ভারত সীমান্তে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে, জানালেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

ঋদি হক, ঢাকা: সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘শীঘ্রই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মারণাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে”। দুই দেশের সীমান্তে যে ‘অঙ্গীকার’ রয়েছে, তা মেনে চললে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

Loading videos...

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, “অতি লোভী গরু ব্যবসায়ীদের কারণে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। বিজিবিকে আন্তর্জাতিক মানের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে”। বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচে সব বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকারী সৈনিক নয়নের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

দেশমাতৃকার সেবা আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সীমান্তের প্রহরা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে এ দিন শপথ নিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের ৭৮৪ জন সৈনিক (নারী-পুরুষ)। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামালউদ্দীন ও বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

বিজিটিসিঅ্যান্ডসিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া মোট ৭৮৪ জন রিক্রুটের মধ্যে ৬৫৬ জন পুরুষ এবং ১২৮ জন নারী। বিজিটিসিঅ্যান্ডসি ছাড়াও বিজিবির অন্য আরও আটটি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়। সর্বমোট শপথ নেন ২ হাজার ৭৩৬ জন সৈনিক। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬০৮ জন ও ১২৮ জন নারী।

এ দিন চাপাইনবাবগঞ্জে কুচকাওয়াজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য এ প্রশিক্ষণ সফল ভাবে শেষ করে আজ আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের সৈনিক জীবনের সূচনা হল।

সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সীমান্তে দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে ও বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়েও আলোচনা চলছে। শীঘ্রই সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মারণাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে। সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে আমরা আরও তৎপর হয়েছি”।

তিনি বলেন, “সীমান্তে আমরা বর্ডার সার্ভেইলেন্স সিস্টেম উন্নত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে বিজিবিকে আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। ১০-১৫ বছর আগে যে ধরনের চোরাচালান ছিল সেগুলো এখন আর নেই। সব ধরনের চোরাচালান আমরা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারত গরু না দিলে আমরাও চাই না। কারণ বাংলাদেশের খামারিরা যথেষ্ট সমৃদ্ধ হয়েছে। অতিলোভী দু’একজন ব্যবসায়ী সীমান্ত দিয়ে গরু আনতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “গত বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আমন্ত্রণে ভারত সফরে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে গরু দেওয়া হবে না। উত্তরে বলেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ”!

তিনি বলেন, “সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে আমরা আরও তৎপর হয়েছি। সীমান্তে বিওপির সংখ্যা বাড়ানো, বর্ডার সার্কুলেসন্স সিস্টেম উন্নত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটরযান বলুন আর আধুনিক প্রযুক্তি বলুন-সবই আমরা সংগ্রহ করেছি এবং বিজিবিকে আরও সমৃদ্ধ করেছি”।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এমনও কিছু বাড়ি রয়েছে, যা সীমান্তের খুব কাছাকাছি। অনেক সময় দেখা যায় সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক এবং সবসময় ভারতে যাতায়াত রয়েছে। এ কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে”।

আরও পড়তে পারেন: পাকিস্তান, বাংলাদেশ সীমান্তে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন