ঋদি হক: ঢাকা

ব্রিটেনে যখন পৃথিবীর সাতটি ধনী দেশের ফোরাম জি৭ (G7, Group of Seven) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের বিরোধিতায় অভিনব পদ্ধতিতে রাজপথে নেমে এলেন একদল তরুণ। তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা ছিল ভিন্ন।

Loading videos...

শুক্রবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি, BWGED, Bangladesh Working Group on External Debt) ও ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের (Youthnet for Climate Justice) যৌথ উদ্যোগে ২০ জন তরুণ জলবায়ু কর্মী পিকাচু এবং প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের মাতারবাড়ি কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র (Matarbari Coal Power Plant) সহ জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে সব ধরনের জাপানি বিনিয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রের (১ম পর্যায়) নির্মাণকাজ স্থগিত করে যে পর্যন্ত পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে তার উপর তরল হাইড্রোজেনের মতো কম দূষণকারী জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের দাবি 

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের ঢাকা জেলার সমন্বয়কারী রুহুল আমিস রাব্বি জানান, গত ২১ মে জি৭-এর মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে হয়েছিল যে, তারা আর কয়লাখাতে বিনিয়োগ করবে না।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের দাবি, মাতারবাড়ি কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প এখনই বাতিল করে সৌর বা বায়ু-বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম-জ্বালানি খাতে সব ধরনের জাপানি বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। তাঁদের আরও দাবি, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ঐতিহাসিক দূষণের দায় স্বীকার করে সব ধরনের ঋণ মকুব করতে হবে।

দরিদ্র দেশের ঘাড়ে ঋণের বোঝা

রুহুল আমিস রাব্বি বলেন, জি৭-এর সাতটি দেশ হল কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। জোটের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র জাপান জি৭-এ সম্মিলিত ভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্য করে কয়লা-বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। জাপান-সহ জি-৭ ভূক্ত দেশগুলো আমাদের মতো দরিদ্র দেশকে ঋণ দিয়ে আমাদের কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়েছে। এখন ঋণ শোধ করতে গিয়ে আমাদের মতো দেশগুলোর মাথাপিছু ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার টাকারও উপরে।

বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, জাপান পৃথিবীর সব থেকে ধনী দেশগুলোর অন্যতম। ১৯৯২ সালের জলবায়ু-সনদ অনুসারে জাপান শুধু নিজের দেশে নয় বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেরও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে নীতিগত ভাবে বাধ্য। কিন্তু জাপান সরকার ও সরকারের প্রতিষ্ঠান জাইকা কয়লা-বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে আমাদের যেমন বিপদে ফেলছে তেমনি মানবজাতির সমান ক্ষতি করছে। এতে লাভ হচ্ছে জাইকার, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ও পৃথিবীর।

শুরু হয়েছে জি৭

যুক্তরাজ্যে ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাগি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে ফের ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর করবে বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.