ঢাকার রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা, হত ২ জন পুলিশ অফিসার-সহ ৭, জখম ৪০

0

খবর অনলাইন: রাজধানী ঢাকার গুলশন এলাকার এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় হামলা চালাল এক দল বন্দুকবাজ। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ৮-১০ জন বন্দুকবাজের একটি দল রেস্তোরাঁয় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। কিছু ক্ষণ পর পুলিশ এলে বন্দুকবাজদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। গুলিতে দু’ জন পুলিশ অফিসার প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০ জন। ওই রেস্তোরাঁয় অন্তত ২০ জনকে পণবন্দি করে রাখা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ঢাকায় কর্মরত তাদের সব কর্মী নিরাপদে রয়েছেন। শনিবার সকালেও জঙ্গিদের সাথে পুলিশের গুলির লড়াই চলছে।

আইসিস-এর মিডিয়া শাখা ‘আমাক’-এর তরফে দাবি করা হয়েছে, তারাই এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। তবে ঢাকার কোনও সরকারি সূত্র থেকে এই দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি। আইসিস-এর এই দাবি যদি সত্যি হয়, তা হলে এটাই হবে বাংলাদেশে এই গোষ্ঠীর তরফে প্রথম সব চেয়ে বড়ো  সন্ত্রাসবাদী হামলা। বাংলাদেশ সরকার এত দিন আইসিস-এর কোনও তৎপরতার খবর অস্বীকার করে এসেছে।

গুলশন এলাকার ওই অভিজাত রেস্তোরাঁর নাম হোলি আর্টিসান বেকারি। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে অতি পরিচিত রেস্তোরাঁ। সন্ধে থেকেই ভিড় লেগে থাকে। এ দিনও তাই ছিল। রাত পৌনে ৯টা নাগাদ হঠাৎ বন্দুকবাজেরা ঢুকে পড়ে। রেস্তোরাঁর এক কর্মচারী সুমন রেজা কোনও রকমে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। তিনি স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলকে বলেন, তাঁরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ গোলাগুলির আওয়াজ। পিৎজা বানানোর যে কিচেন তার সামনে দু’ জন লোককে দেখতে পান। ওখান থেকেই প্রথম অ্যাটাক শুরু হয়। তিনি কোনও রকমে ছাদে এসে সেখান থেকে লাফ দিয়ে নিরাপদ জায়গায় আসতে পেরেছেন।

রাত ৯টা পাঁচ নাগাদ পুলিশ জঙ্গি হামলার খবর পায়। গুলশনের পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আশরাফুল করিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গুলশন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে জঙ্গিরা গুলি এবং বোমা ছুড়ে মারে। শুরু হয় বন্দুক-যুদ্ধ। সাড়ে ৯টা নাগাদ গোলাগুলিতে আহত হন বনানী থানার ওসি মহম্মদ সালাউদ্দিন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সওয়া ১১টা নাগাদ তিনি মারা যান। গোয়েন্দা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শেখ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, বন্দুকবাজদের গুলিতে গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রবিউল ইসলাম নিহত হয়েছেন। ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোমা ও গুলিতে জখম ৩০ জন পুলিশ ওই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পুলিশ, র‍্যাব এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস গোটা ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের লক্ষ্য জঙ্গিদের হাত থেকে সব মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে ৫ জনের দেহ পাওয়া গেছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

ছবি: সৌজন্যে রয়টার্স

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন