ঋদি হক: ঢাকা

একাত্তরের গণহত্যা (Genocide in 1971) এবং বুদ্ধিজীবী-হত্যার (killing of intellectuals) জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে (Pakistan)। এই দাবিতে সরব হল বাংলাদেশ (Bangladesh)। সোমবার দেশ জুড়ে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধনে যোগ দেন সাধারণ মানুষ।

ওই দাবিতে বিজয় দিবসের ৪৯ বছর পূর্তি উৎসবের দু’ দিন আগে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হল সমাবেশ। ওই সমাবেশের পরে একটি মিছিল পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে মিছিলটিকে শাহবাগে আটকে দেওয়া হয়। মিছিল থেকে ৬ জনের এক প্রতিনিধিদল দূতাবাসে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা স্মারকলিপিটি দিয়ে আসেন।

সমাবেশ থেকে আওয়াজ

একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে হত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ৪৯ বছর আগে বর্বর পাক বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা এবং বিজয়ের দু’ দিন আগে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা আজও ভুলে যায়নি বাংলাদেশের মানুষ। সেই অপরাধের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হল বাংলাদেশের মানুষ।

মাগুরায় মানববন্ধনে মহিলারাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে দাবি তোলা হল, একাত্তরের গণহত্যা ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান তথা বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায় কবুল করে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে যোগ দিয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, পাকিস্তানকে অবিলম্বে গণহত্যার দায় স্বীকার করে বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দূতাবাস এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান দূতাবাসের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এই সাবেক বিচারপতি।

সমাবেশে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, পাকিস্তানকে একাত্তরের গণহত্যা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের অপরাধে দ্রুত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গণহত্যার অপরাধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এদের সব ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ রুখে  দেবে।

প্রতিবাদ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মন্দের।

গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী-হত্যা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা দিয়ে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

হানাদার বাহিনী দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করে নিয়েছিল। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানি দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। লাল-সবুজের পতাকা আবারও খামচে ধরতে চায় পুরোনো শকুনেরা।

১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। প্রতিথযশা লেখক, কবি, সাহিত্যক, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানীদের রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পাকিস্তানি বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল, তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হতে চলেছে ঠিক তখনই জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য এ দেশীয় রাজাকার-আলবদর-আল শামসদের সহযোগিতায় হত্যা করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর মামুনুল-ফয়জুল চক্র।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমার দাবিতে স্মারকলিপি

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটি শাহবাগে আটকে দেয় পুলিশ। মিছিল থেকে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ভাস্কর শিল্পী রাশা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এজেডইউ প্রিন্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ-সহ ৬ জনের এক প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তান দূতাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ডিপ্লোমেটিক পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) আশরাফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: আট লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে আয়োজন হবে একুশে বইমেলার

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন