khaleda zia

ওয়েবডেস্ক:  আদালতের রায়ে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। সেই ঘটনার এক দিন না কাটতেই তাঁর দল বাংলাদেশ ন্যাশানালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ঘিরে শুরু হয়ে হয়েছে জোর জল্পনা। তা হলে কি চেয়ারপার্সনের অনুপস্থিতিতে এ বার ভাঙন ধরতে চলেছে বিএনপিতে? কেন আচমকা এমন প্রশ্ন উঠছে?

১৯৯১ সালে প্রথমবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশের দায়িত্ব বর্তায় জিয়ার হাতে। শেষবার ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত তিনি পালন করেন প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব। বরাবরই তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখা গিয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ফলে জিয়ার জেলযাত্রায় হয়তো যে বা যাঁরা সব থেকে বেশি খুশি হয়েছেন, সেই তালিকায় রয়েছে শেখ হাসিনা বা তাঁর দল আওয়ামি লিগ। কিন্তু এখানেই থেমে নেই সেই তালিকা। বিএনপি-র অন্দরের খবর, জিয়ার দলেরই একাংশ নাকি এই ঘটনায় আনন্দিত না হলেও সাময়িক স্বস্তি বোধ করছে। কেন?

প্রথমত, বিএনপি-র একটি অংশ মনে করে, যে সরকারি ‘এতিম’ তহবিলের আর্থিক নয়ছয়ে মুখ্য ভূমিকার জন্য জিয়ার কারাবাস হয়েছে, তার দায় একান্ত ভাবে দলনেত্রীর। কারণ তিনি ওই অর্থ বাংলাদেশের কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্বহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করে সেখানে চালান করেন। তিনি যে দলীয় স্বার্থে এই প্রতারণামূলক কাজটি করেছিলেন তার কোনো যুক্তি নেই। ফলে অযথা তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য এখন দলকে অপদস্থ হতে হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ‘তিক্ত’ অভিজ্ঞতার কথা ভুলতে পারেননি বিএনএপি-র ওই জিয়া-বিরোধী অংশ। ওই নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন জিয়া। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেই পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন হাসিনা। তা সম্ভব হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩ (২) (ক) ধারা অনুযায়ী। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি। ফলে প্রকাশ্যে মুখে কিছু না বললেও তাঁরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ওই অংশটিই এখন বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে সমান্তরাল বিরোধী দল গঠনের চিন্তাভাবনা করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরেছেন বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here