প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক এলাকা। প্রতীকী ছবি: এপি/টিআরটিওয়ার্ল্ড-এর সৌজন্যে

সিলেট: বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বাংলাদেশে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্রের জল। এ ছাড়া দুধকুমার-সহ ১৪টি নদনদীর জল বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছে। মৃত্য হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জনের।

প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে বন্যা একটি নিয়মিত বিপদ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জলবন্দি ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ

গত সপ্তাহ থেকে অবিরাম বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলি থেকে দুর্ভোগের শিকার পরিবারগুলিকে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর সাহায্য়ও নেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের ত্রাণের জন্য স্কুলগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে তাৎক্ষণিক আশ্রয়কেন্দ্র। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলবিবাজার, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যার কারণে শুক্রবার সিলেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

সিলেট অঞ্চলের প্রধান সরকারি প্রশাসক মোশাররফ হোসেন সংবাদ সংস্থাকে জানান, শুক্রবার বিকেল থেকে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে সাময়িক স্বস্তির পর ফের শনিবার সকালে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুরো অঞ্চল বিদ্যুৎ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বেগে জল ঢুকছে। এতে অনেক উঁচু এলাকাও এখন প্লাবিত হয়ে পড়ছে। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টার মধ্যে নতুন করে নগরের অন্তত ২৫টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নাঞ্চল ও নদ-নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী চরাঞ্চলের মানুষ। অনেক পরিবার নৌকা ও বাঁশের মাচায় আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বসতবাড়ি জলের তলিয়ে যাওয়ায় শুকনো খাবার ও পানীয় জল সংকট দেখা দিয়েছে। নিজেদের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যসংকট নিয়েও বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কী ভাবে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েই চিন্তিত তারা।

উত্তরপূর্ব ভারতে বৃষ্টি, আশংকা আরও বাড়াচ্ছে

এরই মধ্যে গভীর আংশকার কথা শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বে অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গেই আগামী দু’দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিও আরও খারাপ হতে চলেছে। ভারতের মেঘালয় ও অসমে বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও দেশের মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে। কারণ সে সব এলাকায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে, নদীগুলোর জল আরও বাড়তে শুরু করেছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ, ভারতের অসম, মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ সব জল বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সাগরে নামে। যার ফলে সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

আরও পড়তে পারেন:

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বর্ষার আগমন, সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন