এক বছরে ৪১,০০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

নয়াদিল্লি: ২০২১-২২ আর্থিক বছরে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে আর্থিক জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকা! তবে মন্দের ভালো, আগের বছরের তুলনায় এই পরিমাণ কমেছে প্রায় ১.০৫ লক্ষ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস ব্যাঙ্ক প্রতারণা

সরকারি তথ্য অনুসারে, বেসরকারি এবং সরকারি ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলিতে আর্থিক প্রতারণার (Banking Frauds) মামলার সংখ্যা ২০২১-২২ আর্থিক বছরে নেমে এসেছে ১১৮-য়। যা আগের বছর ছিল ২৬৫টি। অর্থাৎ, উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে এই সংখ্যা।

তথ্য় অনুযায়ী, পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের (PSBs) ক্ষেত্রে, আগের বারের ১৬৭ থেকে কমে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির সংখ্যা ঠেকেছে ৮০-তে। যখন বেসরকারি ক্ষেত্রের ঋণদাতাদের ক্ষেত্রে, এই ধরনের মামলার সংখ্যা ৯৮ থেকে কমে ৩৮-এ দাঁড়িয়েছে।

আর্থিক পরিমাণের দিক থেকে সরকারি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৬৫,৯০০ কোটি টাকা থেকে ২৮,০০০ কোটিতে নেমে এসেছে। অন্য দিকে, বেসরকারি ক্ষেত্রের ব্যাঙ্কগুলিতে ৩৯,০০০ কোটি টাকা থেকে ১৩,০০০ কোটিতে নেমেছে।

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পদক্ষেপ

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা (EWS) পরিকাঠামোর কার্যকারিতা উন্নত করা, জালিয়াতি মোকাবিলা এবং প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য ডেটা বিশ্লেষণ বৃদ্ধি করা এবং ডেডিকেটেড মার্কেট ইন্টেলিজেন্স (MI) ইউনিট চালু করা-সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

২০২১-২২ আর্থিক বছরের মধ্যে, ব্যাঙ্ক তথ্য প্রযুক্তি প্রাইভেট লিমিটেড (ReBIT)-এর সহযোগিতায় তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিতে ইডব্লিউএস পরিকাঠামোর বাস্তবায়নের উপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছে আরবিআই।

এ ছাড়াও মেশিন লার্নিং (ML) অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নির্বাচিত ব্যাঙ্কগুলিতে ইডব্লিউএস-এর কার্যকারিতা মূল্যায়নও করা হয়েছিল।

সবচেয়ে বড়ো ব্যাঙ্ক জালিয়াতি

চলচি বছরের শুরুতেই দেশের সবচেয়ে বড়ো ব্যাঙ্ক প্রতারণার রিপোর্ট করে বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এসবিআই (SBI)। জানানো হয়, মোট ২২,৮৪২ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে জড়িত এবিজি শিপইয়ার্ড (ABG Shipyard) এবং সহযোগীরা। যা নীরব মোদী এবং মেহুল চোকসির প্রতারণার চেয়েও অনেক বড়ো। তাঁরা পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) থেকে ১৪,০০০ কোটি টাকার প্রতারণা চালান।

গত জুন মাসে প্রকাশ্যে এসেছে দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ হেরফের করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দেওয়ান হাউজিং ফাইন্যান্স লিমিটেড (DHFL) এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দেওয়ান হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন লিমিটেড এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলি ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে প্রতারণা করেছে। ১৭টি ব্যাঙ্কের একটি কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিচ্ছে, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩৪,৬১৫ কোটি টাকার কারসাজি হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়তে পারেন:

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যে, শনি-রবিতে মৃত অন্তত ৭

রাজ্যে এক দিনে ১,৮০০ টপকে গেল সংক্রমণ, তবে কি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত

জম্মুতে ধৃত লস্কর জঙ্গি ছিলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান? জোর বিতর্ক

খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি, জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে মন্তব্য অমিত শাহের

দুধ দিচ্ছে চার মাসের বাছুর! তাজ্জব তুফানগঞ্জ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন