Bangladesh Lockdown: দেশ জুড়ে কঠোর লকডাউন, পথে পথে তল্লাশি চৌকি, মুভমেন্ট পাশ ছাড়া চলাচল বন্ধ

0

ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী রমজান। একই দিনে দিনে পয়লা বৈশাখও। দু’টোই বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাৎপর্যময়। আর এই দিনেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। বিনা পাসে কাউকে রাস্তায় চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের গাড়িও তল্লাশির বাইরে যায়নি।

Loading videos...

যাঁরাই রাস্তায় যাতায়াত করেছেন, তাঁদের কাছে চাওয়া হয়েছে পাস। যাঁরা পাস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন কঠোরতার মুখোমুখি ঢাকাবাসী আগে কখনও হয়েছে বলে জানা নেই।

যে কোনো মূল্যে এ বারের লকডাউনের সাফল্য ঘরে তুলতে চায় হাসিনা সরকার। এর আগে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত লকডাউন কার্যত ছুটির আমেজে কেটে গিয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা পরামর্শ তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলেছেন, ১৪ দিন পর্যন্ত মানবদেহে লুকিয়ে থেকে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম করোনাভাইরাস। কমপক্ষে দু’ সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ছাড়া করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোখা সম্ভব নয়।

অবশেষে বুধবার থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের পথেই হাঁটল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ভোর থেকেই ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় ছিল পুলিশের তল্লাশি। প্রয়োজনীয় কাজে কাউকে বের হলে লাগছেই মুভমেন্ট পাস। বিনা পাসে কাউকে রেয়াত করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছুটির আমেজের গেল সপ্তাহের লকডাউন এ বারে অতীত। এ বারের লকডাউনে অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ, ট্রেন ও নৌযান, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়ান বন্ধ। পণ্যপরিবহণের জন্য রেল ও লরি চলাচল করছে সীমিত সংখ্যায়।

৯৬ জনের মৃত্যু

লকডাউনের প্রথম দিনেই ৯৬ জনের মৃত্যুর হয়েছে। আপাতত এটাই করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৮৭ জন। একই সময়ে ২৪ হাজার ৮২৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ১৮৫ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। দৈনিক আক্রান্তের হার দাঁড়িয়েছে ২০.৮৯।

লকডাউনে শুনশান ঢাকা নগরী.

করোনা সংক্রমণের ৪০৩তম দিনে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বার্তায় এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৩ হাজার ১৭০ জনের করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯৯ জন। 

ম্রিয়মাণ পুরাতন ঢাকা

লকডাউনে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সবাইকে বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে। এ বারে পয়লা বৈশাখের অন্যতম অনুষ্ঠান মঙ্গলশোভা যাত্রা হয়নি। আয়োজন সীমাবদ্ধ ছিল টিভির পর্দায়। বাংলা নববর্ষের দিনটিকে ঘিরে বরাবরই রঙিন হয়ে উঠত পুরাতন ঢাকার ব্যবসা-প্রধান এলাকা। কিন্তু এ বারে করোনা রুখতে জীবনখাতা থেকে সব কিছুই বাতিল করা হয়েছে।

যেখানে মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া, সেখানে নববর্ষ এবং হালখাতা দূর অতীত। অথচ রাজধানীর পুরাতন ঢাকার ইসলামপুর, শ্যামবাজার, তাঁতীবাজার, শাঁখারিবাজারের জুয়েলার্স ও অলংকার তৈরির কারখানা, চকবাজার, মৌলভীবাজার, লালবাগ, নিউমার্কেট ইত্যাদি ব্যবসা প্রধান এলাকায় পয়লা বৈশাখে থাকত সাজো সাজো রব। ফুল দিয়ে সাজানো হত দোকান।

ছাপানো হত বহু রঙের আমন্ত্রণপত্র। বাহারি আয়োজনে সে কী উল্লাস! পুরোনো হিসেব চুকিয়ে শুরু হত ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার পালা। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর হালখাতার অনুষ্ঠান করতে পারেননি পুরাতন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। এ বারেও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বৈশাখের অনুষ্ঠান-সহ সব বন্ধ হওয়ায় হালখাতার ছাপও বন্ধ।

আরও পড়ুন: Bangladesh Lockdown: সর্বাত্মক লকডাউন বাংলাদেশে, চলবে পার্সেল ট্রেন, ব্যাঙ্ক রোজ তিন ঘণ্টা খোলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.