বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আগামী শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, ওই দিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলিতেও বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হবে। ভাষণে তিনি শহীদ হাদির আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে জানান, শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও তাঁর একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। সরকারের তরফে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। শাহবাগ এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন হাদি। ইউনূস সরকারের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের এক কর্মী তাঁর মাথায় গুলি করেন।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদি গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। এর পরেই ইনকিলাব মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছিল, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাদি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা নতুন করে অস্থিরতা ও উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিল।


