সমুদ্র বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলির দ্রুত নিষ্পত্তিতে বেঙ্গল চেম্বারের মধ্যস্থতা কেন্দ্র

0
bcc

ওয়েবডেস্ক: শিপিং সেক্টর ভারতের বাণিজ্য ও বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৮ সালে দেশের প্রধান বন্দরগুলির মাধ্যমে ৬৭৯.৩৬ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করা হয়েছে। পরের বছর তার পরিমাণ বেড়েছে ২.৯০ শতাংশ, হয়েছে ৬৯৯.০৫ মিলিয়ন টন। ছোট বন্দরগুলিতে ২০১৮ সালে ৪৯১.৯৫ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করা হয়েছিল এবং ২০০৭-১৮ মধ্যবর্তী সময়কালে বৃদ্ধির হার ৯.২ শতাংশ।

সমুদ্রপথে মালবাহী জাহাজ, কন্টেনার জাহাজ, ট্যাঙ্কারের সাহায্যে মাল পরিবহণের কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এই ব্যবসার নিয়মকানুন ভাল করে জেনে রাখা দরকার এবং সেগুলি মেনে চলাও দরকার। সাম্প্রতিককালে জলপথে যে সব বিষয়গুলি খবরের শিরোনামে উঠে আসে সেগুলি সুরাহা করার লক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন শিপিং আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আরও আলোচনা করতে দ্য বেঙ্গল চেম্বার এক সভার আয়োজন করেছিল গত ২৭ জুলাই, যেখানে এই কথা উঠে আসে যে দ্য বেঙ্গল চেম্বার, ভিক্টর মোজেস অ্যান্ড কোম্পানির সহায়তায় একটি মধ্যস্থতা করার লক্ষ্যে কেন্দ্র চালু করছে।

২০১৮ সালের মে মাসে ভারতের জাহাজ মন্ত্রক ক্যাবেটাজ নিয়মে কিছু বদল এনেছে যাতে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে আর ক্যাবোটেজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ লাইসেন্স পাওয়ার প্রয়োজন না হয়। সেই ইস্যুতে ভারতের শিপিং কর্পোরেশন এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং শিপিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান এস হাজারা বলেন যে, “ক্যাবোটেজ বিধিগুলি শিথিল করা হলেও ভারতীয় জাতীয় নৌপরিবহণ মালিকদের সংগঠন (আইএনএসএ) খুব অসন্তুষ্ট ।কারণ তারা মনে করছে, এর ফলে বেসরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি বন্দরগুলি উপকৃত হবে এবং তারা কর আরোপের কোনও স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করবে না । সুতরাং আগে যেমন কর আদায়ের ক্ষেত্রে স্তরের সমতা ছিল তা বজায় রাখা উচিত ছিল”।

বেঙ্গল চেম্বারের আইন কমিটির চেয়ারম্যান এবং ভিক্টর মোজেস সংস্থার সলিসিটার এবং সিনিয়র পার্টনার ডি এন মিত্র বলেন, “ভারতের জাহাজ সংক্রান্ত আইনের ওপর ব্রিটিশ নিয়মকানুনের প্রচুর প্রভাব ছিল। পরবর্তী কালে সংসদে তার অনেকটাই বদল করা হয়েছে। এ দেশের সমুদ্র–আইন এবং তার পরিবর্তন বিশেষ করে আদালতের বিচারক্ষমতার ইতিহাস খুবই আকর্ষণীয়। তবে সেগুলির প্রভাব সম্পর্কে আরও ভালো করে জেনে রাখা ভালো। বিশেষ করে যাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের তো বটেই। প্রযোজ্য আইন এবং তাদের প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দরকার। কারণ সেটা বাণিজ্যিক কাজ এবং সে সংক্রান্ত কোনো সমস্যা সমাধানে তা অনেক সহজ হয়। দেশের জাহাজ ব্যবসায় অনেক বদল এসেছে। তাই নতুন নিয়ম জানা থাকলে আইনি অধিকার এবং আইনি জটিলতা তৈরি হলে কাটানো সহজতর হয়”।

“এই জাতীয় প্লাটফর্ম থাকার উদ্দেশ্য হল ভারতে শিপিং আইনগুলির যে সব বদল হয়েছে তা কিভাবে কর্মপ্রসূ করা যায় তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া। মধ্যস্থতা কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা আশা করতে পারি যে, শিপিং, লজিস্টিকস, চারটারিং, কনটেনার মালিক এবং পণ্য আমদানি, রফতানিকারক, সিএসএফ অপারেটর, বন্দর কর্তা, শিপিং এজেন্ট, উদ্যোক্তা যারা সকলে উপকৃত হবে”, জানালেন বেঙ্গল চেম্বারের শিপিং কমিটির চেয়ারপার্সন ক্যাপ্টেন এস বি মজুমদার।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রথম লোকপাল, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পিনাকীচন্দ্র ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here