মন্দিরের সেবায়েতকে কুপিয়ে খুন ঝিনাইদহে

0

খবর অনলাইন: পুরোহিত খুনের এক মাসের মধ্যে ফের খুন ঝিনাইদহে। এ বার মন্দিরের সেবায়েত।

শুক্রবার ভোরবেলায় মন্দিরে ফুল তোলার সময় খুন হলেন শ্যামানন্দ দাস বাবাজি। তিন জন দুর্বৃত্ত মোটর সাইকেলে এসে মধুপুরের কাস্টসাগরা গ্রামের শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল বিগ্রহ মঠের সেবায়েতকে কুপিয়ে চলে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবাজির বাড়ি নড়াইল সদর উপজিলার মুসুরিয়া গ্রামে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, সেবায়েতকে খুনের প্রত্যক্ষদর্শী আছে, সুতরাং অপরাধীদের শীঘ্রই ধরা সম্ভব হবে।

সদর থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মঠ পরিচালন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মণিকুমার রায় জানান, গত তিন বছর ধরে মন্দিরে সেবায়েতের কাজ করছিলেন শ্যামানন্দ দাস বাবাজি। পূজাপাঠে সব সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। বাইরে যাওয়া-আসা খুব কম ছিল। সম্প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর যে হামলাগুলো হয়েছে, তার সঙ্গে এই হামলারও মিল রয়েছে বলে জানান মি. রহমান। ৭ জুন এই ঝিনাইদহেই আনন্দগোপাল গঙ্গোপাধ্যায় নামে আরেক জন পুরোহিতকে একই ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

গত কয়েক বছরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর একই ভাবে মোটরসাইকেলে করে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা বা আহত করার প্রায় অর্ধশত ঘটনা ঘটেছে। আল কায়দার বাংলাদেশ শাখা বা আইএসের নামে ইন্টারনেটে বার্তায় বেশির ভাগ হামলার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের দাবি, দেশে এ সব সংগঠনের কোনও অস্তিত্ব নেই।

গত মাসেই বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি-বিরোধী অভিযানে নেমে অন্তত ১৪ হাজার লোককে গ্রেফতার করে। কিন্তু এই জঙ্গি-বিরোধী অভিযানে যে বিশেষ লাভ হয়নি, শুক্রবার ঝিনাইদহের হত্যাকাণ্ডই তার প্রমাণ। অভিযোগ, যাদের ওই অভিযানে ধরা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই সাধারণ দুষ্কৃতী, ইসলামিক জঙ্গি নয়।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন