student protest
ঢাকায় ছাত্রবিক্ষোভ। ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা : তিনদিন ধরে পথে ছাত্ররা। বা সচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাজধানী ঢাকার শহবাগ, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, রামপুরা, বনশ্রী, খিলক্ষেত, ভটরা, মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তাগুলি দখল করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

এই বিক্ষোভে কার্যত অবরুদ্ধ হয়েছে রাজধানী এবং তার আপেপাশের এলাকা। বেশিরভাগ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল করছে না। যানবাহন না পেয়ে অনেককেই হেঁটে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। এই বিক্ষোভ আন্দোলনের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

ছাত্রদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং সড়কে লাইসেন্স, রুট পারমিটবিহীন যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। পথ নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরাই নিজেরাই গাড়ি দাঁড় করিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা করে। ছাত্রদের একাংশের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচূরেরও অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে, বুধবার সচিবালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলেন।  তিনি আশ্বাস দিয়ে বলে তাদের সব দাবি মানা হবে।

আরও পড়ুন : বর্জিতদের বাংলাদেশে ঠেলতে হলে যোগ্য প্রমাণ দিতে হবে: দাবি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ৩ দিনে ৩০৯টি গাড়ি ভাঙা হয়েছে পোড়ানো হয়েছে ৮টি গাড়ি। তিনি বলেন, ‘‘এই যে আমার কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা অবরোধ করছে। একে কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল নতুন করে জ্বালাও-পোড়াও ও গাড়ি ভাঙছে।’’

ঢাকার রাস্তায় লাইসেন্স ও পারমিটবিহীন গাড়ি রুখতে বিশেষ আইন আনা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

গত রবিবার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে একটি পরিবহন সংস্থার বাসচাপায় শহিদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। এই ঘটনার পরই প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে পথে নেমে আসা শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ যাতে কোনো বল প্রয়োগ না করে তারজন্য নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জমান মিয়া। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীকে পিষে মারার ঘটনায় যুক্ত জাবালে নূর পরিবহন সংস্থার দুটি বাসের লাইসেন্স ও রুটপারমিট বাতিল করা হয়েছে। লাইসন্সেবিহীন চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে বুধবার সকাল থেক অভিযান শুরু হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here