করোনা-কামড়ে বাংলাদেশে বিপাকে আম-চাষিরা, ৫০০ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা

0
আম-চাষিরা

ঋদি হক: ঢাকা

প্রায় দেড় বছর হতে চলল করোনা প্রাদুর্ভাবের। এরই জেরে সারা পৃথিবী জুড়েই অর্থনৈতিক জীবনে এসেছে ঝড়। ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও   ব্যবসায়িক অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।

Loading videos...

গত এক মাস ধরে দেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনার একটা অংশ, বাগেরহাট ইত্যাদি সীমান্তবর্তী এলাকায় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে গিয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে আমের মরশুমে বাংলাদেশ রেলের ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ বন্ধ রয়েছে। তা ছাড়া আমের রাজধানী রাজশাহীর সঙ্গে সড়ক ও ট্রেন চলাচলও স্থগিত। ফলে রাজশাহী ও তার পাশ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের লাখ লাখ মন আম অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমচাষিরা পড়েছেন ব্যাপক লোকসানের মুখে।

পরিসংখ্যান বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষিরা চলতি বছরে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার লোকসান মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আমের বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে।

আম-চাষির আত্মহত্যা  

আমের ব্যবসায় লোকসানের হতাশা থেকে গত বুধবার উপজেলার নয়ালাভাঙা ইউনিয়নে লালচাঁদ নামে এক আম-চাষি আত্মহত্যা করেছেন। এই খবর নিশ্চিত করেছেন নয়ালাভাঙা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য হাসান আলী।

তিনি বলেন, আমের ব্যবসায় লোকসানে পড়ে লালচাঁদ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েক বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে বুধবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। উপজেলার চককীর্তি গ্রামের আম-চাষি জাহাঙ্গির বিশ্বাস জানান, গত ৫ বছরে আমের ব্যবসায় তিনি ২০ লাখ টাকা লগ্নি করেছিলেন। এখন তিনি সর্বস্বান্ত।

মণ প্রতি গড়ে ৭০০ টাকা দাম

ওই এলাকার আম-চাষিরা জানান, গত বছর খিরসাপাত ও ল্যাংড়া আম ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন তাঁরা। এ বছর ক্রেতা না থাকায় স্থানীয় আড়তদারদের কাছে ১ হাজার টাকা মণ দরে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকের বাগান অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। আম পেড়ে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে মণ প্রতি গড়ে ৭০০ টাকা দাম পাচ্ছেন। বাগান পরিচর্যার খরচ সব লোকসান গিয়েছে। কিন্তু উপায় নেই। আম তো পেকে যাচ্ছে। দাম না থাকলেও তো বেচতে হবে।

অন্য দিকে স্থানীয় বাজারগুলোর আমের আড়তদারদের দাবি, কম দামে আম কিনেও তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিবগঞ্জের আম আড়তদাররা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শুনেই বাইরের মোকামগুলোতে দাম কমিয়ে দিচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সাবেক পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ বছর করোনার প্রভাবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হবে জেলার আম-ব্যবসায়ীদের।

অভ্যস্ত হতে হবে অনলাইনে: জেলা প্রশাসক     

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও আম সংশ্লিষ্ট সব কিছুই খোলা ছিল। আম পরিবহনে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।  

তিনি বলেন, করোনার কারণে বাইরের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনলাইনে কৃষকদের অভ্যস্ত হতে হবে। যাঁরা অনলাইনে আম বাজারজাত করছেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি আম বিক্রি করতে পারছেন।

আরও পড়ুন: করোনাকালীন কর্মরত নার্সদের ৪ কোটি টাকার বিশেষ সম্মানীভাতা দিলেন শেখ হাসিনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.