত ভারতের।” এই সমস্যার সমাধানসূত্র একমাত্র মায়ানমারের মধ্যে থেকেই বেরোতে পারে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলিকে নিয়ে তৈরি গোষ্ঠীকেই বলে বিমস্টেক।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল কোফি আন্নানের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা কমিটি যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে প্রস্তাবও মায়ানমারের মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বিদেশসচিব জয়শংকরের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরেই যে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত, সে কথাও উল্লেখ করেন এই রাষ্ট্রদূত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here