Taslima Nasreen

ওয়েবডেস্ক: “ ইমাম ধর্ষণ করছে, রাব্বি ধর্ষণ করছে, পুরোহিত ধর্ষণ করছে, বিশপ ধর্ষণ করছে। যারা কিনা ঈশ্বরের উপাসক। ধর্ষণেরও। ঈশ্বর যেখানে, সেখানেই ধর্ষণ”। নিজের টুইটার হ্যান্ডলে এমন মন্তব্যই পেশ করলেন বাংলাদেশের সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।

অতীতে বহুবার তিনি ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। নিজেকে নাস্তিক হিসাবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠা না করা এই বিতর্কিত সাহিত্যিক ধর্মীয় অনুশাসনের আড়ালে প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে চেয়েছেন মাত্র। সম্প্রতি গোটা বিশ্বেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অভিযোগ।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক দিন ধরেই ভারতের কেরলে এক বিশপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই পেনসিলভানিয়াতে ৩০০ যাজকের হাতে প্রায় হাজারখানেক শিশুর যৌন নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে গোটা বিশ্ব।

তসলিমা রবিন মর্গানকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, “ধর্ষণ হল পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির নিখুঁত যৌন ক্রিয়া। যা আধিপত্য, সহিংসতা, অধ:পতন এবং দখলদারির চূড়ান্ত রূপক”।

1 মন্তব্য

  1. “ বিশ্বকর্মাকে কি শিখাইতে হইবে, কি করিয়া সৃষ্টি করিতে হয়? সুতরাং মানবজাতির মধ্যে তাঁহারাই শেষ্ঠ, যাঁহারা কোন কর্ম করেন না। অতঃপর যখন তোমরা জগৎ সম্বন্ধে এবং ভগবানকে আমরা কিরূপে সাহায্য করিতে পারি, তাঁহার জন্য ইহা করিতে পারি, উহা করিতে পা ইত্যাদি মূর্খের মতো কথাগুলি শুনিবে, তখন ঐ উক্তি মনে বাখিও। এইরূপ কোন চিন্তাই যেন তোমাদের ভিতর স্থান না পায়। এগুলি অত্যন্ত স্বার্থবুদ্ধি-প্রণোদিত। তুমি যে-সকল কর্ম কর, সবই তোমার নিজের জন্য, এগুলি তোমার নিজের উপকার হইবে বলিয়াই করিয়া থাকো। ঈশ্বর এমন কিছু খানায় পড়িয়া যান নাই যে, তুমি বা আমি একটি হাসপাতাল বা অনুরূপ কিছু নির্মাণ করিয়া তাঁহার সাহায্যের জন্য অগ্রসর হইব। তিনি তোমাকে কর্মের সুযোগ দিয়াছেন। তাঁহার এই বিরাট ব্যায়মশালায় তোমার পেশীসমূহ চালনা করিবার জন্যই তিনি তোমাকে সুযোগ দিয়াছেন, তাঁহাকে সাহায্য করিবার জন্য নয়; তুমি যাহাতে নিজেকে সাহায্য করিতে পারো, এইজন্য। তুমি কি মনে কর যে, একটি পিপীলিকাও তোমার সাহায্য ব্যতীত মরিয়া যাইবে? ইহা পুরাদস্তুর ঈশ্বরনিন্দা! জগৎ তোমার কোন প্রয়োজনই বোধ করে না। জগৎ চলিতে থাকিবে-তুমি এই মহাসমুদ্রে একটি বারিবিন্দু মাত্র। তাঁহার ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না-বাতাস বহিতে পারে না। আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা তাঁহার ঈপ্সিত কর্ম করিবার সুযেগ লাভ করিয়াছি-তাঁহাকে সাহায্য করিবার জন্য নয়। ‘সাহায্য’ এই শব্দটি তোমরা মন হইতে মুছিয়া ফেলো। সাহায্য তুমি করিতে পার না। এরূপ বলা ঈশ্বরের নিন্দা করা। তাঁহার কৃপাতেই তোমার অস্তিত্ব-তুমি কি মনে কর, তুমি তাঁহাকে সাহায্য করিতেছ? তুমি তাঁহার উপাসনা করিতেছ। যখন কুকুরকে একটুকরা খাবার দাও, তখন ঐ কুকুরকে ঈশ্বররূপেই পূজা করিতেছ। ঐ কুকুরের ঈশ্বর রহিয়াছেন। তিনি কুকুররূপে প্রকাশিত। তিনিই সব এবং সকলের মধ্যে তিনি। আমরা তাঁহাকে পূজা করিবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছি মাত্র। সমগ্র বিশ্বকে এই শ্রদ্ধার চক্ষে দেখ, তবেই পূর্ণ অনাসক্তি আসিবে। ইহাই তোমার কর্তব্য হউক। ইহাই কর্মের যথার্থ মনোভাব।কাল নির্মম সত্য , কিন্তু তাই বলে চূড়ান্ত সত্য নয় । কালেরও নিয়ন্ত্রী শক্তি আছে । কালশক্তির প্রভাবেই জগতের উৎপত্তি ও স্থিতি । মহাপ্রলয়ে সেই মহাকালই আবার সমগ্র সৃষ্টিকে গ্রাস করছেন । কিন্তু মনে রাখতে হবে , এমন যে মহাকাল , সেও পরিণামের অধীন ।……” কর্মই উপাসনা

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন