Connect with us

দেশ

১০০ দিন পেরোলেও চ্যাংরাবান্ধা এখনও বন্ধ, ডেমারেজ গুনছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

ঋদি হক: ঢাকা

চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধের একশো দিন পূর্ণ হল শুক্রবার। এ দিনেও চ্যাংরাবান্ধায় ১০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটির বৈঠক হয়েছে। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রবিবার সরকার ছুটির দিন বলে সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসবেন তাঁরা। সে দিন কোনো রফা না হলে, অনশন-সহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন ব্যবসায়ীরা। কারণ তাঁদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

এ দিকে চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিনশো ব্যবসায়ী। অথচ দু’ দেশের সরকার পর্যায়ে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অন্যতম স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোলসহ সকল  স্থলবন্দর দিয়েই বৈদেশিক বাণিজ্য চালু রয়েছে পুরোদমে।

কিন্তু বন্ধ রয়েছে চ্যাংরাবান্ধা-বুড়িমারি স্থলবন্দর, যার খেসারত গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। রাত পোহালেই তাঁদের গুনতে হচ্ছে ডেমারেজ। বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরে আটকে রয়েছে ২৬০০ পণ্যবোঝাই ট্রাক।

বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন জানালেন, প্রতি দিন এই বন্দরে হাজার দুই পণ্যবোঝাই ট্রাক লোড আনলোড হত। বন্দর জুড়ে থাকা কর্মচাঞ্চল্য এখন উধাও। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে একরাশ হতাশা। প্রায় সাড়ে তিনশো ব্যবসায়ী ছাড়াও সাড়ে ৩ হাজার বন্দরশ্রমিক, দেড়শো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ৬০০ এবং ব্যবসায়ীদের দু’ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। বুড়িমারিতে রয়েছে ৬০০-এর মতো পাথর ক্র্যাশিং মেশিন। তার সঙ্গে জড়িত প্রায় হাজার ছয়েক শ্রমিক। অর্থাৎ বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ বেকার।

আরও পড়ুন: তিন মাস চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ, চরম ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের তরফে কোনো রকম ঝুটঝামেলা নেই বলে জানালেন এই ব্যবসায়ী নেতা। জুন মাস শেষ হতে চলল। অথচ পাথর সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি বলে অনেকে বিলও পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় ব্যাংকের তরফে চাপ আসছে। সব মিলিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।   

দীর্ঘ দিন পণ্যবোঝাই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের টায়ার, টিউব ও ইঞ্জিনের পাশাপাশি অনেক পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানালেন ভারতের ব্যবসায়ীরা।  বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধের শততম দিনে চ্যাংরাবান্ধায় ব্যবসায়ী সংগ্রাম কমিটির যৌথ বৈঠকে যোগ দেন, চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডুয়ার্স ইউনাইটেড ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, চ্যাংরাবান্ধা ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্সি-সহ ১০টি সংগঠন।

বৈঠকে যোগ দেওয়া ডুয়ার্স ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পারভেজ রায় শনিবার জানান, বন্দর চালু করার দাবিতে স্থলবন্দর ও তার আশপাশের এলাকায় পোস্টারিং করছেন তাঁরা। এর আগেও একাধিক মন্ত্রী, কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাতে কেবল আশ্বাসই মিলেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন চ্যাংরাবান্ধা ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আবদুস সামাদ, ডুয়ার্স ইউনাইটেড ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইদু সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার রায়-সহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

এর আগে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং কোচবিহারের জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা সবাই আশ্বাস দিয়েছেন, চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে দ্রুত বৈদেশিক বাণিজ্য চালু করা হবে। কিন্তু তার পর এক সপ্তাহ কেটে গেল, তবুও চালু হয়নি চ্যাংরাবান্ধা বন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য।

দেশ

আতঙ্ক বাড়িয়ে ফের কাঁপল দিল্লি

নয়াদিল্লি: ফের ভূমিকম্প হল রাজধানী দিল্লিতে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ এই কম্পনের জেরে মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও এই কম্পনের ফলে কোনো হতাহতের খবর নেই।

শুক্রবার এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। কেন্দ্রস্থল ছিল হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে ৬৩ কিমি দূরে।

এপ্রিল থেকেই কম্পনের হিড়িক লেগেছে দিল্লি এবং তার আশেপাশের এলাকায়। সব কম্পনই ২ থেকে সাড়ে চার মাত্রার মধ্যে হয়েছে। এই কম্পনের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে আগামী দিনে আরও বড়ো কোনো কম্পন হবে কি না।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ছোটো কম্পনগুলো আসন্ন বড়ো কোনো কম্পনের ইঙ্গিত আদৌ দেয় না।

শুক্রবার ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিকম্প হয়েছে। এ দিন সকালে মিজোরামের চাম্ফাইয়ে ৪.৫ মাত্রার একটি কম্পন হয়। এর পর ৪.৪ মাত্রার একটি কম্পন হয় কার্গিলে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রেও এ দিন ৫.২ মাত্রার একটি কম্পন হয়। উৎসস্থল ছিল পুনে থেকে ২২৫ কিমি দূরে বারশিতে।

Continue Reading

দেশ

নাগাল্যান্ডে নিষিদ্ধ হল কুকুরের মাংস

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাপের মুখে পড়ে নতি স্বীকার করল নাগাল্যান্ড সরকার। রাজ্যে কুকুরের মাংস বিক্রির ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।

শুক্রবার এই বিষয়েই টুইট করে নাগাল্যান্ডের মুখ্যসচিব টেনজেন টয় বলেন, “কুকুরের বাণিজ্যিক রফতানি এবং কুকুরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার। কাঁচা বা রান্না করা, কোনো ধরনের মাংসই আর বিক্রি করা যাবে না।”

উল্লেখ্য, কিছু দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। ছবিতে দেখা যাচ্ছিল যে বস্তায় করে কুকুরদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কুকুরগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন একজন টুইটার ব্যবহারকারী।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতে হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীও। কুকুর এ ভাবে আমদানি বা রফতানি বন্ধ করার জন্য নাগাল্যান্ড পুলিশের কাছেও আবেদন করেন মানেকা। এই নিয়ে হইচই শুরু হতেই মাংসের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হল নাগাল্যান্ডে।

উল্লেখ্য, উত্তরপূর্ব ভারতে, বিশেষত নাগাল্যান্ডে কুকুরের মাংস খুবই জনপ্রিয় একটা খাবার। এই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সরকারি কোনো আইনও নেই। এ ছাড়া খরগোশ আর বাঁদরের মাংসও ব্যাপক ভাবে খাওয়া হয় এই সব অঞ্চলে।

Continue Reading

দেশ

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, রেল বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে ট্রেড ইউনিয়নগুলি

ওয়েবডেস্ক: জাতীয়তাবাদের নামে ‘সরকারের শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, জনবিরোধী নীতি’র বিরুদ্ধে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ দেখাল কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। তারা দিনের শেষে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও জমা দেয়।

স্মারকলিপিতে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি সরকারি উদ্যোগের বেসরকারিকরণ, যেমন ভারতীয় রেল, প্রতিরক্ষা, বন্দর ও ডক, কয়লা, এয়ার ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক, বিমা এবং মহাকাশ বিজ্ঞান ও পারমাণবিক শক্তির বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ব্যবসা দখল করতে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে সুবিধা করে দেবে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনগুলির একটি যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চরম সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে জরুরিকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে নিত্যনতুন আইন এবং নির্দেশ জারি করে মানুষকে আরও বিপাকে ফেলা হচ্ছে।”

সংগঠনগুলি দাবি, গত তিনমাসে করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে দেশের ১৪ কোটি কর্মী কাজ হারিয়েছেন। দৈনিক মজুরির, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের ধরলে এই সংখ্যাটা ২৪ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে।

পথে নামল কোন কোন সংগঠন

শুক্রবার ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়। এগুলির মধ্যে ছিল কংগ্রেসের আইএনটিইউসি, বামপন্থী সিআইটিইউ এবং এআইটিইউসি। এ ছাড়া এআইইউটিইউসি, এলপিএফ, এইচএমএস, টিইউসিসি, এসইডব্লিউএ, এআইসিসিটিইউ এবং ইউটিইউসি বিক্ষোভে শামিল হয়। এর আগে গত ২২মে শ্রম আইন পরিবর্তনের বিরোধিতায় প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল সংগঠনগুলি।

পড়তে পারেন: যাত্রী ট্রেন চালাতে বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে আবেদন চাইছে রেলমন্ত্রক

Continue Reading
Advertisement

নজরে