শৈবাল বিশ্বাস

আগামী জুলাই মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ’৯৯-এর বদলা নেওয়ার জন্য রীতিমতো গুছিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।

১৯৯৯ সালে যে ভাবে এনডিএ সরকারকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তারই বদলা নেবে তারা। কী ভাবে? তা হলে অতীত ইতিহাসটা একটু ফিরে দেখা যাক।

১৯৯৬ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার টিঁকে ছিল মাত্র কয়েক দিন। তার পর ক্ষমতায় আসে দেবগৌড়ার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার। কংগ্রেস সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ায় ১৯৯৮ সালে অকাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে বার ফের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বাজপেয়ী। আঁটঘাট বেঁধে সহযোগী কয়েকটি দলকে নিয়ে এনডিএ সরকার গঠন করে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু বছর খানেক যেতেই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় এআইডিএমকে। ফলে সংসদে আস্থাভোট নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে।

১৯৯৮ সালেই দ্বাদশ লোকসভা নির্বাচনে ওড়িশার কোরাপুট কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জেতেন গিরিধারী গোমাঙ্গ। পরে সাংসদ থাকা অবস্থাতেই তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই লোকসভায় আস্থাভোট নেওয়া হয়। তখনও তিনি সাংসদপদ থেকে পদত্যাগ করেননি। সেই সুযোগে কংগ্রেস ভুবনেশ্বর থেকে তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ভোট দেওয়ায়। সে বার ২৬৯-২৭০ ভোটে অর্থাৎ মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে বাজপেয়ী হেরে যান এবং ১৩ মাসের সরকার পড়ে যায়। বিজেপি অভিযোগ করে অনৈতিক ভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে ভোট দেওয়ানো হয়েছে। কিন্তু অভিযোগই সার। আইনত সেই ভোট ছিল গ্রাহ্য।

চলে আসা যাক বর্তমান প্রেক্ষাপটে।

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত এনডিএ-র প্রায় ২৫ হাজার অঙ্কের ভোট কম রয়েছে। বিজু জনতা দল, এআইডিএমকে বা অন্য কয়েকটি দলকে বুঝিয়ে সেই ভোট জোগাড় করা বিজেপির পক্ষে অসম্ভব হবে না। তবু বিজেপি হাতের তাস হিসাবে তুলে রেখেছে সেই গোমাঙ্গ-ব্রহ্মাস্ত্র।

আসলে বিজেপির দুই মুখ্যমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ এবং গোয়ার মনোহর পররিকর এখনও লোকসভার সদস্য। কোনো নির্বাচন না করে বা বিধান পরিষদের মনোনয়ন না পেয়ে তাঁরা ৬ মাস পর্যন্ত স্বচ্ছন্দে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন। ইতিমধ্যে জুলাই মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এসে পড়বে। বিজেপি চাইছে প্রয়োজন পড়ুক বা না পড়ুক ওই দু’ জন যেন অতি অবশ্যই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় ভোট দিতে যান। লোকসভায় সাংসদদের ভোটের মূল্য ৭০৮ অঙ্ক। যেখানে বিধায়কদের ভোটের অঙ্ক অনেক কম (উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে মাত্র ২০৮ অঙ্ক)। এই সুযোগ একেবারেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিজেপি। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হল। প্রথমত, ভোটের অঙ্ক অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব হল পাশাপাশি ১৯৯৯-এর এনডিএ সরকার ফেলে দেওয়ার উপযুক্ত বদলাও নেওয়া হল। শুধু বদলা নেওয়াই নয়, একই অস্ত্রে বিপক্ষকে ঘায়েল করার এই সুযোগ পেয়ে বিজেপি বেশ কিছুটা রাজনৈতিক শ্লাঘাও অর্জন করতে চায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here