ঋদি হক: ঢাকা

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দুয়ারে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সামনে সোনালি ভবিষ্যতের হাতছানি। সেই উদযাপনের সূচনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। কেবলই সামনে এগিয়ে যাবার পালা। সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।”

বুধবার ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। ওই দিন বিকালে রাজধানীর ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর তথা জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীমঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

স্বাধীনতার অর্ধশতক পরেও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যে সক্রিয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদের প্রতিহত করে দেশকে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”

অপতৎপরতা রোখার ডাক

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি এখনও দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক্ষার প্রহরের আজ অবসান হতে চলেছে। আজ এমন এক সময়ে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, যখন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।

উন্নয়নের ছবি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় সম্মানজনক ২ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবং  দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। আর্থ-সামজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এই প্রাপ্তি। এ জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, তারা আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলে।”

বাংলাদেশ এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে তাকে সহজে নামানো যাবে না, এই মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মহামারিও সফল ভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে।

‘মুজিব চিরন্তন’

বুধবার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুরু হল ‘মুজিব চিরন্তন’। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশ এবং বিদেশে বিশেষ কর্মসূচির আজ সূচনাপর্ব। তবে উৎসব ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা শুভেচ্ছাবাণী পাঠিয়েছেন। এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশবাসীর পক্ষ হতে তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতার সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরে বলেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চের এই দিনে তাঁর বাবা টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন। পিতা শেখ লুৎফুর রহমান এবং মাতা শেখ সায়রা খাতুনের কোল আলো করে যে শিশুর এই ধরিত্রীতে আগমন ঘটে, সেই শিশুই আলো জ্বালিয়েছিলেন বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনে। এনে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা।

প্রধানমন্ত্রীর সালাম

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার-নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানান। 

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, শেখ হাসিনা বলেন “বাঙালির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মাতৃভাষার মর্যাদা অর্জনের যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, সে ধারাবাহিক সংগ্রামের সাফল্যের ফসলই আমাদের স্বাধীনতা।”

স্বাধীনতার পর দেশ গড়তে জাতির পিতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং যুদ্ধ-পরবর্তী দেশ গড়ার কাজে যে সব বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং নেতা বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।

আরও পড়ুন: জলপথে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিল বাংলাদেশের প্রথম খাদ্যচালান

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন