RBI
আরবিআই। প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: পাইকারি এবং খুচরো বিভাগের জন্য ধাপে ধাপে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) বাস্তবায়নের কাজ চালাচ্ছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। বুধবার এক আধিকারিক জানান, ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের বাজেট সিবিডিসি চালু করার ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।

কী বলছে আরবিআই?

আরবিআই-এর ফিনটেক বিভাগের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অজয়কুমার চৌধুরি বলেন, ফিনান্স বিল ২০২২ পাস করার মাধ্যমেই আরবিআই আইন, ১৯৩৪-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই বিলটি পাস হওয়ার ফলে সিবিডিসি জারি করার পাইলট পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে আরবিআই। ফলে সিবিডিসি জারি করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে।

ফিকির (FICCI) একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন অজয়কুমার। তিনি বলেন, “পাইকারি এবং খুচরো, উভয় বিভাগেই পর্যায়ক্রমে সিবিডিসি বাস্তবায়নে কাজ করছে আরবিআই”।

সিবিডিসি ভার্চুয়াল মুদ্রা নয়!

তবে এখনও পর্যন্ত কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrency) চালু করার পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রের। এ ব্যাপারে কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে, বর্তমান কাগজের মুদ্রা হল আরবিআই-এর নিয়মের অধীনে আইনি দরপত্র। যা আরবিআই আইন, ১৯৯৪-র বিধান অনুযায়ী জারি করা হয়। আরবিআই কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি জারি করে না। কাগজের মুদ্রার ডিজিটাল সংস্করণকেই বলা হচ্ছে সিবিডিসি।

চলতি বছরের বাজেটের পর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি সংসদে জানিয়েছিলেন, বর্তমানে সিবিডিসি চালু করার জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে আরবিআই। এর ব্যবহারের দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যা সামান্য বা কোনো বাধা ছাড়াই বাস্তবায়িত হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, সিবিডিসি চালু হলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের খরচ কমার মতো সুবিধা মিলবে।

সিবিডিসি কী?

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি বা সিবিডিসি হবে এক ধরনের ভার্চুয়াল কারেন্সি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতোই সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এই কারেন্সি জারি করবে। এক কথায়, কাগজের নোটের মুদ্রার ডিজিটাল সংস্করণ হবে এই সিবিডিসি।

সিবিডিসির এই ধারণা দিয়েছিলেন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং নোবেল বিজয়ী জেমস তাসিন। তিনি গত শতাব্দীর আটের দশকেই পেমেন্টের এই ডিজিটাল আকারের কথা বলেছিলেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির থেকে কতটা আলাদা?

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ভার্চুয়াল মুদ্রা এনক্রিপ্ট করা থাকে। এটি বিকেন্দ্রীভূত, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিপরীতে, সিবিডিসি হল সরকার বা তার এজেন্সি দ্বারা জারি করা কাগজের মুদ্রার একটি ভার্চুয়াল রূপ। সিবিডিসির নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হাতে। এই আইনি টেন্ডার-সহ ই-কারেন্সি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। অন্য দিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিজিটাল ওয়ালেটে রাখা হয়।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতে, দেশে মুদ্রা এবং জিডিপির অনুপাত বেশি। এই অনুপাত বিবেচনায় রেখেই সিবিডিসি আনা যেতে পারে। বড়ো লেনদেনে নোটের জায়গায় সিবিডিসি-র ব্যবহার মুদ্রণ, পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিতরণের খরচ কমিয়ে দেবে। সবমিলিয়ে, নগদের উপর মানুষের নির্ভরতা কমাতে পারে এই সরকারি ই-কারেন্সি।

আরও পড়তে পারেন:

২১ জুলাই ২০ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে, দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২১ জুলাই সভার অনুমতি পেল বিজেপি, বেশ কিছু শর্ত চাপাল হাইকোর্ট

সুপ্রিম স্বস্তি পেলেন মহম্মদ জুবের, সব মামলায় জামিন

মুসেওয়ালা খুনে অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াই, হত দুজনেই

এক মন্ত্রীর ইস্তফা, দিল্লিতে শাহ-নড্ডার শরণাপন্ন আরেক মন্ত্রী, শোরগোল যোগী-রাজ্যে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন