শ্রদ্ধা ভালোবাসায় গণনায়ককে স্মরণ, বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবসে মানুষের ঢল

0
মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঋদি হক: ঢাকা

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর (32 Dhanmandi) বাড়িটি আজ ইতিহাসের অংশ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের (Bangladesh) স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman) সপরিবার হত্যা করা হয় এখানে।

বাড়িটি এখন বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। বাড়িটির দক্ষিণ পাশে ধানমন্ডি লেক। লেকের তীরে জাতির জনকের প্রতিকৃতি। প্রতিনিয়ত লেকের জল ছুঁয়ে আসা শান্ত বাতাস প্রতিকৃতির ধুলোবালি মুছে দিয়ে যায়। হালকা বাতাসে ঝিরঝির বয়ে চলা শান্ত-মোলায়েম ঢেউ। এক দণ্ড দাঁড়িয়ে থাকলে যে কারও প্রশান্তি অনুভূত হবে। লেকের সামনের দোতলা বাড়িটির ব্যালকনিতে ইজিচেয়ারে বসা চোখে পুরো লেন্সের চশমা, মুখে পাইপ আর হাতে সংবাদপত্র। তাঁর চোখ খবরের কাগজের পাতা নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে তাঁর সঙ্গী লেকের বাতাস, পথচারীর চোখ। পথচারী হাত উঁচু করে বলেন, ওই তো বঙ্গবন্ধু। তিনি ছিলেন, বাংলার গণনায়ক। মানুষের মুক্তিদূত।

এ দিন প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ ঘটে সর্ব স্তরের মানুষের। শনিবার সকাল থেকেই মহানগরীর এবং আশেপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে থাকে ৩২ নম্বর অভিমুখে। সামনে ব্যানার। তাজা ফুলের রিং। এর সঙ্গে মিশে আছে মানুষের হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা। একাধিক কর্মী বড়ো আকারের ফুলের রিংটি পরম মমতায় আগলে রেখেছেন। নারীপুরুষের দীর্ঘ লাইন। গরমেও কোনো বিরক্তিবোধ নেই। প্রতিকৃতির বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর কষ্ট দূর হয়। ব্যথিত মনে একটা প্রশান্তির আমেজ নিয়ে ঘরে ফেরেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধার্ঘ্য

শোকাবহ এই দিনে সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Prime Minister Sheikh Hasina)। পরে তিনি বনানী কবরস্থানে মা, ভাই ও স্বজনদের সমাধিতে যান। সেখানে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন এবং স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও প্রার্থনা করেন। দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ  সশস্ত্র বাহিনীর বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।  জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত ভবনটিতে যান (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) এবং কিছু সময় অবস্থান করেন। এখানেই ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের বর্বরতম এক হত্যাযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছিল।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

বাংলাদেশের জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মনির খান ‘খবর অনলাইন’কে বলেন, ৭৫’র এই দিনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীর মদতে  একদল বিপথগামী সেনাকর্তা জাতির জনককে সপরিবার হত্যা করে। সৌভাগ্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোটো বোন রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

তিনি বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সচল করতে বঙ্গবন্ধু দিনরাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বর্বর হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। তবে আমরা শান্তি পাই এই ভেবে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার ঘাতকদের কয়েক জনের সর্বোচ্চ শাস্তি আদায় করতে পেরেছেন।  

শ্রদ্ধা জানাতে আসা নেতাকর্মীরা বলেন, শোকাবহ এই দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ অসম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তোলাই তাঁদের প্রত্যয়। একটি দেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার চার বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে পাষণ্ডরা। সেই ঘটনায় থেমে যায় বাংলার গতিশীল উন্নয়নের ধারা। ২১ বছর পর তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সরকার গঠন সুযোগ পান নির্বাচনের মাধ্যমে। তখন থেকেই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁরই চেষ্টায় লাঙ্গর-জোয়ালের দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ। তাক লাগানো উন্নয়ন।

বিদেশমন্ত্রীর শ্রদ্ধা অর্পণ।

বিদেশমন্ত্রকের বঙ্গবন্ধু কর্নারে

জাতীয় শোক দিবস (National Mourning Day) উপলক্ষ্যে বিদেশমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বিদেশমন্ত্রকের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিদেশমন্ত্রী। এ ছাড়া বিদেশমন্ত্রকের মসজিদে দোয়া মাহফিলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার শান্তি কামনায় ও দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করা হয়। এ সময় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম ও বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন