এ বারে ‘ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট’ তৈরি করতে উদ্যোগী হচ্ছেন শেখ হাসিনা

    আরও পড়ুন

    ঋদি হক: ঢাকা

    বাংলাদেশের উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী উচ্চারণে দেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, যে নেতা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু গড়েছেন, বিশ্বমানের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করে চলেছেন, কানেক্টিভিটিতে ছুঁয়েছেন মাইলফলক, সেই নেতার উচ্চারণে বাংলার মানুষ যে সাহসী হয়ে ওঠে। তাঁরা সমকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, জয় হোক শেখ হাসিনার। তিনি যেমন অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছেন, তেমনই উত্তাল সমুদ্রের বুকে গভীর বন্দর এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করতে চলেছেন।

    Loading videos...

    শুধু কি তাই? রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, মেরিনড্রাইভ রুট, মহাকাশে স্যাটেলাইট এবং জলের তলায় সাবমেরিন –  সবই তো এসেছে শেখ হাসিনার হাত ধরে। বাংলার সেই মুখ শেখ হাসিনাই তো পারেন ‘ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করতে।

    - Advertisement -

    সব কিছুকে হারিয়ে, পাহাড়সম ব্যথাকে সঙ্গী করে, দেশের উন্নয়নে এবং মানবকল্যাণে যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, সেই শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে অনেক মা-বোন নফল নামাজ আদায় করেন। বঙ্গবন্ধুর পর তিনিই তো মানবমুক্তির দূত হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের ঝান্ডা উড়িয়ে চলেছেন বিশ্বময়।

    পদ্মাসেতু।

    শেখ হাসিনার ঘোষণা  

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের (Awami League) ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ‘ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট’ (vaccine institute) গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন।

    এ সময় তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য গবেষণা করা হচ্ছে। এই জন্য ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে, যাতে টিকা নিয়ে আমরা গবেষণা করতে পারি, নিজেরাই যাতে টিকা তৈরি করতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল তৈরি করা দরকার। তার জন্য ইনস্টিটিউট তৈরি করব। আমরাও যাতে ভবিষ্যতে টিকা তৈরি করতে পারি, তার জন্য যা যা দরকার সব ব্যবস্থা করব। সেই পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা  

    বুধবার আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনাভাইরাসের টিকা যখন গবেষণা পর্যায়ে ছিল, তখন প্রতিটি জায়গায় যোগাযোগ করেছি, কোথায় পাওয়া যায় টিকা। পৃথিবীর অনেক দেশই টিকা দিতে পারেনি এখনও। আমরা কিন্তু টিকা নিয়ে এসে দেওয়া শুরু করেছি। ভারতে যখন মহামারি আকারে শুরু হল, তখন তারা টিকা রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা আবার টিকা কেনা শুরু করেছি।”

    বাংলাদেশের সাবমেরিন।

    হাসিনা বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে করোনার টিকা যাতে পৌঁছে যায়, তার ব্যবস্থা আমরা পর্যায়ক্রমে নিচ্ছি। আমার খুব দুঃখ লাগে যাদের আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগেভাগে টিকা দিয়েছি, তাঁরাই এখন দুই ডোজ নেওয়ার পর সমালোচনা করেন। অথচ তাঁরাই সবার আগে নিয়েছেন। তাঁদের আবার বড়ো বড়ো সমালোচনার কথা। একে গালি, ওকে গালি দেন। আমরা শুনি। এটাই অবাক লাগে। কিন্তু তাঁরা যখন নিয়েছিলেন তখন তো এ কথা বলেননি। এখন আবার সমালোচনা কেন?”

    হাসিনা আরও বলেন, “বিশ্বের পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে। যে টিকা আমরা ৪ ডলারে কিনেছিলাম, এখন তা ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সামনে হয়তো আরও বেশি দাম হবে। আমরা তো আগেই টাকাপয়সা দিয়ে সব চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিক বিষয়। যাঁরা সমালোচনা করেন, তাঁদের বলব একটু ধৈর্য ধরুন। তার পর দেখেন আমরা কতটুকু কী করতে পারি। তার পর সমালোচনা করেন।”

    ‘সব চেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন আমি’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনাভাইরাস আমাদের সকলের জীবনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে। সব চেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি বোধহয় আমি। এর কারণে আমি না পারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছিলাম বলেই আজ আপনাদের সামনে বসতে পেরেছি। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার সুযোগ পাই, বা রাষ্ট্রের কর্মসূচি পালন করার সুযোগ পাই।”

    হাসিনা আরও বলেন, “করোনাভাইরাস আমাদের যথেষ্ট কষ্ট দিচ্ছে। সারা বিশ্বে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এক দিকে অর্থনৈতিক গতিটা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। যদিও এতে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তার পরও যে লক্ষ্যটা ছিল সেটা হয়তো পূরণ করতে পারিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সব থেকে ভালো আছে এবং থাকবে।”

    ‘উন্নয়ন কোনো ম্যাজিক নয়’

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের উন্নয়ন কোনো ম্যাজিক নয়। এটা আমাদের পরিকল্পনা, দর্শন ও আদর্শ। আমরা গ্রামের মানুষকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি বলেই আজ ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করছি, এগিয়ে যেতে পারছি।

    আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গণভবন  থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

    আরও পড়ুন: বাংলাদেশে নতুন করে সংক্রমিত ৫৭২৭ জন, সংক্রমণের হার ২০.২৭%

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর