Connect with us

বাংলাদেশ

‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’, জীবনযুদ্ধে জয়ী পাঁচ নারীর কথা

‘জয়িতা’ হচ্ছে সমাজের সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীর একটি প্রতীকী নাম।

Published

on

ঋদি হক: ঢাকা

তাঁরা নিজেদের আলোয় আলোকিত করে সমাজের মলিনতা দূর করেছেন। শুভবোধের সারথি হয়ে পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে জাগিয়ে তোলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারীই ঈশ্বর! হ্যাঁ, কেন নয়, বলুন তো? নারী আমার ‘মা’, দেশ আমার ‘মা’, সহোদরা, স্ত্রী এবং পথ চলার ‘শক্তি’ হচ্ছে নারী। সেই তিনিই তো ঈশ্বর। তাতে অবাক হওয়ার কী আছে? যুক্তি তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও সমাজচিন্তকরা মনে করেন না। কারণ নারীজাতিই আমাদের সকল প্রেরণার মন্ত্র। তাই নারী-ই ঈশ্বর, তা বার বার প্রমাণিত। এই বিশ্বাসটি আরও মজবুত করলেন লাভলি ইয়াসমিন, ড. মুসলিমা মুন, রাবেয়া বেগম, সানজিদা রহমান আদরী এবং অঞ্জনাবালা বিশ্বাস।

Loading videos...

হাসিনা সরকারের মহৎ উদ্যোগ

খুলনা বিভাগীয় মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপপরিচালক নার্গিস ফাতিমা জামিন ‘খবর অনলাইন’কে বলেন, বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রক চলতি বছরে নানা বিভাগে দেশের পাঁচ জন আলোকিত নারীকে পুরস্কৃত করেছে। সমাজে নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য খুলনা বিভাগের পাঁচ নারী নিজেদের প্রতিভায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। হাসিনা সরকারের নানা উদ্যোগ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

আগে শ্রেষ্ঠ জয়িতারা পেতেন ১০ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং উত্তরীয়। এ বার থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে টাকার অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজারে। আর জেলা পর্যায়ে ২ হাজার থেকে বেড়ে ৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। অবশ্য এটি এসেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার হাত ধরেই। তাঁর উদ্যোগে এ বার খুলনা বিভাগে যে পাঁচ জন নারী জয়িতার সম্মান অর্জন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকে পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকার চেক, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র। বিশাল আয়োজনের মধ্য মধ্য দিয়ে তাঁদের সম্মান জানানো হয়। 

সম্মুখে যুদ্ধে জয়ী লাভলি

এই আলোকিত নারীদের গল্প সমাজকে শুধু আলোকিতই করে না, নারীসমাজকে সকল বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র শেখায়। তাঁরাই আমাদের সমাজে শুভবোধের সারথি। তাঁদের হাত ধরেই সমাজের মলিনতা দূর হয়। এমন পাঁচ নারীর একজন লাভলি ইয়াসমিন।

সময়টা ২০০১ সাল। অকস্মাৎ চাকরি হারান স্বামী। সংসারে স্কুলপড়ুয়া সন্তান। দু’ চোখের সামনে তখন ঘোর অন্ধকার!  কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি তিনি। নিজের মানসিক শক্তি এবং নিজ উদ্যোগে মাছচাষে লেগে যান লাভলি ইয়াসমিন। এ পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অফিস এবং পরবর্তী কালে যুব উন্নয়ন অফিস থেকে ঋণ পান। এর পরই মৎস্য অফিস তাঁর পাশে দাঁড়ায়। সেখান থেকে লাখ টাকার ঋণ পাওয়ার পর পায়ের তলার মাটি আরও পোক্ত হয় লাভলির। এ ভাবেই ঝিনাইদহের গল্প হয়ে ওঠেন লাভলি ইয়াসমিন।

সেই লাভলি ইয়াসমিনই আজ ঝিনাইদহের উত্তরকাষ্ট সাগরা গ্রামের মাটিকে ধন্য করেছেন। গ্রামের সাধারণ এক গৃহিণী থেকে অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী লাভলি ইয়াসমিন এখন ঝিনাইদহের ঘরে ঘরে আলোচিত।

ড. শেখ মুসলিমা মুন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন বাবা। মায়ের স্বল্প আয়ের অর্থে চার ভাইবোনকে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে লেখাপড়া করতে হয়েছে। বিয়ের পরও লেখাপড়ার ইচ্ছেটা বাতিল করতে পারেননি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) ডিগ্রি অর্জন করেন। সংসার ও সন্তান লালনপালনের পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র থেকে পিছু হঠেননি। ১৯তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাণীসম্পদ ক্যাডারে যোগ দেন।

২০০৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের প্রেক্ষাপটে প্রাণীসম্পদ উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গীয় সম্পর্ক ও নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ড. মুন। ঢাকায় বাংলাদেশ মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারীর নাম ড. শেখ মুসলিমা মুন। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার আলোকিত নারী তিনি।

সফল জননী রাবেয়া বেগম

রাবেয়া বেগমের বয়স ৬১ বছর। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা ব্রিজ রোড এলাকার বাতিখালির বাসিন্দা রাবেয়া একজন সফল জননী। স্বামী ছিলেন বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। সংসারে আর্থিক অনটন পিছু ছাড়েনি।

এ অবস্থায় সন্তানদের লেখাপড়া এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হত তাঁকে। সংসারের দৈন্যদশা ঘোচাতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ শুরু করেন। এর পর বাড়ির পাশের ছোটো পুকুরে মাছচাষে হাত লাগান।

সংসারের চাহিদা মিটিয়েও নিজের উৎপাদিত সবজি, মাছ, মাংস, ডিম বিক্রি শুরু করেন তিনি। সেই টাকা ব্যয় করেছেন সন্তানদের লেখাপড়ায়। রাবেয়া বেগমের যুদ্ধটা থেমেছে, তাঁর চার সন্তানকে সমাজে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। 

সানজিদা রহমান আদরী

২০০১ সালটি তাঁর জীবনের কালো অধ্যায়। সে বার কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আদরী। সেই সময় বখাটেদের অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হন তিনি। ঘাড় থেকে শরীরের বাম পাশ বেয়ে কোমর পর্যন্ত অ্যাসিডে ঝলসে যায়। দু’ চোখ বন্ধ হয়ে আসে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে বাবার আদরের ফুটফুটে আদরী। বাবা মুজিবর রহমানের গগন বিদারী চিৎকার সে দিন জাগাতে পারেনি সমাজের বিবেক! বরং উলটে শাসিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

টানা প্রায় ছ’ মাস চিকিৎসার শেষে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরেন বাবা। মামলা করায় জীবননাশের হুমকিতে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে মামলা তুলে নিলেন আদরীর অসহায় বাবা। নেপথ্যে হাসল সমাজপতিরা। কিন্তু হাল ছাড়েননি আদরী। পাষণ্ডদের মুখে লাথি মেরে ফের কলেজে ভর্তি হলেন সানজিদা রহমান আদরী।

তবে সানজিদার প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় ব্র্যাকের সামাজিক কর্মসূচির আওতায় গঠিত পল্লীসমাজ। মূলত এই কর্মসূচির অনুপ্রেরণায়ই বিভীষিকাময় সব স্মৃতিকে মাড়িয়ে শিরদাঁড়া টান টান করে ফের কলেজের পথে পা বাড়ান আদরী। এর পর ২০১৪ সালে সবাইকে তাক লাগিয়ে স্নাতক পাশ করেন। নড়াইল পৌরসভার টিকাদান কর্মসূচিতে নড়াইল সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন সানজিদা রহমান আদরী। সমাজপতিদের চোখরাঙানি এবং বখাটে পাষণ্ডদের সকল বাধা ডিঙিয়ে সানজিদা এখন সফল। কোথাও অ্যাসিডে সন্ত্রাসের খবর পেলেই ছুটে যান। যথাসম্ভব সহায়তা করেন নির্যাতিতাকে। নড়াইল সদরের সীমাখালী গ্রামের বাসিন্দা সানজিদা রহমান আদরী সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অঞ্জনা বালা বিশ্বাস

১৯৭১’র কালো দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর জারজ সন্তান রাজাকার-আলবদররা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় স্বামী-সন্তানসহ অঞ্জনা বালা বিশ্বাসকে। এর পর ধারাবাহিক শারীরিক নির্যাতন। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে নির্যাতনের ক্ষতকে শক্তিতে পরিণত করেন। সংকল্প নিলেন, যত দিন বর্বর পাকিস্তানি এবং এ দেশীয় কুলাঙ্গারদের কবল থেকে দেশ মুক্ত না হবে, তত দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবেন। অঞ্জনা বালার নেওয়া ছিল সিভিল ডিফেন্সে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণ কাজে লাগল তাঁর। সকল বাধা ডিঙিয়ে ডিঙ্গিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ঝাঁপিয়ে পড়েন অঞ্জনা।

খুলনার ডুমুরিয়া রূপরামপুরের অঞ্জনার জন্ম ১৯৪৬ সালে। আমাদের সমাজে অঞ্জনা বালা হচ্ছে উদাহরণের এক বাতিঘর। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি যত দিন থাকবে, তত দিন অঞ্জনা বালা বিশ্বাসের এই অসামান্য অবদান অমলিন থাকবে।

উল্লেখ্য, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি অন্যতম কার্যক্রম ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’। ‘জয়িতা’ হচ্ছে সমাজের সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীর একটি প্রতীকী নাম। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রকের দিক নির্দেশনায় ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উদ্যোগে প্রতি বছর আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর হতে ১০ ডিসেম্বর) এবং বেগম রোকেয়া দিবস (৯ ডিসেম্বর) উদযাপন কালে দেশব্যাপী ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অভিনব প্রচারাভিযান চলে। সমগ্র সমাজ নারীবান্ধব হবে এবং এতে করে সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ত্বরান্বিত করবে, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কার্যক্রমটি শুরু করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূল বিভিন্ন নারী তথা জয়িতাদের অনুপ্রাণিত করে আসছে।

আরও পড়ুন: কোভিডে মৃতের পরিবারকে দশ লক্ষ টাকার সহায়তা দিল বাংলাদেশের ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড

বাংলাদেশ

ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে হত্যাকাণ্ডের ১২তম বার্ষিকী পালন

হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু বহাল রাখা হয়। ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়।

Published

on

শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি সৌজন্যে আইএসপিআর।

ঋদি হক: ঢাকা

ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দফতরে বর্বরোচিত ঘটনায় নিহত সেনাসদস্যদের ১২তম শাহাদত বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হল। ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা-সহ ৭৪ জন নিহত হন।

Loading videos...

বৃহস্পতিবার বনানীতে শহিদদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামালউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শহিদ সেনাসদস্যদের সম্মানে স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

এ দিন সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় সকল স্তরের সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

অপর দিকে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দফতর-সহ সকল রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় খতমে কোরআন, বিজিবি’র সকল মসজিদ এবং বিওপি পর্যায়ে প্রার্থনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ইউনিফর্ম পরিহিতরা স্যালুট প্রদান করেন। ছবি: আইএসপিআর।

এ ছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বিজিবি’র সকল স্থাপনায় বিজিবির পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবি’র সকল সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবেন।

এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার বাদ জুম্মা পিলখানায় বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা সেক্টর মসজিদ এবং বিজিবি হাসপাতাল মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এম.পি। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শহিদ ব্যক্তিবর্গের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সকল অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থনাসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে মামলা

পিলখানা হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও ১২ বছরেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার-কার্যক্রম শেষ হয়নি। মামলাটির বিচার চলতি বছরে শেষ হয়ে যাবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করার পর ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি হয়। এ ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনও বিচারাধীন।

রাজধানীর বকশিবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বিষ্ফোরক দ্রব্যের মামলার কার্যক্রম চলছে। এ মামলায় ১ হাজার ১৬৪ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। ওই দিন পাঁচ জন সাক্ষ্য দেন।

আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। মামলা সম্পর্কে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালতের পর হাইকোর্টেও নিষ্পত্তি হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ১৮৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে চলতি বছরেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জন বিডিআর সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৭৮ জনকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু বহাল রাখা হয়। ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়াও একজনের মৃত্যু হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টে আপিল চলার সময় কারাগারে থাকা দু’জন মারা যান। খালাস পান ১২ আসামি।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশে ছুটে গেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের এই ঋণ মনে রেখেছে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

Continue Reading

দেশ

বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশে ছুটে গেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের এই ঋণ মনে রেখেছে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

এক আলোচনাচক্রে বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কের উপর জোর দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার।

Published

on

বক্তৃতা করছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী। পাশে ভারতের হাই কমিশনার।

ঋদি হক: ঢাকা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যত্নবান থাকতে হবে, যাতে দু’ দেশের সম্পর্কে অহেতুক বিরূপ প্রভাব না পড়ে। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী (Bangladesh Information Minister) তথা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ (Dr. Hasan Mahmud) সংবাদমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশে ছুটে বেড়িয়েছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ভারতের নজির গড়া এই ঋণ মনে রেখেছে বাংলাদেশ।

Loading videos...

ভারতীয় হাই কমিশনার (Indian High Commissioner) বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী (Vikram Doraiswami) দু’ দেশের নাগরিকদের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে এক সঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে।

মঙ্গলবার ঢাকায় ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব, IMCAB) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক এক আলোচনাচক্রে এ সব কথা বলেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনার।  

বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কের উপর জোর দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূল নীতি ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের আকাঙ্ক্ষার জায়গা এক। এখন আমাদের উচিত সন্দেহ ও সংশয় দূর করে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই।”

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন এলে বিএনপি ও কিছু দল  ভারত-বিরোধিতাকে সামনে রেখে প্রচারণা চালায়। যাদের সহযোগিতা ছাড়া এ দেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না, তাদের বিরোধিতা করে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কথা তারা বুঝেও না বোঝার ভান করে। আবার বুঝলেও রাজনীতির স্বার্থে অপরাজনীতি করেন। আলোচনাচক্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনাচক্রে আর যাঁরা ছিলেন

বাংলাদেশে কর্মরত ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ইমক্যাব’-এর সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাচক্রে অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন তথ্য উপদেষ্টা ও ‘অবজারভার’ সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ।

বিষয়বস্তুর ওপর মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র সাংবাদিক ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব। আলোচনায় অংশ নেন ‘ইমক্যাব’-এর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দীপ আজাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিদুল হাসান খোকন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (ভিসা ও জনকূটনীতি) দীপ্তি আলংঘট, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া ও ওমর ফারুক, ডিক্যাব সভাপতি পান্থ রহমান, ‘ইমক্যাব’-এর কোষাধ্যক্ষ মাছুম বিল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আফরোজ জামান, নির্বাহী সদস্য আমিনুল হক ভুইয়া ও লায়েকুজ্জামান।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনাচক্র।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো খবর প্রচার করা উচিত নয়, যাতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কারণে ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির কারণেই আমরা ভারতের কাছ থেকে ছিটমহলের অধিকার ফিরে পেয়েছি। অথচ এই চুক্তি নিয়ে একটি মহল বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছিল। তবে তাদের অপপ্রচারে দেশের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেনি।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের সহযোগিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করতে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জেল থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যাতে ফাঁসি দেওয়া না হয়, সে জন্য ৩০টি দেশে তিনি ছুটে গিয়েছেন।

ভারতীয় হাই কমিশনার আরও বলেন 

ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, “পৃথিবী খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা যত দ্রুত এগোতে পারব, তত দ্রুতই আমরা এক সঙ্গে সমৃদ্ধি লাভ করতে পারব।”

দুই দেশের সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে দোরাইস্বামী বলেন, “আমি দেখেছি, সহযোগিতা বাড়লে উন্নতিও বাড়ে। সুতরাং আমার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আপনার জন্য যেটা ভালো নয়। আমরা যদি এটা অনুসরণ করি, তা হলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা হবে।”

অন্যরা কী বললেন  

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের যেমন বৃদ্ধি হয়েছে, তেমনি সে সম্পর্ক ধ্বংসেরও চেষ্টা হয়েছে। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করেছেন। প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা সমস্যা থাকে। সে সমস্যা আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করতে হবে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন সব চেয়ে উচ্চ মাত্রায়। তবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত। তিস্তা চুক্তি নিয়ে হতাশা রয়েছে। সীমান্তে হত্যা হলে দু’ দেশের সম্পর্ক অম্ল-মধুর হয়ে যায়।

মনজরুল আহসান বুলবুল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম ভারত সফরে গিয়ে ইন্দিয়া গান্ধীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তাঁর সৈন্যদের প্রত্যাহার করেছিলেন। এটি ছিল কূটনৈতিক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রমাণ। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের শ্রদ্ধার ও সম্মানের সম্পর্ক। এটিই আমাদের পথরেখা। এগিয়ে যাওয়ার জায়গা।

আরও পড়ুন: পরপারে পাড়ি জমালেন লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ

Continue Reading

বাংলাদেশ

পরপারে পাড়ি জমালেন লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘সুপ্রভাত বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি।

Published

on

ঋদি হক: ঢাকা

সন্ধ্যাতেই খবরটি আছড়ে পড়ে। তখন সবেমাত্র সন্ধ্যার সাঁঝবাতি জ্বালিয়ে আলো ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। সেই সময়ে চলে গেলেন প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ (Syed Abul Maksud)। তাঁর মৃত্যুতে বৃদ্ধিজীবী মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর।

Loading videos...

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এ দিন বিকেলে তিনি বাড়িতেই অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁকে দ্রুত রাজধানীর পান্থপথের স্কোয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছোনোর পর চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন তিনি আগেই মারা গিয়েছেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘সুপ্রভাত বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। সৈয়দ আবুল মকসুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ঋষিজ পুরস্কার-সহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ-গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার’, ‘পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ’, ‘রবীন্দ্রনাথের ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন’, ‘ঢাকায় বুদ্ধদেব বসু’, যুদ্ধ ও মানুষের মূর্খতা’, ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জীবন ও সাহিত্য’, ‘মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, কর্মকাণ্ড রাজনীতি ও দর্শন’, ‘গান্ধী, নেহরু ও নোয়াখালী’ প্রভৃতি।

সৈয়দ আবুল মকসুদের প্রথম কবিতা সংকলন ‘বিকেলবেলা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দারা শিকোহ ও অন্যান্য কবিতা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনির মধ্যে রয়েছে ‘জার্মানির জার্নাল’, ‘পারস্যের পত্রাবলি’ ইত্যাদি।

১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের এলাচিপুরে সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও সালেহা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া আবুল মকসুদ ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। পরে তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন।

১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে সৈয়দ আবুল মকসুদ কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায় যোগ দেন তিনি। ২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার সম্পাদকীয় বিভাগের চাকরি ছেড়ে দিলেও জাতীয় দৈনিকগুলোতে সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে কলাম লেখা চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

জীবনের শেষ পর্যন্ত সৃজনশীলতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
election commission of india
দেশ1 hour ago

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন

প্রযুক্তি2 hours ago

আরবিআই-এর নতুন নির্দেশিকা, ঝক্কি বাড়বে ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে!

বিদেশ2 hours ago

ভ্যাকসিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দেশ3 hours ago

এক দিনে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় রোগী বাড়ল মহারাষ্ট্রে

দেশ4 hours ago

ভারত বন্‌ধে শামিল ব্যবসায়ী, কৃষক সংগঠন, প্রভাব কলকাতায়

দেশ5 hours ago

দৈনিক আক্রান্ত ফের ১৬ হাজারের বেশি, ১০টি রাজ্যে বাড়ল সক্রিয় রোগী

বাংলাদেশ13 hours ago

ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে হত্যাকাণ্ডের ১২তম বার্ষিকী পালন

ফুটবল14 hours ago

প্রথমার্ধে বেঙ্গালুরুকে ৩ গোল দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল হজম করল জামশেদপুর

LPG
প্রযুক্তি2 days ago

রান্নার গ্যাসের ভরতুকির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, কী ভাবে দেখবেন

ক্রিকেট3 days ago

অমদাবাদ টেস্টের প্রথম একাদশে চমকপ্রদ পরিবর্তন করবে ভারত? জোর জল্পনা

ক্রিকেট3 days ago

কপিল দেবের পর প্রথম ভারতীয় পেসার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে চলেছেন ইশান্ত শর্মা

দেশ2 days ago

বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশে ছুটে গেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের এই ঋণ মনে রেখেছে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

ক্রিকেট2 days ago

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামাঙ্কিত নরেন্দ্র মোদীর নামে

প্রযুক্তি23 hours ago

সোশ্যাল, ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের

দেশ2 days ago

১ মার্চ থেকে প্রবীণদের জন্য শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে করোনা টিকাকরণ

ফুটবল2 days ago

গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম কিংবদন্তি টাইগার উডস, হয়েছে অস্ত্রোপচার

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা1 month ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা1 month ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা1 month ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা1 month ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে