খবর অনলাইন: ‘ব্রেক্সিট’ই হল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে দিচ্ছে গ্রেট ব্রিটেন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ ‘ইইউ’ ছাড়ার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ৪৩ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হতে চলল ব্রিটেনের। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও জানিয়ে দিলেন, অক্টোবরেই তিনি ইস্তফা দেবেন।

এই গণভোটের রায়কে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে শেয়ার বাজারে। ডলারের সাপেক্ষে পাউন্ডের দাম এত পড়েছে যা ১৯৮৫-এর পরে কখনও হয়নি। লেবার পার্টির নেতা জন ম্যাকডোনেল বলেছেন, পাউন্ডের পতন রোখার জন্য ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।

ফল ঘোষণার পরে পরেই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক বিবৃতিতে বলেন, অক্টোবরেই তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেবেন। তার আগে সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলিতে দেশের স্বার্থে তিনি শক্ত হাতে হাল ধরার চেষ্টা করবেন। ক্যামেরন চান, এ বার নতুন নেতৃত্ব দেশের হাল ধরুক। উল্লেখ্য, ক্যামেরন চেয়েছিলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকুক। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা, না-থাকা নিয়ে লেবার ও কনজারভেটিভ,  ব্রিটেনের দু’টি প্রধান দলই দ্বিধাবিভক্ত। ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ রায় প্রকাশের এই দিনটিকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে বর্ণনা করেছেন। আর যাঁরা ‘ইইউ’-তে থাকার পক্ষে ছিলেন তাঁরা একে ‘বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।

লড়াইটা অবশ্য হয়েছে খুব হাড্ডাহাড্ডি। ‘ইইউ’ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়েছে ৫১.৯%, মোট হিসেবে ১৭,৪১০,৭৪২টি ভোট, আর বিপক্ষে ৪৮.১%, মোট হিসেবে ১৬,১৪১,২৪১টি ভোট। ১৯৯২-এর পরে ব্রিটেনে যতগুলি নির্বাচন হয়েছে সে সব নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন এই গণভোটে। ৩ কোটিরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, শতাংশের হিসেবে ৭১.৮%। ভোট গণনায় দেখা গিয়েছে, লন্ডন বাদে ইংল্যান্ডের বাকি অংশ আর ওয়েলস ‘ব্রেক্সিট’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, কিন্তু স্কটল্যান্ড আর উত্তর আয়ারল্যান্ড রায় দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে। মজার কথা হল, লন্ডনের অধিবাসীরাও কিন্তু অধিকাংশই ‘ইইউ’ না ছাড়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here